Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭, ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

প্রদীপ-লিয়াকতসহ ৩০ পুলিশের বিরুদ্ধে ৭ মামলার তদন্ত শুরু

‘ক্রসফায়ার’ ও ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি

রফিকুল ইসলাম সেলিম | প্রকাশের সময় : ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১২:০১ এএম

মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার দুই প্রধান আসামি টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) লিয়াকত আলীসহ চট্টগ্রামে ৩০ পুলিশের বিরুদ্ধে সাতটি মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। এসব মামলায় পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে টাকা না পেয়ে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। আলোচিত এ সাতটি মামলার দুটির বিচার বিভাগীয় তদন্ত চলছে। একটি মামলা তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। বাকি চারটি মামলার তদন্ত করছে পুলিশ ও ডিবি।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য বের করে আনা হবে। এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান মহানগর ও জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তবে পুলিশের বিরুদ্ধে এসব মামলার তদন্ত পুলিশকে দেওয়ায় তদন্তে নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

সর্বশেষ গত বুধবার চট্টগ্রামের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ওসি প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে দুই ভাইকে তুলে নিয়ে হত্যার অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ফকিরপাড়ার আমিনুল হকের দুই পুত্র আমানুল হক ও আজাদুল হককে হত্যার অভিযোগ এনে তাদের বোন রিনাত সুলতানা শাহীন বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রদীপসহ ছয় পুলিশ সদস্যকে অভিযুক্ত করা হয়। বাদী অভিযোগ করেন, গত ১৩ জুলাই আমানুল হককে এবং ১৫ জুলাই আজাদকে চন্দনাইশ থেকে তুলে নিয়ে যায় টেকনাফ থানা পুলিশ। পরে তাদের পরিবারের কাছে আট লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না পেয়ে দুই ভাইকে ইয়াবা ব্যবসায়ী বানিয়ে ক্রসফায়ার দেয়া হয়। মামলাটি তদন্ত করছেন জেলা পুলিশের আনোয়ারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

তার আগে পরিদর্শক লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা আদায় এবং আরও টাকার দাবিতে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা হয়। মামলার বাদী এস এম জসিম উদ্দিনের অভিযোগ, তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ৭০ লাখ টাকার মালামাল চুরির ঘটনার একটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন লিয়াকত আলী। তদন্তকালে আসামিপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা খেয়ে লিয়াকত তাকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেন। এতে তিনি রাজি না হওয়ায় ক্রসফায়ারে দেয়ার হুমকি দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চান। প্রাণ বাঁচাতে তিনি আড়াই লাখ টাকা দিলেও তাকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। থানায় নিয়ে দফায় দফায় নির্যাতন করে তাকে পঙ্গু বানানোর পাশাপাশি ১৩টি মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়া হয়। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করছে নগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপ-কমিশনার (উত্তর)।
ক্রসফায়ারে হত্যার অভিযোগে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুর থানার ওসি শেখ আবদুল্লাহসহ চারজনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন ভুজপুর থানা পুলিশের ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী শারমিন আক্তার। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশের কথিত একজন সোর্সের ভুল তথ্যের ভিত্তিতে তার প্রবাসী স্বামীকে তুলে নিয়ে ক্রসফায়ারে দেয় পুলিশ। অথচ ধর্ষণের ঘটনায় তিনি জড়িত ছিলেন না। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

আট লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ইয়াবা দিয়ে চালান দেয়ার অভিযোগে বায়েজিদ থানার ওসিসহ (তদন্ত) আট পুলিশের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা হয়। ব্যবসায়ী মো. আবদুল ওয়াহেদের করা মামলাটি সিএমপির উত্তর জোনের উপ-কমিশনারকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। উপ-কমিশনার বিজয় বসাক ইনকিলাবকে বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত শেষে আদালতের কাছে প্রতিবেদন পেশ করা হবে। নিরপেক্ষভাবে মামলার তদন্ত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পটিয়ার প্রবাসী মো. জাফরকে তুলে নিয়ে ৫০ লাখ টাকা না পেয়ে হত্যার অভিযোগে পটিয়া আদালতে চকরিয়া থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান ও এসআই আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ৩১ জুলাই চকরিয়ায় জাফরসহ দু’জনকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়। আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। সিআইডি চট্টগ্রামের বিশেষ পুলিশ সুপার শাহনেওয়াজ খালেদ ইনকিলাবকে বলেন, আদালতের নির্দেশনায় মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

গত মঙ্গলবার রাউজান থানার সাবেক ওসি কেফায়েতুল্লাসহ চারজনের বিরুদ্ধে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে আদালতে মামলা হয়। রাজ গোপাল চৌধুরীর মামলাটি আমলে নিয়ে চট্টগ্রামের সিনিয়ার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বিচারিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে কেফায়েতুল্লার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলাটি হয়েছে। সে মামলাটিরও বিচারিক তদন্ত চলছে।

এদিকে পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগে এসব মামলার তদন্তভার পুলিশের হাতে যাওয়ায় তদন্তে নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিচার প্রার্থীরা। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা তদন্তে আইনগত কোন বাধা নেই। তবে তদন্তে সন্তুষ্ট না হলে বাদী পক্ষের আদালতে নারাজি প্রকাশের সুযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে আদালত র‌্যাব বা অন্য কোন সংস্থা অথবা বিচারিক তদন্তেরও নির্দেশ দিতে পারেন।



 

Show all comments
  • Nannu chowhan ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৭:১২ এএম says : 0
    Pulisher hate todonto hole bichr parthider nei bichar paowar asha nai bollei chole karon chitagonger pulish super sp masud nijei corrupt,prodipder eaishob oboidho oparjoner vag sp masud peten....
    Total Reply(0) Reply
  • Maksud Alam ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৪:৫৬ এএম says : 0
    ওসি প্রদীপের বাবা এসপি মাসুদ কে এখনো অ্যারেস্ট করা হয়নি কেন জনতা জানতে চাই❓ কক্সবাজারের এসপি মাসুদের সহযোগিতায় প্রদীপের সব কাজ করে গেছে মাসুদ কে এরেস্ট করে আইনের আওতায় আনতে হবে. মাসুদ হলেন এক নম্বর আসামি. RAB এর কাছে আমার অনুরোধ কাউকে যেন ছাড় নাদে সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে.
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammad Iqbal ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৪:৫৭ এএম says : 0
    আলহামদুলিল্লাহ। নিরপেক্ষ বিচারের মাধ্যমে। বরখাস্ত ওসি প্রদিপ ও তার সকল সহযোগিদের'কে(পরামর্শক,আশ্রায় প্রশ্রয় দাতা সহ) ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার দিনের অপেক্ষায় বাংলাদেশ জনগণ।
    Total Reply(0) Reply
  • Md Golam Mostofa Chowdhury ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৪:৫৭ এএম says : 0
    ভাই এই সব তদন্ত-পদন্ত বাদদেন। আমরা ডাইরেক্ট ফাঁসি চাই!
    Total Reply(0) Reply
  • Md Syed Alam ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৪:৫৭ এএম says : 0
    মামলার অভিযোগ সত্যি বিবেচনা করে আসামি দের কে আটকের পর তদন্ত শুরু করার জন্য জোর দাবি রইল।
    Total Reply(0) Reply
  • Maksud Alam ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৪:৫৮ এএম says : 0
    প্রদীপের আইনজীবিদের গনপিটুনী দেওয়া দরকার। গনপিটুনী দিতে না পারলে. রাতের বেলায় এদের বাড়িতে পাত্থর মাড়া হোক. না হলে রাতের বেলায় 10 15 জন একসাথে গিয়ে তাদের বাড়ি ...
    Total Reply(0) Reply
  • Radwan Hasan ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৪:৫৮ এএম says : 0
    এই তদন্তের রিপোর্ট আগামি ৫০ বছর এর ভিতরে ও আসবে না। সাগর রুনি কুনের রিপোর্ট আজ পযন্ত আইছে?
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সিনহা হত্যা


আরও
আরও পড়ুন