Inqilab Logo

ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭, ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

ভারী বর্ষণের সাথে ফুসে ওঠা সাগরের জোয়ারে দক্ষিণাঞ্চল সয়লাব

সাগর উজানের বন্যার পানি গ্রহণ করছে না

বরিশাল ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ২০ আগস্ট, ২০২০, ৫:৫৭ পিএম

ভাদ্রের বড় অমাবস্যায় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার বয়ে আনা বৃষ্টিপাতের সাথে ফুসে ওঠা সাগরের জোয়ার আর উজনের ঢলে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল সয়লাব হয়ে গেছে। বুধবার থেকে এ দূর্যোগ শুরু হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের সবগুলো নদ-নদী দু কূল ছাপিয়ে বিপদ সীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। উপক’লভাগে মাঝারী থেকে ভারী বর্ষনের সাথে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩Ñ৫ ফুট উচ্চতার জোয়ারে জনপদের পর জনপদ প্লাবিত হয়ে গেছে। স্বাভাবিক জনজীবন অনেকটাই বিপর্যস্ত। বরিশাল মহানগরীর প্রায় ৫০ ভাগ এলাকা ইতোমধ্যে জোয়ার আর বৃষ্টির পানিতে সয়লাব। সাগর মসাঝারী মাত্রায় উত্তাল রয়েছে। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ভারী গর্জনের সাথে ৫Ñ৭ ফুট উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়ছে।
দক্ষিণাঞ্চলের ৬টি জেলা সহ সমগ্র উপকূলভাগই ফুসে ওঠা সাগরের জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ফুসে ওঠা সাগর উজানের বণ্যার ঢলের পানি গ্রহন করছে না। ফলে উজান থেকে নেমে আসা বণ্যার পানির সাথে মাঝারী থেকে ভারী বর্ষনে দক্ষিণাঞ্চল যুড়ে প্লাবনের আশংকা আরো বাড়ছে। বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলে সবগুলো নদী বন্দরকে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ফলে অনধীক ৬৫ ফুট দৈর্ঘের সব নৌযানের চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতের আওতায় রাখা হয়েছে। সাগরে মাছ ধরারত সব নৌকা ও ট্রলারকে উপক’লের কাছকাছি নিরপাদ ও সাবধানে চলাচল করতে বলেছে আবহাওয়া বিভাগ।
একদিকে সাগরের জোয়ার, অপরদিকে উজানের ঢলের সাথে ভাদ্রের অমাবশ্যার প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌশুমী বায়ুর বয়ে আনা মাঝারী থেকে ভারি বর্ষনে দক্ষিণাঞ্চল সহ উপক’লভাগে চরম প্রকৃতিক বিপর্যয় শুরু হয়েছে। বৃষ্টি মাথায় করে দক্ষিণÑপশ্চিম মৌশুমী বায়ু সারা দেশে সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার পূর্ববর্তি ২৪ ঘন্টায় বরিশালে ২১ মিলিমিটার, পটুয়াখালীতে ২২ মিলিমিটার এবং কুয়াকাটা সংলগ্ন কলাপাড়াতে ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত আরো ৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বরিশালে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে মাঝারী ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষনের সম্ভবনার কথাও বলেছে আবহাওয়া বিভাগ। শুক্রবার সকালের পরবর্তি ৪৮ ঘন্টায় আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য কোন পরিবর্তনের সম্ভবনা নেই বলেও জানান হয়েছে। বরিশাল মহানগরীর সবগুলো বস্তি ২-৩ ফুট পানির তলায়। হাজার হাজার বস্তিবাসির দূর্ভোগ সব বর্ণনার বাইরে।
এ প্রাকৃতিক দূর্যোগে উঠতি আউশ ধান ছাড়াও আমন বীজতলা সহ শাক-সবজির ক্ষতির আশংকায় কৃষকের দুঃশ্চিন্তা বাড়ছে। বিদায়ী খরিপ-১ মৌশুমে দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় আড়াই লাখ হেক্টর জমিতে আউশের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্য রয়েছে ৬ লক্ষাধীক টন চাল। ইতোমধ্যে ৫০ভাগ জমির ধানকাটা হলেও বাকি অর্ধেক গত দু দিনের বর্ষন আর জোয়ারের পানির তলায়। অপরদিকে দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান দানাদার খাদ্য ফসল আমন আবাদের লক্ষ রয়েছে প্রায় সোয়া ৬ লাখ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ ১৬ লাখ ৬৩ হাজার টন। কিন্তু ভাদ্রের ভরা রোপন মৌশুমে বীজতলা সহ আবাদকৃত প্রায় দেড় লাখ হেক্টর জমির রোপা আমনের পুরোটাই পানির তলায় চলে গেছে।
আবহাওয়া বিভাগের মতে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ এলকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি বর্তমানে ভারতের উড়িশ্যা ও পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে অবস্থান করছে। মৌসুমী বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের কয়েকটি রজ্য হয়ে এর কেন্দ্র বাংলাদেশের মধ্যঞ্চল থেকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। অপর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত।
ভাদ্রের অমাবশ্যায় ভর করে বর্ষনের সাথে ফুসে ওঠা সাগরের পানিতে উপক’লের ছোট বড় শতাধীক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সহ পুরো চরাঞ্চলই ৫Ñ৬ ফুট এখন পানির তলায় । বিকেল ৫টায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উত্তর বঙ্গোপসাগর থেকে মাঝারী থেকে ঘন কালো মেঘ উপক’লভাগ থেকে দক্ষিণাঞ্চল হয়ে উত্তরে ধেয়ে আসছিল।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বন্যা পরিস্থিতি


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ