Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭, ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

করোনা রোধে রাখাইনে মানুষদের ঘর হতে বের হতে দিচ্ছে না সেনাবাহিনী

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২১ আগস্ট, ২০২০, ৩:৪৬ পিএম

মিয়ানমারে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) বিস্তার ঠেকাতে মাঠে নেমে 'যুদ্ধাপরাধে' জড়িয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এ এক সাক্ষাৎকারে এমনই অভিযোগ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংহি লি।

তিনি বলেন, পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী শত শত বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। মানুষকে গ্রেফতার এবং নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা শিরশ্চ্ছেদ করা অনেক মৃতদেহ পেয়েছি।

মিয়ানমারের সেনাদের এই নিপীড়নকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ এবং যুদ্ধাপরাধ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এগুলো অত্যন্ত জঘন্য কর্মকান্ড এবং আন্তর্জাতিক আইনে গুরুতর অপরাধ। লি’র এ অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে সিএনএন মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো প্রতিক্রিয়া পায়নি।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক এ বিশেষ দূত বলেন, করোনাভাইরাস মহামারী ঠেকাতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ক্ষমতা পেয়েছে।
দেশটির সেনাবাহিনী সংক্রমণ রোধে দেশটির রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিত্বে কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘর থেকে বের হতে দিচ্ছে না। মিয়ানমার টাইমসের সূত্র এ খবর দিয়েছে কাতারভিত্তিক আলজাজিরা।

রাজ্যটিতে এখন পর্যন্ত নয়জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। প্রায় এক মাস পূর্বে মিয়ানমারে প্রথম করোনা সংক্রমণ ঘটে। এখন পর্যন্ত দেশটিতে মোট করোনা রোগীর সংখ্যা ৩৯৯ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৬ জন। যদিও আন্তর্জাতিক মহলের অভিযোগ, করোনা সংক্রান্ত সঠিক তথ্য দিচ্ছে না মিয়ানমার।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাখাইনে সব ধরনের বাস ও বিমান চলাচল স্থগিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর অধ্যুষিত হিসেবে পরিচিত এ রাজ্য। ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এক অভিযানে ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। সংখ্যালঘু গোষ্ঠীটির ওপর গণহত্যা, গণধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ চালানোর অভিযোগ উঠে দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মিয়ানমার


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ