Inqilab Logo

ঢাকা রোববার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ৫ বৈশাখ ১৪২৮, ০৫ রমজান ১৪৪২ হিজরী

করোনায় আক্রান্ত ইসির পরিবর্তন চাই

অনলাইন আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞদের অভিমত

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১২:০১ এএম

নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিজেদের পঙ্গু (ক্ষমতাহীন) করতে চায় বলে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত অনলাইন গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা অভিযোগ করেছেন। তারা বলেন, বর্তমান কমিশনের কার্যক্রমে মনে হচ্ছে তারা সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করবে, নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন না করে গোলাম হয়ে থাকবে। কভিড-১৯ এ আক্রান্ত কমিশন চাই না। গতকাল অনলাইন গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। তারা আরো বলেন, আইন সংস্কারের মাধ্যমে নিজেদের ক্ষমতা খর্ব করে সরকারের হাতে দেয় এমন নজীর পৃথিবীতে আর নেই।

সুজনের সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনলাইন আলোচনায় অংশ নেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক, বিচারপতি আবদুল মতিন, সাবেক সচিব আলী ইমাম মজুমদার, সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. আসিফ নজরুল, সুজন নেতা আবু নাসের বখতিয়ার, ফখরুল আলম রেঞ্জু প্রমূখ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।

আলোচনায় এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পৃথিবীতে তিন টাইপে নির্বাচন কমিশন আছে। ইনডিপেনডেন্ট, গভর্নমেন্টাল এবং মিক্সড কমিশন। মিক্সড কমিশনে সরকারের একটা উইং থাকে, তারা ইসিকে প্রসেস বলে দেয় কমিশন তা বাস্তবায়ন করে। আমাদের সংবিধানে ইনডিপেনডেন্ট কমিশনের কথা বলা আছে। কিন্তু সন্দেহ হচ্ছে সেই মিক্সড কমিশনের দিকে যাচ্ছি। যেখানে সরকারের উইং ডিকটেট্ড করবে হাউ টু কনডাক্ট পোল।
নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত কমিশন নিয়োগে আইন করা না যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত জ্বি হুজুর কমিশন আসতে থাকবে। দরকার হলে প্রেসিডেন্টের কাছে যেতে হবে। আদালতের শরণাপন্ন হতে হবে।

ড. শাহদীন মালিক বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, তার সবগুলোতেই ক্ষমতাসীনরাই জয়ী হয়েছে। বিপরীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে যে নির্বাচনগুলো হয়েছে তার কোনটিতেই ক্ষমতাসীনরা জিততে পারিনি। কাজেই এটা বলা যেতে পারে, ভবিষ্যতেও ক্ষমতাসীনদের অধীনে ভোট হলে তারাই জিতবে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালে একটি চেক অ্যান্ড ব্যালান্সের প্রস্তাবনা এসেছিল। কিন্তু একটি দলের অনঢ় অবস্থানের কারণে সেটা হয়নি।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, নির্বাচন কমিশন দেশে সুস্থ নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের আইনের হাত দেয়ার এখতিয়ার আছে বলে মনে করি না। মনে হয় নিজেদের ব্যর্থতাগুলো ঢাকতে নিজেরাই ক্ষমতাহীন হতে চায়।

আলী ইমাম মজুমদার বলেন, আইন সংশোধনের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কমিশন নিজেদের ক্ষমতাহীন করতে চাচ্ছে। এই পথ রুদ্ধ করতে হলে রাজনৈতিক দলসহ সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।
বাদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচন কমিশন নির্বাচনি ব্যবস্থা ধ্বংস করে জনগণের ভোটাধিকার হনন করেছে। আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নিজেদের স্থায়ীভাবে পঙ্গু করতে চাচ্ছে। ভবিষ্যতে একটি ভালো কমিশন পাওয়ার পথ রুদ্ধ করছে।
সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান বলেন, মনে হচ্ছে কমিশন কোভিড আক্রান্ত। তাদের নরমাল অক্সিজেনে চলবে না হাইফ্লো অক্সিজেন লাগবে। কোভিড আক্রান্ত কমিশন আর চাই না। কাজেই নতুন কমিশন কীভাবে সুন্দর পেতে পারি, সেটার দিকে জোর দেয়া উচিত। কমিশনের প্রতি চরম অনাস্থাপত্র তৈরি করে তা সরকারের বিভিন্ন দফতরে পাঠানোর প্রস্তাব করেন।

আসিফ নজরুল বলেন, নির্বাচন কমিশন বেতন-ভাতা ও মর্যাদাসহ সরকারি সব সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে চায়, কিন্তু নিজেদের দায়িত্বটা পালন করতে চায় না। বিচারপতি আবদুল মতিন নতুন কমিশন নিয়োগে সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী আইন প্রণয়নের ওপর জোর দেন। এক্ষেত্রে তিনি শামসুল হুদা কমিশন আইনের যে খসড়া করেছিল, তা ধরে নতুন আইন করার কথা বলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: নির্বাচন কমিশন

২১ ডিসেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ