Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১২ কার্তিক ১৪২৭, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

বন্যায় বাড়ছে নদী ভাঙন

ব্রহ্মপুত্র-যমুনায় পানি কিছুটা কমছে

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২১ আগস্ট, ২০২০, ১১:৫৯ পিএম

মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে গত তিন চারদিন দেশের অভ্যন্তরে বৃষ্টিপাত বেড়েছে। সেই সাথে উজানে অতিবর্ষনের ফলে পদ্মার পানি বাড়ছে। সাগর উত্তাল এবং অমাবশ্যার অস্বাভাবিক জোয়ারের ফলে বন্যার পানিও সাগরে নামতে পারছে না। এতে অনেক স্থানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতিহয়েছে। তবে বেশিরভাগ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। বন্যা প‚র্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি হ্রাস পাচ্ছে। এটা আগামী ২৪ ঘন্টা অব্যাহত থাকতে পারে। এ ছাড়া গঙ্গা-পদ্মার পানি স্থিতিশীল রয়েছে। যা আগামী ২৪ ঘন্টা অব্যাহত থাকতে পারে। বন্যার পাশাপাশি জোয়ারের পানিতে দীর্ঘ প্রায় দুই মাসের বন্যার্তদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়ছে নদী ভাঙন। পদ্মার তীব্র ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে বহু মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুলসহ আরও অনেক স্থাপনা। অনেকে বসতভিটা জমি-জমা সব হারিয়ে হয়েছে সর্বহারা।
সিরাজগঞ্জ থেকে সৈয়দ শামীম শিরাজী জানান, যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে আবার বাড়ছে। গত কয়েক দিনে পানি বেড়েছে ৪৯ সেন্টিমিটার। যেকোনো সময় নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। পানি বাড়তে থাকায় জেলাটিতে আবারও বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে নতুন করে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে ভাঙনও তীব্র রূপ নিচ্ছে।
চাঁদপুর থেকে বি এম হান্নান জানান, উজানের ঢল ও অমাবস্যার প্রভাবে জোয়ারে চাঁদপুর শহরের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পদ্মা-ঘেনার পানি এখনো বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
টাঙ্গাইল থেকে আতাউর রহমান আজাদ জানান, টাঙ্গাইলে চলমান বন্যায় জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে ১১টি উপজেলা আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি পৌরসভাও রয়েছে। রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট বিধ্বস্ত হয়ে প্রায় পৌনে ৩শ’ কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।

টাঙ্গাইলের ভ‚ঞাপুর থেকে আলীম আকন্দ জানান, চলমান বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারো টাঙ্গাইলের ভ‚ঞাপুরে চতুর্থ দফায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি শুরু হয়েছে। এতে বন্যা কবলিত হাজার হাজার মানুষ ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই ফের বন্যার কবলে পড়ার আশঙ্কা করছে।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থেকে জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এবছর দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় মির্জাপুরে বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বন্যায় মির্জাপুরে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির বিভিন্ন জাতের ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে ২৬ হাজারের বেশি কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
গোপালগঞ্জ থেকে মোঃ অহেদুল হক জানান, বন্যায় সাড়ে ৬ হাজারেরও বেশি পুকুরের মাছ ভেসে ৪৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এতে জেলার ৫ উপজেলার সাড়ে ৫ হাজারেরও বেশি মৎস্যচাষী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন।
জামালপুর থেকে নুরুল আলম সিদ্দিকী জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ঘর-বাড়ি আর ক্ষতবিক্ষত রাস্তা-ঘাটে দুর্ভোগ বেড়েছে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষজনের। বেশির ভাগ বানভাসি মানুষ ঘরে ফিরলেও বন্যার পানির তীব্র ¯্রােতের মুখে ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়া ভাঙ্গাচোড়া ঘরবাড়িতে দুর্ভোগ বেড়েছে।
মুন্সীগঞ্জ থেকে মঞ্জুর মোর্শেদ জানান, জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। মাওয়ায় পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে লৌহজং এবং শ্রীনগরের নি¤œাঞ্চলের বন্যার্তদের দুর্ভোগ আবারো বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: নদী

২৬ অক্টোবর, ২০২০
১১ অক্টোবর, ২০২০
৬ অক্টোবর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ