Inqilab Logo

ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭, ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

ঔষধি গাছ : গাছগাছড়ার চাষ ও এর উপকারিতা

| প্রকাশের সময় : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১২:০১ এএম

হাতের কাছেই জীবন্ত সবুজ ডাক্তারখানা। এখানে থাকবে জ্বর, সর্দি, পাতলা পায়খানা, ত্বকের যত্ম, চুলের যত্ম-সব কিছু। এ ধরনের বাগান তৈরী অতি সহজ ও অল্প জায়গাতেই সম্ভব। সম্ভব টবেও অথবা বারান্দা বা ব্যালকনিতেও। নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নিন গাছ আর লাগিয়ে ফেলুন বাগানে। জেনে নিন প্রয়োগ কিংবা সেবন বিধিও। বাগানের এসব উপকারী গাছ-গাছড়ায় শুধুমাত্র পানিসেচ ছাড়া আর অন্য কোন যত্ম লাগবে না। এর মধ্যে অনেক গাছই দৃষ্টি-নন্দন বা ফুলও হয় আকর্ষণীয় যা ঘর সাজাতেও দিব্যি কাজে লেগে যাবে। নিচে কয়েকটি ঔষধি গাছ নিয়ে আলোচনা করা হল-

ঘৃতকুমারী ঃ পাথরকুঁচি জাতীয় এ গাছ বারান্দায় টবে অথবা জমিতেও লাগানো যাবে। মোটা-সোটা রসালো পাতা, দেখতেও সুন্দর। গরম এবং শুকনো জায়গায় ভাল হবে। এ গাছের জন্য খোলামেলা জায়গা ও বালিমাটি প্রয়োজন।

উপকার ঃ এ গাছের পাতার রস সরাসরি মুখের চামড়ায় লাগালে চামড়া নরম থাকবে। শরীরের কোথাও পুড়ে গেলে সে ক্ষতস্থানে ঘৃতকুমারী পাতা থেঁতো করে লাগালে কাজ দেবে। ঘা-ও সারায় ঘৃতকুমারী পাতা। মুখের চামড়ায় মাঝেমধ্যে এর রস লাগালে চামড়া মসৃণ হয়।

আপাং ঃ বহু বর্ষজীবী এ গাছ নটে শাক গোত্রের। ফুল ফোঁটে ফুল ধরে এবং তা থেকে চারা হয়। শীতের শেষে ফল পাকে। গোটা গাছটাই ব্যবহার করা যায়।

উপকার ঃ কোষ্ঠকাঠিন্য, অর্শ, অজীর্ণ, পেট ফাঁপা, জন্ডিস, হাঁপানি, ডায়াবেটিস সারায় আপাং। এর রস ৩০-৪০ মিলিগ্রাম দিনে দু’বার খেলে উপকার পাবেন। আপাং বীজের পায়েস ডায়াবেটিস কমাতে সাহায্য করে।

অগ্নিশিখা ঃ এটাকে অপূর্ব ফুলের জন্য লতা আকারে বাগানে রাখতে পারেন। অসুখে কাজ দেবে। হলুদ ও লাল রঙ্গের জমজমাট ফুলের গাছটির মূল লাগাতে হয় বর্ষায়।

উপকার ঃ আলসার, রক্তক্ষয়ী পাইলস, চর্ম রোগ, চুল গজাতে, সাপের কামড়ে, মাঝে মাঝে জ্বর এলে অগ্নিশিখার মূল ব্যবহার করলে উপকার হবে।

অশ্বগন্ধা ঃ বহু বর্ষজীবী বেগুন গোত্রের ফুলে ভরা ছোট গাছ। বীজ থেকে চারা হয়। অশ্বগন্ধার জন্য দোআঁশ মাটিই উপযুক্ত। লাগানোর সময় মাটিতে ৩:১ গোবর মিশাতে হয়। কম বেশী ৪৮ ঘন্টা বীজ পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরে মূল মাটিতে লাগাবেন। দু থেকে তিন মাসে গাছ বড় হয়। বর্ষা মওশুমে এর চারা লাগানো ভাল।
উপকার ঃ অশ্বগন্ধা মূলের গুঁড়ো দুধ বা পানির সঙ্গে ২-৩ গ্রাম হারে মিশিয়ে দিনে দু’বার খেলে যৌবন রক্ষা হয়। মানসিক চাপ, দুর্বলতা ও টেনশন কমায়। ডিপ্রেশন দূর করে। বাতও সারায়। তবে বেশী রক্তচাপ যাঁদের আছে তাদের খাওয়া ঠিক হবে না।

ব্রাহ্মী ঃ ব্রাহ্মী শাক খেলে স্মৃতিশক্তি বাড়ে। সাকুলেন্ট গোত্রের এ গাছটি ভিজে জমিতে ভাল হয়। ডগা বা স্টেন কাটিং থেকে হয়। এ গাছে প্রচুর পানিসেচের প্রয়োজন হয়।

উপকার ঃ এটা স্মৃতিশক্তি বর্ধক টনিক। মূত্রঘটিত রোগ, ব্রন্কাইটিস বা বাত রোগে উপকার মেলে। এর শাক বেটে খেতে হয়। তবে বেশী খাওয়া উচিৎ নয়।

কন্টিকারী ঃ বহু বর্ষজীবী বেগুন গোত্রের এ গাছে ফুল হয় বেগুনী রঙ্গের। আবার শ্বেত কন্টিকারীও রয়েছে। বেলে দোআঁশ মাটিতে এ গাছ ভাল হয়।

উপকার ঃ জ্বর, কাশি, হাঁপানিতে এ গাছের ক্কাথ ২৫-৫০ মিলিগ্রাম দিনে দু’বার খেতে হয়। কন্টিকারীর বীজ মূত্রবর্ধক। অপক্ক ফল গলার স্বর ভেঙ্গে গেলে উপকারী। গর্ভধারণেও এটা খুব কাজ দেয়।

অনন্তমূল ঃ এ গাছ দীর্ঘদিন টিকে থাকে। এর ফুলও দেখতে সুন্দর। লতানে সুন্দর গাছটি বাড়ী সাজাতেও কাজ দেয়। বীজ এবং কাটিং দু’ভাবেই এ গাছ লাগাতে পারবেন।

উপকার ঃ জ্বর, চর্মরোগ, খিদে কমে গেলে বাড়ানো, সিফিলিস, লিউকোরিয়া সারাতেও এ গাছ উপকারী। ব্লাড পিউকিফায়ার হিসেবেও অনন্তমূল ব্যবহৃত হয়। বাত, হাঁপানি রোগও কমাতে পারে। এমনকি লৌকিক ব্যবহার বলছে অনন্তমূল সরষের তেলে ফুঁটিয়ে সামান্য উষ্ণ অবস্থায় ব্যবহার করলে পক্ষাঘাতেও ফল পাওয়া যায়। মূলটি বেটে লাগালে ব্রণ ভাল হয়। গাছ পুড়ানো ছাই হাঁপানি সারিয়ে দিতে পারে। দাঁতের যন্ত্রণায় টাটকা শিকড় লাগালে যন্ত্রণা দূর হয়।

এছাড়াও আরো উপকারী অনেক গাছ-গাছড়া রয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকটি কি রোগে কাজে লাগে আলোচনা করা হল- অপরাজিতা-বাত ও চোখের রোগ, অর্জুন-হৃদরোগ ও আমাশয়, আকন্দ-গেঁটে বাত ও চর্মরোগ, আমলকি- জীবনীশক্তি বর্ধক। আয়াপান- রক্ত আমাশয়, পেট খারাপ, কুড়চি কৃমি, পোকা কামড়ানো, ওলট কম্বল- ঋতুজ রোগ ও শ্বেতস্রাব।
কালো ধুতরা- হাঁপানি ও চর্মরোগ।
কালমেঘ- লিভারের রোগ ও রক্তশোষক।
কেশুত- চুলের সমস্যা,
গোখুর- মূত্রশয়, যকৃত ও পাথুরি,
লেমনত্রাস হাজং- অ্যান্টিসেপটিক ও পেট ভাল রাখবে,
নয়নতারা- ডায়াবেটিস,
চিতা- শ্বেতী,
ছাতিম-চর্মরোগ,
থানকুনি- আমাশয়,
পূণর্নভা- সুনিদ্রা,
বচ-বদহজম,
বাসক- কাশি ও জ্বর,
তুঙ্গরাজ- চুলের সমস্যা,
লজ্জাবতী- পায়োরিয়া,
শতমূল- পুরুষের যৌনরোগ এবং সিংহ পুচ্ছ-স্পন্ডেলাইটিসে কাজ দেয়।

তুলসি, স্টিডিয়া, অ্যালোভেরা কোলিসাস ঔষধির বাণিজ্য। প্যারাগুয়ে থেকে আসা সিডিয়া গাছ ডায়াবেটিস কমায়। চিনির চেয়ে এমনিতে তিরিশগুণ মিষ্টি আর শোধিত অবস্থায় তিনশত গুণ বেশি মিষ্টি স্টিডিয়া ডায়াবেটিস কমাতে এবং চিনিকে রিপ্লেস করতে ৪৭ ভাগ সফল। দেশি তুলসী, কৃষ্ণ তুলসী, রাম তুলসী প্রভৃতি সর্দি, পেট ফাঁপাসহ নানা রোগে উপকারী। এটাকে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে। অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীরও সারা বিশ্বে চাহিদা রয়েছে।
আফতাব চৌধুরী
সাংবাদিক ও কলামিষ্ট।
বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরষ্কার (স্বর্ণপদক ১ম) প্রাপ্ত।



 

Show all comments
  • শামীম আহমেদ ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৫:৫৬ পিএম says : 0
    আমি যাবতীয় গাছ গাছালী ছবি এবং উপকারীতা যানতে চাই
    Total Reply(0) Reply
  • shamim ahamed ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৫:৫৭ পিএম says : 0
    আমি যাবতীয় গাছ গাছালী ছবি এবং উপকারীতা যানতে চাই
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ