Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬, ১৮ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

গাবতলীর কৈঢোপ আবাসন প্রকল্প নাগরিক সুবিধা বঞ্চিতদের মানবেতর জীবন

প্রকাশের সময় : ৭ আগস্ট, ২০১৬, ১২:০০ এএম

আল আমিন মন্ডল, গাবতলী (বগুড়া) থেকে

বগুড়া গাবতলীর ১নং কাগইল ইউনিয়নের ‘কৈঢোপ আবাসন প্রকল্প’র ৭০পরিবার বসবাস করলেও এখন তারা শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ায় মানবেতর ভাবে জীবনযাপন করছে। জানা যায়, আবাসন প্রকল্প উদ্বোধন হওয়ার পর থেকে এখানে যেন সমস্যার অন্ত নেই। প্রায় ২ শতাধিক শিক্ষার্থীদের জন্য নেই কোন স্কুল। নামাজ পড়ার মসজিদ, দাফনের জন্য নেই কোন কবর স্থান। ভূমিহীন পরিবারগুলোর মাঝে আর্থিক ভাবে উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী করার লক্ষে মাছ চাষ করার জন্য গাবতলী উপজেলা সমবায় অধিদপ্তর ঋণ প্রদান করেছেন। এ ঋণ নিয়ে অনেক পরিবার এখন স্বাবলম্বী হয়েছেন। তারা ক্ষুদ্র ও কুটির হস্ত শিল্পের কাজ সেলাই, দিনমজুরী ও ভ্যান-রিক্সা চালিয়ে পরিবারের মুখে জুটাচ্ছেন ডাল ভাত। তবুও তাদের পাশে যেন কেউ নেই। অসহায় কৈঢোপ আবাসনবাসী চায় শিশুদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, খাদ্য, বস্ত্র ও চিকিৎসা সেবাসহ নাগরিক অধিকার। সরকার স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে স্যানেটারি ল্যাট্রিন, গভীর নলকূপ স্থাপন করা হলে আজও তা অনেকটা পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে। উঠছে না নলকূপ দিয়ে পানি। সংস্কার কাজ না করায় ২টি ব্যাকে ৭০টি ঘরের বেহাল দশা। বসবাসে অনুপযোগী হওয়ায় অনেকে আবাসন ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ঘরের টিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি পড়ছে। গভীর নলকূলগুলো বিকল, টয়লেটগুলো ভেঙে গেছে। অফিস ঘর থাকলেও চলছে না কোন কার্যক্রম। এবছরে ৭০টি পরিবারে বিদ্যুতের আলো জ্ব¡ালিয়ে দিলেও স্কুল না থাকায় ২ শতাধিক ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়া চরমভাবে বিঘিœত হচ্ছে। মসজিদ না থাকায় ৩০ জন বৃদ্ধের নামাজ পড়াসহ নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সবকিছু মিলে মনে হয় যেন অসহায় মানুষের এক দুর্বিসহ জীবনযাপন। আবাসন প্রকল্প সমবায় সমিতি লিঃ সভাপতি ঠান্ডু মিয়া জানান, সরকারের সুদৃষ্টি না থাকায় আমাদেরকে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বহু কষ্ট করে মৎস্য, শাক-সবজি চাষ, গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি, কুবতর পালনসহ মজুরির কাজ করে দিন যাপন করছি। সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান জানান, স্কুল না থাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়ছে না। ফলে অসময়ে ঝড়ে পড়ছে অনেক শিশু-কিশোর শিক্ষার্থী। তাঁত শিল্প বন্ধ হয়ে গেছে। আবাসনে বসবাসরত রফিকুল ও জুয়েল জানান, এখানে মসজিদ ও কবর স্থান না থাকায় আবাসনের মৃত্যু কুদ্দুস, হামিদুন, মোশারফ, বাদশা, নজরুল, টুকু, কান্টুকে অন্যত্রে দাফন সম্পূর্ণ করতে হয়েছে। এরপরও নেই স্বাস্থ্য ও শিক্ষার কোন আলো। পুকুর পাড়ে ঘাট নেই, স্কুল নেই, কবর স্থান’সহ মসজিদ নেই। এসব সমস্যার জন্য দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন দিনমজুর বাদল, খলিল, ফটু, আছমাসহ শতাধিক নারী-পুরুষ। এ বিষয়ে গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাঃ আহসান হাবিব জানান, সমস্যার জন্য কোন লেখিত আবেদন পাইনি। তবে আবেদন পেলে অবশ্যই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাগইল ইউপি’র নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মোঃ আগানিহাল বিন জলিল তপন জানান, কৈঢোপ আবাসনের বর্তমান অবস্থা খুব খারাপ। তবে সকল সমস্যার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবগত করেছি। উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোছাঃ সাবিহা আফরুজ জানান, আমাদের সমবায় অধিদপ্তর থেকে আবাসনবাসীর কল্যাণে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করা হয়েছে। উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় কৈঢোপ আবাসনে কবর স্থান নির্মাণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আশা করছি ইউএনও মহোদয় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন। তবে ‘কৈঢোপ আবাসন প্রকল্প’ পরিবারের সদস্যদের উন্নয়নে সমবায় দপ্তরের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। ফলে ‘নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত’ আবাসনবাসী নিরাপত্তা ও সু-শাসনসহ আইনি সহযোগিতা পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন