Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ০৫ ভাদ্র ১৪২৬, ১৮ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

হিজলায় লাখো মানুষ পানিবন্দি দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন

প্রকাশের সময় : ৩০ এপ্রিল, ২০১৬, ১২:০০ এএম

হিজলা (বরিশাল) উপজেলা সংবাদদাতা
গত কয়েকদিনে ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা বন্যার পানি হঠাৎ তীব্র ¯্রােতে আঘাত হানায় হিজলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই মারাত্মক রূপ নিচ্ছে। এতে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে ও চর এলাকায় বসবাসরত মানুষের যাতায়াতের রাস্তাঘাট-হাট-বাজার পানিতে ডুবে গেছে। অনেক এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। হিজলা গৌরব্দী ইউনিয়নে একতা বাজার থেকে সাওড়া ও জনতা বাজারে যাতায়াতের কাঁচা রাস্তা ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় ঔষধ কোম্পানির লোকজন জীবন রক্ষাকারী ঔষধও সরবরাহ করতে পারছে না। গত দেড় যুগের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এ বন্যায় দিশেহারা হিজলার লাখো মানুষ। হিজলাস্থ মেঘনা নদীর বিভিন্ন চ্যানেলে অব্যাহত নদী ভাঙনে বদরপুর, আবুপুর, ছয়গাঁও, টুমচর, মহিষখোলা, পূর্বকান্দি ও হরিনাথপুর, মেমানিয়া, দুলখোলা, আলিগঞ্জ, বাবুগঞ্জ, বাউশিয়া, এলাকায় এর মধ্যে এক হাজার পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ও উঁচু সড়কে আশ্রয় নিয়েছে। বসতবাড়িতে পানি ঢুকে যাওয়ায় পুকুর ও মৎস্য খামারের মাছ ¯্রােতের সাথে ভেসে গেছে। সর্বস্ব হারানো মৎস্যচাষিদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। পুকুরে ও মৎস্য খামারে যে মাছ আছে তা রক্ষার জন্য চড়া দামে কিনতে হচ্ছে নেট জাল। কৃষক ও পানের বরজের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা এখনো সম্ভব হয়নি। বন্যাদুর্গত উপজেলার মেমানিয়া সেসিপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি বানের পানির ¯্রােত গতিরোধ করায় ¯্রােতে ভবনের মাটি চার-পাঁচ ফিট গভীর করে খুঁড়ে নিয়ে যাওয়ায় ভবনটি ভেঙে ও দেবে যাওয়ায় হুমকির মুখে রয়েছে। এ ব্যাপারে হিজলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর এর সংস্কার করার আবেদন করেছেন প্রধান শিক্ষক। ভাড়–য়া গ্রামের মন্নান খাঁনর বাড়ির সামনের রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় নৌকায় পারাপার হতে হচ্ছে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ও পথচারীদের। ধুলখোলা ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল মাতব্বর জানান, ধুলখোলা ইউনিয়নের মূল ভূমি নদী ভাঙনের কবলে পড়লে ৩ ভাগে বিভক্ত হয়ে পুনরায় বসতি গড়ে উঠে। এ ৩টি এলাকায় আবার তীব্র নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে চার বছরে ৪৭০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় হিজলার প্রধান ও পুরনো ধনুসিকদার বন্দরসহ চরাঞ্চলের বাজারগুলো পানিতে ডুবে গেছে। কৃষি ও গৃহস্থালি কাজে নিয়োজিত হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হওয়ায় অর্থাভাবে খাদ্য কিনতে না পারা ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এব্যাপারে হিজলা নির্বাহী অফিসার কানিজ ফাতেমা তানিয়াকে মোবাইল ফোনে বানভাসী ও পানিবন্দি মানুষের জন্য কোনো ত্রাণসামগ্রী বরাদ্দ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, মাত্র দুই মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এখনো বানভাসি মানুষের নিকট ত্রাণসামগ্রী ঠিকমতো না পৌঁছাতে পারায় তারা দুর্ভোগে রয়েছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন