Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭, ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

গান্ধী পরিবারের বাইরের নেতা দরকার

কংগ্রেস সভাপতি প্রসঙ্গে প্রিয়াঙ্কা

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২০ আগস্ট, ২০২০, ১২:০০ এএম

দলের স্থায়ী কর্ণধার চেয়ে কংগ্রেসের ভেতরের আলোচনায় নতুন ইন্ধন জোগালেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তার মতে, গান্ধী পরিবারের বাইরের কাউকে এ পদে বসানো উচিত। রাহুলও তেমনটাই চান বলে জানিয়ে প্রিয়াঙ্কার মন্তব্য, ভাইয়ের সঙ্গে তিনি ‘সম্পূর্ণ একমত’।

গত লোকসভা ভোটে দলের ভরাডুবির দায় নিয়ে কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন রাহুল। পরবর্তী সভাপতি কে হবেন, তা নিয়ে ওয়ার্কিং কমিটিতে আলোচনার সময় প্রিয়ঙ্কাকেও ওই পদে বসানো উচিত নয় বলে মত প্রকাশ করেন তিনি। কিন্তু কংগ্রেসের অন্দরের টানাপড়েনে নতুন কাউকে সভাপতি নির্বাচিত করা যায়নি। অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে শেষ পর্যন্ত সোনিয়া গান্ধীকেই ফের সভাপতির দায়িত্ব নিতে রাজি করান কংগ্রেস নেতারা। তারপর এক বছর চলে গেছে। নতুন সভাপতি নির্বাচনের ব্যাপারে আর কোনও উদ্যোগ চোখে পড়েনি কংগ্রেসের অন্দরে। যদিও বার বারই দাবি উঠেছে, রাহুলই ফের কংগ্রেসের হাল ধরুন। কিন্তু রাহুল পর্দার পেছন থেকে কংগ্রেসের কাজকর্ম দেখাশোনা করলেও সভাপতি পদের দায়িত্ব নিতে প্রকাশ্যে আগ্রহ দেখাননি।

নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলাপচারিতা নিয়ে ‘ইন্ডিয়া টুমরো’ নামের এক বইয়ে প্রিয়াঙ্কা বলেছেন, ‘পদত্যাগপত্রে হয়তো নয়, কিন্তু অন্যত্র রাহুল বলেছিলেন, আমাদের পরিবারের কারও কংগ্রেস সভাপতি হওয়া উচিত নয়। আমি এ বিষয়ে ওর সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত’। তার মন্তব্য, ‘আমার মনে হয়, দলেরও এবার নিজের রাস্তা খুঁজে নেয়া উচিত’।

প্রিয়াঙ্কার এ মন্তব্যে গান্ধী পরিবারের পরিকল্পনা নিয়ে কংগ্রেসের অন্দরে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতৃত্বে ‘শূন্যতা’ নিয়ে ইদানীং সরব হয়েছেন দলের একাধিক নেতা। তাদের বক্তব্য, স্থায়ী সভাপতি না-থাকায় দল দিশাহীনতায় ভুগছে। এ অবস্থা কাটাতে হয় রাহুল দায়িত্ব নিন, না হয় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সভাপতি নির্বাচন হোক।

প্রিয়াঙ্কা জানিয়েছেন, গান্ধী পরিবারের বাইরের কেউ তার ‘বস’ হলেও তার কোনও সমস্যা হবে না। কংগ্রেস সভাপতি তাকে উত্তরপ্রদেশের বদলে আন্দামানে গিয়ে কাজ করতে বললেও তিনি তা করবেন। প্রিয়াঙ্কা বলেছেন, কংগ্রেসের মতাদর্শ মানুষের সামনে তুলে ধরায় ঘাটতি রয়েছে। দলের মধ্যে কিছু নেতার অবস্থান বদলেও সমস্যা তৈরি হয়েছে।

দলের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে কংগ্রেসের অধিবেশনের দরকার বলেও মত প্রিয়াঙ্কার। একই বইতে রাহুলও বলেছেন, গত লোকসভা ভোটে পরাজয়কে কংগ্রেসের মতাদর্শের হার বলে তিনি মনে করেন না। এটি বিজেপি-সঙ্ঘের প্রচারযন্ত্রের জয়।

প্রিয়াঙ্কার মতে, রাহুল তার শুধু দাদা নন, প্রিয় বন্ধুও। কিন্তু তাদের মধ্যে ফারাক হলো, রাহুল ১৫ বছর পরের কথাও ভেবে রাখেন। তার স্বামী রবার্টের বিরুদ্ধে আর্থিক তসরুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে প্রিয়াঙ্কা জানিয়েছেন, সাত বছর আগে প্রথম অভিযোগ ওঠার পরেই তিনি প্রথমে তার ছেলের হোস্টেলে গিয়ে প্রতিটি পয়সার হিসেব দেখিয়ে আসেন। ছেলের বয়স তখন ১৩ বছর। বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগে তার সমস্যা হয়েছিল। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস, এনডিটিভি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ