Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১২ কার্তিক ১৪২৭, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

ভ্যাকসিন আনতে সব তৎপরতা রয়েছে

অ্যান্টিজেন টেস্টের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৬ আগস্ট, ২০২০, ১২:০২ এএম

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দেশে ভ্যাকসিন আনতে সরকারের করোনা সংক্রান্ত সব শাখাই তৎপর রয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়ত খোঁজ নিচ্ছেন। বিশ্বে ভ্যাকসিন আবিষ্কার এখন অ্যাডভান্স লেভেলে আছে।

যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া, আমেরিকা, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চুড়ান্ত পর্যায়ে কাজ করছে। এসব ভ্যাকসিনের গুনগত মান যাচাই-বাছাই করেই প্রধানমন্ত্রী সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহন করবেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আরটি-পিসিআর ল্যাব টেস্টের পাশাপাশি করোনা শনাক্তে সরকার অ্যান্টিজেন টেস্টেরও উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। গতকাল সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ওয়ালটনের সহযোগিতায় তাইওয়ান এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের করোনা মোকাবেলায় মেডিকেল সামগ্রী হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। অনুষ্ঠানে বানিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী মোস্তফা জব্বারও বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে র‌্যাপিড টেস্ট পরীক্ষা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনায় তিন ধরনের পরীক্ষা বর্তমানে হয়ে থাকে। এগুলো হচ্ছে পিসিআর টেস্ট, এন্টিজেন্ট টেস্ট ও র‌্যাপিড এন্টিবডি টেস্ট। এর মধ্যে র‌্যাপিড এন্টিবডি টেস্টের বিষয়ে এই মুহুর্তে কোন পরিকল্পনা নেয়া হয়নি। পিসিআর টেস্টের পাশাপাশি এন্টিজেন্ট টেস্ট শুধু সরকারি ল্যাবগুলোতেই করার ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

করোনা মোকাবিলায় সরকারের নানা উদ্যোগ তুলে ধরে সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সফল ভাবেই করোনা মোকাবেলা করে যাচ্ছে। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হবার সাথে সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দেশের বিমান, নৌ এবং স্থল বন্দরগুলোতে সময়মত স্ক্রীনিং এর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তখন আমাদের পর্যাপ্ত মেডিকেল সামগ্রী ছিল না, যা ছিল তাই দিয়ে আমরা পরিকল্পিতভাবে এ মাহামারি মোকাবিলা শুরু করি। দেশের স্পেশালাইষ্ট হাসপাতাল ঘোষণা করে সুচিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এখন হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীর সংখ্যা অনেক কম। এ সকল হাসপাতালে ৬০-৭০ ভাগ সিট খালি থাকছে। এখন আমরা স্পেশালাইষ্ট হাসপাতালের সংখ্যা কমিয়ে সাধারণ চিকিৎসার জন্য খুলে দেয়ার চিন্তা করা হচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, বাংলাদেশ সিমীত সম্পদ দিয়ে সঠিক ভাবেই করোনা মোকাবেলা করছে। এখন প্রয়োজন মানুষের সচেতনতা। এ সচেতনতা সৃষ্টির জন্য দেশের প্রচার মাধ্যমগুলোর গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। শুরু থেকেই দেশের প্রচার মাধ্যমগুলো দায়িত্বশীল ভুমিকা রেখে আসছে। আগামীতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে আমরা আমরা করি। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ওয়ালটন স্বাস্থ্য সেবায় সরকারকে সহযোগিতা দিয়ে আসছে। তাইওয়ানের এ সহযোগিতা আমাদের কাজে লাগবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, করোনা সারা দুনিয়ার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জীবনের ঝুকি নিয়ে ডাক্তার নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ এবং সাংবাদিকরা দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সাধ্যের সবটুকু দিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা দেশের ৬৪টি জেলায় বিনা মাশুলে স্বাস্থ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছি। কলসেন্টার ও টেলিমেডিসিন ব্যবস্থায় নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করার সুযোগ সৃষ্টি এবং টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট অব্যাহত রাখার মাধ্যমে জীবনযাত্রা গতিশীল করার চেষ্টা করছি।

উল্লেখ্য, তাইওয়ান এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার ১ লাখ সার্জিক্যাল মাস্ক, ১৬০০ এ-৯৫ মাস্ক, ২০ হাজার কাপড়ের মাস্ক, ১০ হাজার ফেস ফিল্ড, ৫০০ পিপিই, ২০০ গগলস এবং ২ সেট ভেন্টিলেটর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করে।

সভায় বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আব্দুল মান্নান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. নূর-উর-রহমান বক্তব্য রাখেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ওয়ালটনের নির্বাহী পরিচালক ও কম্পিউটার বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী লিয়াকত আলী, ঢাকাস্থ তাইওয়ান এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের পরিচালক তিথমি ডবিøউ ডি সো এবং ম্যানেজর রঞ্জন চক্রবর্তী।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন