Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৩ আশ্বিন ১৪২৫, ৭ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

নেই বৃষ্টি মিলছে না পানি আমন আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় মিরসরাইয়ের কৃষক

প্রকাশের সময় : ৮ আগস্ট, ২০১৬, ১২:০০ এএম

আমিনুল হক, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) থেকে : শ্রাবণের শেষ সময়ের এইদিনে বর্ষণমুখর দিবা-রাত্রি তো দূরের কথা কোনোভাবেই চাষাবাদের উপযোগী বৃষ্টি ভাগ্যে জুটছে না এবার কৃষকদের। ঠিক এই মৌসুমে রোপা আমন নিয়ে যেখানে কৃষকরা ব্যস্ত হয়ে উঠেছিল। ঠিক তখনি পুরো দুই সপ্তাহজুড়ে নেই বৃষ্টির দেখা। এই সময়ে মাঠে-ঘাটে পানিতে থৈ থৈ করছিল গেল বছরগুলোতে। এবার কৃষকরা কোনোভাবে হাল দিয়ে জমি চারা রোপণের উপযোগী করার পরও এখন আর একদফা বৃষ্টি না হওয়ায় জমিতেও আর যেতে পারছে না শ্রমিক কৃষকরা। পারছে না বীজতলার রোপা আমনের চারাও তুলতে। এভাবে বৃষ্টিহীন খরা চলমান থাকলে ৫ হাজার হেক্টর জমি ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। এছাড়া মৌসুমী শাক-সবজিতেও ব্যাপক বিপর্যয়ের সম্ভাবনার কথা জানান কৃষকরা। মিরসরাই উপজেলার আমবাড়ীয়া গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, শুধু আমন নয় আমার ৩ কানি জমির বরবটি ও শষিন্দার পাতাও জ্বলে যাচ্ছে খরায়। এছাড়া করলা, ঝিঙা ক্ষেতের পাতা ঝরে নেতিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় আর ক’দিন এভাবে থাকলে ক্ষতির অবশিষ্টাংশ দেখতে হবে এবার। দুর্গাপর গ্রামের কৃষক আনোয়ারুল হক জানান, ২ কানি জমি আমনের বীজতলা তৈরি করে এখন বৃষ্টির জন্য চারাও তুলতে পারছি না। এদিকে, ১ কানি জমি হাল দিয়েও আর কাজ করাতে পারছি না। বাকি জমিতেও পানির অভাবে হাল দিতে পারছি না। তিনি বলেন, গত বছর দিনে সব জমিতে চারা রোপণ করে ঘাসও বাছাই হয়ে গেছিলো। মলিয়াইশের অভিজ্ঞ কৃষক মাহবুবুল হক বলেন, এভাবে আর কদিন চলতে থাকলে আমাদের আমন ফলনে বিপর্যয় অনিবার্য। তিনি বলেন, মলিয়াইশ গ্রামের প্রায় বীজতলার চারা এখন হলদে বর্ণে হয়ে যাচ্ছে। ধানের বীজ থেকে চারা বের হওয়ার পর যে গোছা সৃষ্টি হয় বৃষ্টি না হলে আর সেই গোছা সৃষ্টি হবে না, উপরন্তু পাতা ঝলসে যাচ্ছে তীব্র খরতাপে। মিরসরাই উপজেলা কৃষি সুপারভাইজার নুরুল আলম বলেন, এখনো ক্ষতির আওতায় না পড়লেও তবে শিগগিরই বৃষ্টিপাত না হলে কৃষকরা ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হবেনই। বিশেষ করে এখনি কৃষকরা ব্যস্ত থাকার সময়। তবে এখন পারছে না বৃষ্টিহীনতার দরুন। তিনি বলেন, মিরসরাইতে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদ হয়। আর ৪-৫ দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত না হলে উঁচু এলাকার অন্ততঃ ৫ হাজার হেক্টর জমি ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। তিনি আরো বলেন, কৃষিতে ঠিক এই সময়টা ট্রিলার ট্রান্সপ্লেন্টেশনের সময়। এই মুহূর্তে বৃষ্টিপাতের বিলম্ব হলে আমন চাষাবাদে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তিনি স্বীকার করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ