Inqilab Logo

রোববার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৯ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

গর্ভপাত সংক্রান্ত পাঁচটি বিধান কেন বেআইনি নয় : হাইকোর্টের রুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৯ আগস্ট, ২০২০, ১২:০২ এএম

বৃটিশ আমলের দন্ডবিধির ৩১২ থেকে ৩১৬ বিধান কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- এই মর্মে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এক রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বিচারপতি তারিক-উল-হাকিম এবং বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের ভার্চুয়াল ডিভিশন বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রার জেনারেলসহ সংশ্লিষ্ট চার বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

দন্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ৫টি ধারা গর্ভপাত সংক্রান্ত। ৩১২ নম্বর বিধানে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীলোকের গর্ভপাত করায় এবং যদি সেই গর্ভপাত সরল বিশ্বাসে উক্ত স্ত্রীলোকের জীবন বাঁচাবার উদ্দেশে না করা হয়ে থাকে, তবে সে ব্যক্তি তিন বছর পর্যন্ত যেকোনও মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদন্ডে অথবা অর্থদন্ডে অথবা উভয়বিধ দন্ডেই দন্ডিত হবেন। যদি স্ত্রীলোকটি শিশুর বিচরণ অনুভব করে, তবে সে ব্যক্তি ৭ বছর পর্যন্ত যেকোনও মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হবেন। তদুপরি অর্থদন্ডেও দন্ডিত হবেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সৈয়দা নাসরিন। সরকারপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাস গুপ্ত।

সৈয়দা নাসরিন বলেন, মূলত ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং পছন্দ নিশ্চিত করার জন্য এই রিটটি দায়ের করেছি। বাস্তবতা থেকে দেখলে মামলার ভয়ে অনেক ডাক্তার-নার্স গর্ভপাত করাতে চান না। তাই প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার-নার্সদের দিয়ে গর্ভপাত করানো সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে স্থানীয় ডাক্তার-নার্সদের বাসায় নিয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীর গর্ভপাত করান অনেকে। এর ফলে গর্ভপাতটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না। পরবর্তীতে সেটি অন্যান্য রোগের কারণ হয়ে ওঠে। এ কারণে নারীদের ক্যান্সার হওয়ার বেশি ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গর্ভপাতের সুযোগ না থাকায় পথশিশু ও এতিখানায় শিশুদের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ধারাগুলোতে ধর্ষণের শিকার নারীর গর্ভপাতের ক্ষেত্রে কোনও বিশেষ সুযোগ রাখা হয়নি। সংসারে অনেকের জীবনে অপ্রত্যাশিতভাবে বাচ্চার জন্ম হচ্ছে। মূলত ওই সময়ে সন্তান নেয়ার জন্য প্রস্তুতি না থাকা সত্তে¡ও আইনের বাঁধার কারণে তাদের বাচ্চার জন্ম দিতে হচ্ছে। তাই আইনের বিধানগুলো চ্যালেঞ্জ করে এ রিট পিটিশন দায়ের করেছি। এর আগে একই বিষয়ে সরকারকে গত ৩১ মে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। কিন্তু সেই নোটিশের জবাব না পেয়ে রিটটি করা হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: হাইকোর্টের রুল


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ