Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭, ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

আমরা জিয়াকে ছোট করছি না মোস্তাক সরকারের সেনাপতি কে হয়েছিলেন- ওবায়দুল কাদের

প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ও নিম্নমানের কাজ বরদাস্ত করা হবে না

বরিশাল ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ১৯ আগস্ট, ২০২০, ২:১৩ পিএম

সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বুধবার দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক, মহাসড়ক এবং বিআরটিসি ও বিআরটিএ’র কার্যক্রমের ওপর এক ভার্চুয়াল পর্যালোচনা সভায় প্রতিটি কাজের গুনগত মান বজায় রাখা সহ সময়মত প্রকল্প সমাপ্তির নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারী বাসভবন থেকে বরিশাল সড়ক জোন এবং ঢাকায় তার মন্ত্রণালয়ের সচিব সহ সড়ক অধিদপ্তর, বিআরটিএ ও বিআরটিসি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে পর্যালোচনা সভায় মন্ত্রী বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করেন। 

সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সড়ক অধিদপ্তরের জনবল বৃদ্ধির বিষয়টি দ্রুততার সাথে সমাধানের কথা স্মরন করিয়ে দেন। মন্ত্রী দ্রুততার সাথে প্রকল্পের কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়ে বলেন, নচেত ব্যায় বেড়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। তিনি কি কারনে প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়, তা সময়মত মন্ত্রনালয়কে অবহিত করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি কারো অবহেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী ব্যহারকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলেন। সড়ক ও সেতুমন্ত্রী বলেন, আমি আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পদক, অতীতে সাংবাদিকতা করেছি। আমার সাথে মাঠ পর্যায়ের সব এলাকার যোগাযোগ আছে। বিভিন্ন সময়ে অনেক অভিযোগ আসে। তিনি বিভিন্ন প্রকল্পে ভ’মি অধিগ্রহনে দীর্ঘসূত্রীতা পরিহারেরও নির্দেশ দেন। সড়ক ও সেতু মন্ত্রী বলেন, ভাল কাজের জন্য পুরস্কৃত করা হবে। এখন যোগ্যতা ও জেষ্ঠতার ভিত্তিতেই পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে।

সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা যোরদার করারও নির্দেশনা প্রদান করে এ কাজে সততা নিশ্চিত করারও তাগিদ দেন। তিনি বলেন কিছু কর্মকর্তা বছর বছর ঢাকায় থাকেবেন তা হবেনা। তিনি স্মরন করিয়ে দিয়ে বলেন, বার বার বলা সত্বেও সড়ক দূর্ঘটনার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বেপরোয়া ড্রাইভিং থামছে না। তিনি বিআরটিসি’কে বাস-ট্রাক সরবারহের কথা স্মরন করিয়ে দিয়ে বলেন, এ প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করতে হবে। সংস্থার অব্যহৃত জমি কিভাবে কাজে লাগান যায় তা ভেবে দেখারও তাগিদ দেন মন্ত্রী ।

সড়ক ও সেতু মšত্রী বলেন, আগামীতে পদ্মা সেতু চালু হলে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে আরো গতি সঞ্চারিত হবে। তিনি ফরিদপুর-বরিশালÑকুয়াকাটা ৪ লেন মহাসড়ক প্রকল্পটির অগ্রগতি নিয়ে হাতাশা ব্যক্ত করে এ কাজ দ্রæত বাস্তবায়নের পর্যায়ে নিয়া যাবারও তাগিদ দেন। পাশাপাশি বরিশাল-ভোলা মহাসড়ক প্রসস্তকরনের কাজটি দ্রæত বাস্তবায়নের কথা বলেন। এসময়ে সড়ক ও সেতু মন্ত্রী বরিশাল-বাউফল সড়ক প্রসস্তকরন কাজের মান নিয়ে অভিযোগের কথাও জানান। তিনি বলেন, বরিশাল সড়ক জোন সহ সারাদেশে শক্তিশালী সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে শেখ হাসিনার সরকার নিরলশভাবে কাজ করছে। তিনি এলক্ষে সংশ্লিষ্ট সকলকে সততা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করারও নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বণ্যায় ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক-মহাসড়ক দ্রæততার সাথে সংস্কারেরও নির্দেশনা দেন মন্ত্রী ।
করোনা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের দেশে এখনো আক্রন্তের তুলনায় মৃত্যুহার কম। তবে এতে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই বলে জানিয়ে মন্ত্র্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গ শুরু হয়েছে। চলমান করোনা ট্রেন কতদুর যাবে তা বলা যাবে না। জীবন-জীবীকার তাগিদে ঘর থেকে বেরহলে তিনি সবাইকে মাস্ক পড়া সহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলারও পরামর্শ দেন।

আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অভিযোগ খন্ডন করে বলেন, আমরা নাকি জিয়াকে ছোট করছি। আমরা জানতে চাই, মোস্তাক সরকারের প্রধান সেনাপতি কে হয়েছিলেন। সংবিধানের ৫ম সংশোধনী কে করেছেন। তিনি বলেন, মুফতি হান্নান তার জবানবন্দীতে ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার মাদদদাতা হিসেবে হাওয়া ভবনের মাস্টার মাইন্ড তারেক জিয়ার নাম বলেছেন। আর ২১ আগষ্টের ঘটনা অন্য দিকে ঘোরাতে সেদিন জজ মিয়ার নাটক সাজান হয়েছিল। ওবায়দুল কাদের বলেন, স্বাধিনতার ঘোষনা দেয়া আর ঘোষনা পাঠ করা এক কথা নয়। তিনি স্মরন করিয়ে দিয়ে বলেন, ইতিহাসের বড় সত্যি হচ্ছে, ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করেনা।

বুধবারের এ ভার্চুয়াল সভায় বরিশাল সড়ক ভবনে সড়ক অধিদপ্তরের বরিশাল সড়ক জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুমীল কুমার সাহা ছাড়াও বরিশাল ও পটুয়াখালী সড়ক সার্কেলের তত্ববধায় প্রকৌশলীদ্বয় এবং বরিশাল সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ছাড়াও বিআরটিএ’র বিভাগীয় উপ-পরিচালক ও বিআরটিসি’র ডিপো ম্যানেজার অংশ নেন।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ওবায়দুল কাদের


আরও
আরও পড়ুন