Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৭, ১৩ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

পবিত্র মুহাররমে অনেক ইবাদত বন্দেগির সুযোগ রয়েছে জুমার খুৎবা পূর্ব বয়ানে পেশ ইমাম

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২১ আগস্ট, ২০২০, ৪:১২ পিএম

পবিত্র মুহাররম মাসে অনেক ইবাদত বন্দেগির সুযোগ দিয়েছেন আল্লাহপাক। ১৪৪২ হিজরীর নতুন বছরে আমাদের সবার জীবনে রহমত বরকতে ভরপুর হয়ে যাক। জিলকদ, জিলহজ, মুহাররম ও রজব মাস হচ্ছে সবচেয়ে বেশি বরকতপূর্ণ মাস। আল্লাহপাক বলেছেন, তোমরা এ মাসগুলোতে নিজেদের ওপর জুলুম করো না। পবিত্র আশুরা জালিমের কাছে মাথা নত না করার শিক্ষা দেয়। আজ শুক্রবার বিভিন্ন মসজিদে খুৎবা পূর্ব বয়ানে পেশ ইমামরা এসব কথা বলেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে অধিকাংশ মসজিদগুলোতে প্রচুর মুসল্লির সমাগম ঘটে। মহাখালীস্থ মসজিদে গাউছুল আজমে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে প্রচুর মুসল্লি জুমার নামাজে অংশ নেন। 

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান খুৎবা পূর্ব বয়ানে বলেন, জিলকদ, জিলহজ, মুহাররম ও রজম মাস হচ্ছে সবচেয়ে বেশি বরকতপূর্ণ মাস। আল্লাহপাক বলেছেন, তোমরা এ মাসগুলোতে নিজেদের ওপর জুলুম করো না। অথাৎ ইবাদত বন্দেগি থেকে গাফেল থাকলেই নিজের ওপর জুলুম করা হবে। তিনি বলেন, মুহাররম মাসে অনেক ইবাদতের সুযোগ রয়েছে। ১৪৪২ হিজরী আজ থেকে শুরু হয়েছে। নতুন বছরে আমাদের সবার জীবনে রহমত বরকতে ভরপুর হয়ে যাক। আগামী ৩০ আগস্ট পবিত্র আশুরার এক দিনের রোজা রাখলে গত এক বছরের গুনাহ আল্লাহ মাফ করে দিবেন। রমজানের পরেই মুহাররম মাসের রোজার গুরুত্ব। পেশ ইমাম বলেন, পবিত্র আশুরার দিন খুবই ফযিলতপূর্ণ । এ দিনে আল্লাহপাক পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। হযরত মূসা (আ.)কে জালিমের কাছ থেকে মুক্তি দিয়েছেন। হযরত আইয়ূব (আ.) রোগমুক্তি দিয়েছে এই দিনে। পেশ ইমাম বলেন, ৬১ হিজরীতে ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু পবিত্র আশুরার দিনে স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে অন্যায় অসত্যের, নাহকের সাথে আপোস না করে পরিবার পরিজন নিয়ে শাহাদাত বরণ করে জালিমের কাছে মাথা নত না করার শিক্ষা দিয়েগেছেন। তিনি আশুরার দিনে তাজিয়া মিছিলসহ নানা অপসংস্কৃতি থেকে বিরত থাকারওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ঢাকার ডেমরার ঐতিহাসিক দারুননাজাত সিদ্দিকীয় কামিল মাদরাসা জামে মসজিদে খুৎবা পূর্ব বয়ানে মাওলানা মুহাম্মদ ফরীদ বলেন, এরশাদ হচ্ছে নিশ্চয় আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা ১২ টি যা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী সেইদিন থেকে চালু আছে যেদিন আল্লাহ তায়ালা আকাশমন্ডল ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন সূরা তাওবা আয়াত নং ৩৬ । আরবি সাল হিসেব করা প্রত্যেক মুসলমানদের জন্য আবশ্যক। কেননা ইসলামী শরীয়াতের বিধানাবলী আরবি সময় দিন মাস বছরের সাথে সম্পৃক্ত। মহানবী (সা.) বিভিন্ন নেক আমলের কথা বলেছেন যেগুলি বিভিন্ন সময়ের সাথে সম্পৃক্ত। নবী (সা.) বলেছেন, রমজানের পরে আল্লাহর মাস মুহাররমের রোজা সর্বোত্তম। এছাড়াও আশুরার দিবসকে কেন্দ্র করে নবীজি (সা.) বলেছেন, আশুরার দিনের রোজা পূর্বের এক বছরের গুনাহ মুছে দেয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে শরীয়ত গর্হিত কাজ থেকে বিরত থেকে তাঁর দেয়া বিধান অনুযায়ী সময় দিন মাস বছর অতিক্রম করার তৌফিক দান করুন। আমিন!

ঢাকা নিউমার্কেট সিটি কমপ্লেক্স জামে মসজিদের খতীব হাফেজ মাওলানা লুৎফর রহমান আজ জুমার খুৎবা পূর্ব বয়ানে বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় মুহাররম মাসে আমরা বিভিন্ন ধরণের বিদআত করে থাকি যা মোটেই কাম্য নয়। এ মাসের পবিত্রতা ও গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা এ মাসের ৯ ও ১০ তারিখ রোজা রাখবে। আর এ রোজা হচ্ছে পবিত্র রমযানের পরে এর স্থান। তাছাড়া ও রাসূল (সা.) এই মাসে বেশি করে ইবাদত করতেন রোজা রাখতেন। এ মাসে বিবাহ-শাদী করার নিষিদ্ধ বলে আমরা মনে করি। তাজিয়া মিছিল ও শরীর থেকে রক্ত প্রবাহিত করে উন্মাদনা সৃষ্টি করি। যা ইসলামে মোটিই অনুমোদন দেয় না। রাজধানীর চকবাজার ইসলামবাগ বড় মসজিদের খতীব শাইখুল হাদীস মাওলানা মন্জুরুল ইসলাম আফেন্দী খুৎবাপূর্ব বয়ানে বলেছেন, মুমিন হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের এই আত্মজিজ্ঞাসা থাকা উচিত যে আমরা আমাদের অতীত জীবনে মহান আল্লাহর হুকুম আহকাম কতটুকু মান্য করেছি? তাঁর আনুগত্য কতটুকু করেছি এবং অবাধ্যতা কি পরিমাণ করেছি? আত্মজিজ্ঞাসার এই ভালো অভ্যাস গড়ে উঠলে অবশিষ্ট হায়াতে নেক আমলের সুযোগ আরো বৃদ্ধি পাবে ইনশাআল্লাহ।
হাফেজ্জী হুজুর নূরিয়া মসজিদের খতিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী জুমার বয়ানে বলেছেন, পবিত্র আশুরা ইসলামের ইতিহাসে একটি গুরুপূর্ণ দিন। আশুরার দিনে অধিক পরিমাণে ইবাদত বন্দেগিতে লিপ্ত থাকতে হবে এবং শরীয়ত বিরোধী কুপ্রথা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী আরমানিটোলা শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার জুমাপূর্ব বয়ানে বলেন, হিজরী সালের গণনা এবং সংরক্ষণ মুসলমানদের জন্য ফরযে কেফায়া। কারণ এর সাথে ইসলামের ইবাদতসমূহের সম্পর্ক বিদ্যমান। তিনি আরো বলেন, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে মৃত্যু তথা আখেরাতের সফরের জন্য প্রস্তুত থাকা একান্ত আবশ্যক। তিনি আরো বলেন, নবীজির নির্দেশনা অনুযায়ী ইসলামের মৌলিক চেতনার জায়গা থেকেই আমাদেরকে আশুরা উদযাপন করতে হবে।


রহমতিয়া জামে মসজিদের খতিব মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন বলেছেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রতিটি সুন্নত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের সাথে সংগতিপূর্ণ। যে ব্যক্তি রাসূল (সা.) এর সুন্নতের উপর আমল করবে সে একদিকে পরকালে জান্নাতে অধিবাসী হবেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পেশ ইমাম


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ