Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭, ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

৬১২ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ত্রুটি সংশোধনে ২টি ইউলুপ ও ৩টি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৯ আগস্ট, ২০২০, ১২:০২ এএম

ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন মহাসড়কের ত্রুটি সংশোধনে ফের প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের এ প্রকল্পের আওতায় নতুন করে দুটি ইউলুপ ও তিনটি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬১২ কোটি টাকা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয় ২০১৭ সালের জুনে। তবে ২০১৫ সালেই এ মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়া বাজারে লেভেলক্রসিংয়ের ওপর নির্মিত ফ্লাইওভারে কারিগরি ত্রুটি শনাক্ত করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। সে সময় ফ্লাইওভারটির ত্রুটি সংশোধনে নতুন প্রকল্প গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে পদুয়া বাজারে দুটি ইউলুপ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। এর বাইরে মহাসড়কটিতে দুর্ঘটনা কমাতে পদুয়া বাজার, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথে তিনটি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে।

যদিও ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে তিন হাজার ৮১৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। আবার এ মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণে গত বছর নেওয়া হয়েছে ৭৯৩ কোটি ১৪ লাখ টাকার আরেকটি প্রকল্প। অর্থাৎ এ মহাসড়কের পেছনে ব্যয় হয়েছে চার হাজার ৬১০ কোটি সাত লাখ টাকা।

সওজ সূত্র জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সবচেয়ে ব্যস্ততম মোড় হলো বিশ্বরোড। এ মোড় দিয়ে কুমিল্লা শহরে প্রবেশ করে যানবাহন। আবার চাঁদপুরে যাওয়ার জন্য এ মোড় অতিক্রম করতে হয়। চট্টগ্রামগামী যানবাহনও এ মোড় দিয়েই অগ্রসর হয়। এতে নিয়মিতই কুমিল্লা বিশ্বরোড মোড়ে যানজট হয়। আবার বাজারও (পদুয়া বাজার) রয়েছে ওই এলাকায়। ওই পদুয়া বাজার বিশ্বরোড থেকে মাত্র ৫৫০ মিটার দূরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রয়েছে লেভেলক্রসিং। এটি নির্বিঘ্নে পার হতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেন প্রকল্পের আওতায় একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে। তবে নির্মাণ শেষের আগেই পদুয়া বাজার ফ্লাইওভারটির নকশা ত্রুটির বিষয়ে চিহ্নিত করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।

২০১৫ সালের মে মাসে এ-সংক্রান্ত এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে। তাতে বলা হয়েছিল, বিশ্বরোড লেভেলক্রসিংয়ে যানবাহন যাতে আটকে না থাকে সেজন্য চার লেন প্রকল্পের আওতায় ৩৪৪ মিটার ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে এটি বিশ্বরোডের মাত্র ৯০ মিটার আগে শেষ হবে। এতে লেভেলক্রসিং পেরিয়ে ফ্লাইওভারের যানবাহনকে বিশ্বরোডের মোড়ে যানজটে পড়তে হবে। এক্ষেত্রে বিশ্বরোড মোড়ের পর নূরজাহান হোটেল পেরিয়ে ফ্লাইওভারটি শেষ হলে যানবাহন সহজেই বিশ্বরোডের যানজট এড়িয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচল করতে পারত। এজন্য ফ্লাইওভারটির দৈর্ঘ্য মাত্র ২০০ মিটার বাড়ালেই চলত।

প্রকল্পটির মূল্যায়ন কমিটির একজন সদস্য বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন মহাসড়কের অন্যান্য বাজারের কাছে এ ধরনের লেভেলক্রসিং নেই। আবার বিশ্বরোডের মতো এমন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ও নেই। তাই নকশা প্রণয়নের সময়ই বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত ছিল। তিনি বলেন, এ ধরনের ত্রুটিপূর্ণ একাধিক ফ্লাইওভার ঢাকা শহরেও রয়েছে। তেজগাঁও-বিজয় সরণি, মগবাজার-মৌচাক বা মহাখালী ফ্লাইওভারেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে। এগুলো কিছুটা স¤প্রসারণ করে মোড় অতিক্রম করার ব্যবস্থা করলে নেমেই যানবাহনকে যানজটে পড়তে হতো না।

উল্লেখ্য, নতুন দুটি ইউ-লুপ ও তিনটি আন্ডারপাস নির্মাণের ক্ষেত্রে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে বুয়েট। স¤প্রতি ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এগুলো নির্মাণের বিস্তারিত সুবিধা তুলে ধরা হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মহাসড়ক

২৬ অক্টোবর, ২০২০
১৯ অক্টোবর, ২০২০
৪ অক্টোবর, ২০২০
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০
৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন