Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭, ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

সচিব চাইলেও ব্যাখ্যা মেলেনি দুই বছরে

মেরিন একাডেমির নানা অনিয়ম

পঞ্চায়েত হাবিব : | প্রকাশের সময় : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১২:০১ এএম


বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দুরীকরণের লক্ষ্যে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবের নিদের্শনা দীর্ঘ দুই বছরেও বাস্তবায়ন করা হয়নি। এই সুযোগে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ড. সাজিদ হোসেন দ্বিতীয় দফায় চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে নৌ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগে বলা হয়েছে।এর ফলে সেখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। মেরিন একাডেমির প্রশাসনিক ও উন্নয়ন কর্মকান্ডে নানা অনিয়ম ও আর্থিক নয়ছয়সহ প্রধান নির্বাহী সাজিদ হোসেনের বিরুদ্ধে একাডেমির কর্মকর্তা-কর্মচারিরা ২০১৮ সালে নৌ মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন নৌসচিব মো. আব্দুস সামাদ বিষয়টি আমলে নিয়ে একাডেমির প্রধানের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠান। ওই বছরের ২৯ জুলাই মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট বরাবর পাঠানো এক পত্রে তার (কমান্ড্যান্ট) প্রশাসনিক অদক্ষতা, দ্বৈতনীতি, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতিতে সহযোগীতা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন, নৌ মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন উপ-সচিব রেবেকা সুলতানা।

মন্ত্রণালয় থেকে দুই বছর আগে ব্যাখ্যা তলব করা হলেও কমান্ড্যান্ট সাজিদ হোসেন ওই চিঠির কোনো জবাব দেননি। এরপর তিনি প্রায় এক বছর মেরিন একাডেমির পাশাপাশি নৌ বাণিজ্য দপ্তরের প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। তার চাকরির মেয়াদ শেষ হলেও এক দফায় এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান. যা প্রায় শেষ। তবে ইতোমধ্যে তিনি দ্বিতীয় দফায় কমান্ড্যান্ট পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়ার জন্য দৌঁড়ঝাপ করতেছেন বলে সেখানকার কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারি জানান।

নৌ মন্ত্রণালয়ে করা ২০১৮ সালের অভিযোগে বলা হয়, একাডেমির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সভা ডেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও কমান্ড্যান্ট সাজিদ হোসেন এ ক্ষেত্রে কারও মতামত আমলে নেন না। ডেপুটি কমান্ড্যান্ট, প্রধান প্রকৌশলী ও বিভাগীয় প্রধানগণের মতামতকে তোয়াক্কা না করে সব বিষয়েই একক সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। এভাবে একাডেমির বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প ও সংস্কার কাজ করানোর নামে লাখ লাখ টাকা ব্যয় হলেও সেসব কাজের গুণগত মান নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলার সাহস পান না। অভিযোগে বলা হয়, সহকর্মীদের মতামত উপেক্ষা করে কমান্ড্যান্টের একক সিদ্ধান্তে প্রায় ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে স্টিলের পাত দিয়ে একাডেমির ইনস্ট্রাকশন বøক ও পুরাতন ক্যাডেট বøক সংস্কার ও ডেকোরেশ করা হয়েছে, যা একেবারেই অপ্রয়োজনীয় ছিল।

অথচ যথাযথ সংস্কারের অভাবে একাডেমির কর্মকর্তা-কর্মচারিদের আবাসিক ঘরগুলো জরাজীর্ণ হয়ে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। প্যারেড গ্রাউন্ডের চারদিকের রাস্তা সংস্কারের পেছনে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন। এ ক্ষেত্রেও অন্য কর্মকর্তাদের মতামত নেয়া হয়নি। তিনি কমান্ড্যান্টের দায়িত্ব পাওয়ার পর একই রাস্তা আগেও সংস্কার করা হয়েছে এবং রাস্তাটির মান ভালো থাকা সত্তে¡ও এর পেছনে পুনরায় ২ কোটি টাকা ব্যয় করা রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় বলে অভিযোগে বলা হয়।

এ বিষয়ে প্রধান নির্বাহী সাজিদ হোসেন ইনকিলাবকে বলেন, আমরা বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ করেছে তা মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত করছে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ