Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

ইউএনও ওয়াহিদার উপর সন্ত্রাসী হামলা, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড়

সোশাল মিডিয়া ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৬:২৪ এএম

সরকারি বাসভবনে ঢুকে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াহিদা খানমের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় প্রতিবাদের ঝড় বইছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। নৃশংস এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ফেসবুকে ক্ষোভ জানিয়ে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন নেটিজেনরা।

গত বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সরকারি বাসভবনে ঢুকে ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দুষ্কৃতকারীরা।এখনও তার অবস্থা সংকটাপন্ন। ইউএনও’র মাথার খুলি ভেঙে ভেতরে ঢুকে গেছে। তাকে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে আনা হয়।

ইউএনও’র উপর এমন সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অনতিবিলম্ভে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এখন সামাজিক মাধ্যম জুড়ে।

ফেসবুকে এম হাসান আসকারি লিখেছেন, ‘‘প্রথমত -আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। দ্বিতীয়ত - হামলার মূল পরিকল্পনাকারী এবং হামলাকারীর গ্রেফতার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত কামনা করছি। সর্বশেষ, সরকারি বাসভবনের ভেতর যেয়ে একজন সরকারি কর্মকর্তার উপর হামলা প্রমান করে আমাদের সাধারণ জনতার নিরাপত্তা কোন লেভেলে আছে! তাই অতি কথন বাদ দিয়ে জাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’’

মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলামিন লিখেছেন, ‘‘আমার দেখা মতে জেলা প্রশাসনের বাংলোতে যতটা নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয় ততোটা নিরাপত্তা ব্যবস্থা উপজেলা প্রশাসনের বাংলোতে রাখা হয়না।জেলা প্রশাসনে প্রশিক্ষিত পুলিশ সদস্য থাকলেও উপজেলা প্রশাসনে কোন প্রশিক্ষিত পুলিশ সদস্য থাকেনা,নামমাত্র বয়স্ক বা মধ্যবয়সী চৌকিদার বা গার্ড দিয়ে কাজ চালিয়ে নেয়া হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপর এমন হামলার ঘটনা প্রথম নয়, যতটুকু মনে পরে এমন হামলার ঘটনা পূর্বেও ঘটেছে। কিন্তু উপরন্ত দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের টনক নড়ে না।কম কষ্ট ত্যাগ তিতিক্ষার পর একজন মহিলা উপরোক্ত স্থানে যোগ্যতা বলে আসীন হয়।কর্তৃপক্ষের উচিত এই বিষয়ে আরও তৎপর হওয়া।’’

পান্না আক্তার প্রকৃতি লিখেছেন, ‘‘প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি হওয়া জরুরী। সেই সাথে ইউএনও এর বাসস্থান নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকা আবশ্যক। এমন একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার এই অবস্থা অকল্পনীয়।’’

মিনহাজুল আবেদীন মুন্না লিখেছেন, ‘‘তাহলে কি প্রশাসনের থেকে দুর্বৃত্তরা শক্তিশালী হয়ে গিছে। এমন নিউজ জাতিকে সম্মানিত করে না অসম্মানিত করে।যদি সম্মান বুঝতো তাহলে এমন অপকর্মের সাহস কেমনে পেতো। আর যারা একজন প্রশাসন কর্মকর্তার উপর এমন নির্মমতা দেখাতে পারে। তাহলে সেখানে সাধারণ জনগণের কি অবস্থা। যদি সম্মান দিতে জানতো তাদের তাহলে হয়তো এমন আচারণের সাহস পেতো না।কারণ একজন প্রশাসন কর্মকর্তা হওয়ার জন্য তার অর্জিত পরিশ্রম আর তার জন্য জীবনের যৌবন পড়ার টেবিলে পার করে ওই আসনে যাওয়া।সেখানে কিনা দুর্বৃত্তের হামলার শিকার একজন প্রশাসন কর্মকর্তা সেটা জাতির জন্য লজ্জার বিষয় না গর্বের।প্রশ্ন রইলো আপনাদের কাছে?’’

মোঃ লোকমান লিখেছেন, ‘‘হে আল্লাহ ইউএনও ওয়াহিদা মেডামকে সুস্ততা দান করুন, দুর্বৃত্তদের আইনের আওতায় এনে সর্বউচ্চ সাস্তি দিন, বর্তমানে যে ভাবে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে, সরকারি কর্মকর্তা ও জনগণ কেহ নিরাপদ না, পুলিশের কাছে ও জনগন নিরাপদ না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় স্বররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্রুত আইনশৃঙ্খলার উন্নতি করুন এবং অপরাধীর মামলার রায় দ্রুত কার্যকর করুন।’’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন