Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

ক্ষতবিক্ষত পারকি সৈকত

তীব্র জোয়ারের পানির ধাক্কায় হারিয়ে যাচ্ছে ঝাউবন

নুরুল আবছার তালুকদার, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) থেকে | প্রকাশের সময় : ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১২:০২ এএম

দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র পারকি সমুদ্র সৈকতে জোয়ারের পানির ধাক্কায় ঝাউগাছের গোড়া থেকে বালু সরে যাচ্ছে। ফলে মরে যাচ্ছে গাছগুলো। গোড়া থেকে বালু সরে উপড়ে পড়েছে এ গাছগুলো। এখনি ব্যবস্থা নেয়া না হলে হারিয়ে যেতে পারে সৈকতের এ ঝাউবন, সে সাথে চরে সৌন্দর্য। আর এ সুযোগে স্থানীয় কিছু লোক গাছগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছে। সরেজমিনে গত ০৪ সেপ্টেম্বর দেখা যায়, অনেক গাছের গোড়া থেকে দুই-তিন ফুট পর্যন্ত বালু সরে গিয়ে শিকড় বেরিয়ে পড়েছে। আশপাশে উপড়ে পড়ে আছে গাছের গোড়া। অনেক গাছ মাটিতেও পড়ে রয়েছে। কয়েক বছর ধরেই চলছে এই অবস্থা। গোড়া থেকে বালু সরে যাওয়ায় চলতি বছরে সৈকতের কয়েক শতাধিক গাছ ইতোমধ্যে হারিয়ে গেছে।
পারকি সাগর সৈকত লম্বায় ১৩ কিলোমিটার বা ৮.৭৭ মাইল চওড়া। পারকি সৈকতের অনন্য প্রাকৃতিক সুবিধা হলো এটি বালুকাবেলায় গড়া বা বালির সৈকত (ইংরেজি স্যান্ডি বিচ)। দুঃখের বিষয় পারকির চেয়ে অনেক ছোট আকার ও আয়তনের সাগর সৈকত ভারত, থাইল্যান্ডের মতো অনেক দেশেও আছে। তবে সৌন্দর্য নিশ্চিত করে তারা প্রতি বছর লাখ লাখ পর্যটককে আকৃষ্ট করে মিলিয়ন, বিলিয়ন ডলার আয় করে যাচ্ছে। পারকি ও আশপাশের ২০ কিলোমিটার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে দেশের উপক‚লীয় বনবিভাগ লাগিয়েছে ঝাউবীথি, কেয়াসহ বিরাট ম্যানগ্রোভ গাছের বাগান। যে কারোর নজর কাড়বে এ বাগানের সারিবদ্ধ গাছগুলো। ১৯৮১ সালে সরকারের বন বিভাগে পারকি উপক‚লে প্রথম ঝাউবাগান তৈরি করেন। পারকি সৈকতে বোনা ঝাউ গাছগুলো পিকুলা বা লাল ঝাউ প্রজাতির, গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। তারা লবণাক্ত, গরম আবহাওয়ার ভূমিতে ভালো জন্মে। বনের গাছগুলোর শেকড়, ডাল লম্বাটে। পাতা চিকন, গোল হয়ে থাকে। ডালের আগা চিকন। এক একটি গাছ ১৮ মিটার বা প্রায় ৬০ ফিট লম্বা হয়। সারা বছর পাতা থাকে বলে গাছগুলো চিরসবুজ। প্রবল বাতাস ঠেকাতেও খুব কার্যকর। টানা ১৩ বছর বনটি বন বিভাগই দেখাশোনা করেছেন। এরপর ১৯৯৩-১৯৯৪ অর্থবছরে, মাঝে বিরতি দিয়ে ২০০২ সালে পারকি সৈকতের মোট ৮০ হেক্টর সাগর বেলাভূমিতে আরও ঝাউবন বুনল উপক‚লীয় বন বিভাগ। ধীরে ধীরে ঝাউবীথি বড় হয়ে উঠল।
চট্টগ্রাম বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য ও স্থানীয় বারশত ইউপি চেয়ারম্যান এম.এ কাইয়ূম শাহ্ বলেন, ঝাউগাছ বিলীন হওয়ায় হুমকির মুখে রয়েছে পারকি সৈকতসহ আশপাশের এলাকা। এ বন রক্ষায় এখনি উদ্যোগ না নিলে বড় ধরণের হুমকিতে পড়তে পারে এ সৈকত।
এ বিষয়ে আনোয়ারা উপকূলীয় বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. হান্নানুরজ্জামান বলেন, জোয়ারে পানির ধাক্কায় পড়ে যাওয়া গাছগুলোকে চিহিৃত করা হয়েছে। কিছু গাছের অংশ সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।



 

Show all comments
  • mostak ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৯:২৫ এএম says : 0
    VALO NA
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পারকি-সৈকত

৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ