Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৩ কার্তিক ১৪২৭, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

কর্ণফুলীতে সাম্পান মাঝিদের অনশন

চট্টগ্রাম ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ২৫ আগস্ট, ২০২০, ১১:৪৮ এএম

কর্ণফুলী নদীতে অনশন ধর্মঘট শুরু করেছেন সাম্পান মাঝিরা। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ সত্ত্বেও জন্মগত পেশাদার পাটনিজীবী (সাম্পান মাঝি) সমিতিকে ঘাট ইজারা না দেওয়ার প্রতিবাদে নিজেদের সাম্পান নিয়ে এ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন মাঝিদের আটটি সংগঠনের সদস্যরা।

মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে নগরীর সদরঘাটে নিজেদের সাম্পান নিয়ে নদীতে অনশন করছে তিন শতাধিক সাম্পান মাঝি। কর্মসূচি চলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
মাঝিদের অনশনের কারণে সন্ধ্যা পর্যন্ত সব সাম্পানঘাট বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন সভাপতি এসএম পেয়ার আলী।

অভিযোগ রয়েছে গত পহেলা বৈশাখ পেশাগত সাম্পান মাঝিদের কাছ থেকে ঘাট কেড়ে নিয়ে পাটনীজীবী নীতিমালা লঙ্ঘন করে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের ইজারা দেয় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। ঘাটহারা মাঝিরা অনিয়মের বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৯ এপ্রিল ২০২০ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রশাসন-২ শাখা কর্তৃক পাঠানো চিঠিতে উপসচিব মোহাম্মদ ফজলে আজিম পেশাদার জন্মগত পাটনিজীবী সমিতিকে ঘাট ইজারা দেওয়ার জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

তৎকালীন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ঘাট মাঝিদের ইজারা দেওয়ার অনুরোধ জানালেও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এই বিষয়ে পুনঃরায় আইনি মতামতের জন্য নির্দেশনাটি চসিক আইন কর্মকর্তার নিকট পাঠান। এরপর বিগত ছয় মাসেও মাঝিদের ঘাট ফিরিয়ে দেয়নি চসিক।


অনেকে বাপ দাদা তিনপুরুষের এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন। এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে কর্ণফুলী থেকে সাম্পান চিরতরে হারিয়ে যাবে বলে জানান মাঝিদের আন্দোলনের সহযাত্রী চট্টগ্রাম আঞ্চলিক সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান আলীউর রহমান।

তিনি বলেন, চসিক মাঝি থেকে ঘাট কেড়ে নিয়ে চট্টগ্রামের কৃষ্টি সংস্কৃতির পরিপন্থী কাজ করছে। যা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।

আন্দোলনের আহ্বায়ক কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন সভাপতি এসএম পেয়ার আলী বলেন, ২০০৩ সালের পাটনিজীবী নীতিমালা তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে মাঝিদের ঘাটছাড়া করেছে চসিক। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়ায় দিনব্যাপী অনশন করতে হচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: অনশন

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ