Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ৪ কার্তিক ১৪২৭, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

তিন পুলিশের যাবজ্জীবন ২ সোর্সের ৭ বছরের জেল

নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যুর প্রথম রায়

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১২:০০ এএম

রাজধানীর পল্লবীর বাসিন্দা গাড়িচালক ইশতিয়াক হোসেন জনি হত্যার ঘটনায় নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে করা মামলার রায়ে পুলিশের তিন সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার অন্য আসামি পুলিশের কথিত দুই সোর্সকে ৭ বছর করে কারাদন্ডাদেশ দেয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েস এ রায় ঘোষণা করেন। এটিই প্রথম নির্যাতন ও ফোজতে মৃত্যু আইনে করা কোনো মামলার রায় হলো। আইনটি ৭ বছর আগে ২০১৩ সালে পাস হয়।

জনি হত্যা মামলার ৫ আসামির মধ্যে তিনজন পুলিশ সদস্য। তারা হলেন- পল্লবী থানার তৎকালীন এসআই জাহিদুর রহমান, এএসআই রাশেদুল ইসলাম ও এএসআই কামরুজ্জামান। এছাড়া এ তিন পুলিশ সদস্যের প্রত্যেককে বাদীকে দুই লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
অন্য দুই আসামি হলেন- পুলিশের কথিত সোর্স সুমন ও রাসেল। তাদের ৭ বছর করে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। কারাদন্ডের পাশাপাশি তাদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। দন্ডিত আসামিদের মধ্যে কামরুজ্জামান ও রাসেল পলাতক। আগে থেকেই কারাগারে আছেন জাহিদুর রহমান ও সুমন। জামিনে ছিলেন রাশেদুল ইসলাম। রায়ের পর তাকে গতকাল কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার বাদী ইমতিয়াজ হোসেন। তিনি নিহত গাড়িচালক জনির ছোট ভাই।

নিহত জনির ছোট ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রকি সাংবাদিকদের বলেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি আবদুল্লাহ আবু সাংবাদিকদের বলেন, এ রায়ের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আইনের চোখে সবাই সমান, সেটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) তাপস কুমার পাল বলেন, আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। অপরদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ বলেন, আদালত যে রায় দিয়েছেন তাতে আমরা সন্তুষ্ট না। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।

আদালত বলেছেন, থানা হেফাজতে তাকে যে নির্যাতন করা হয়েছে তা ঘৃণ্য এবং মানবাধিকারের লঙ্ঘন। এসআই জাহিদের এ নির্যাতনের সময় বাকি দুই পুলিশ সদস্য দেখলেও তারা ভুক্তভোগীকে সহায়তা না করে অপরাধে সহায়তা করেছে। তাই এই মামলার তিন আসামি পল্লবী থানার তৎকালীন এসআই জাহিদুর রহমান জাহিদ, এএসআই রাশেদুল, এএসআই কামরুজ্জামান মিন্টুকে এই আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুর-১১ নম্বর সেক্টরে স্থানীয় সাদেকের ছেলের গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান চলাকালে পুলিশের সোর্স সুমন মেয়েদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। এ সময় জনি ও তার ভাই সুমনকে চলে যেতে বলেন। সুমন চলে গেলেও পরদিন এসে আবার আগের মতো আচরণ করতে থাকেন। তখন জনি ও তার ভাই তাকে চলে যেতে বললে সুমন পুলিশকে ফোন করে তাদের ধরে নিয়ে যান। তাদের নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকার লোকজন ধাওয়া দিলে পুলিশ গুলি ছোড়ে। পরে থানায় নিয়ে জনিকে নির্যাতন করা হয়।

একপর্যায়ে জনির অবস্থা খারাপ হলে ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে অবস্থা আরও খারাপ হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই ঘটনায় ২০১৪ সালের ৭ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে নির্যাতন ও পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে পল্লবী থানার ওসি জিয়াউর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহত জনির ছোট ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রকি।

২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম মারুফ হোসেন ৫ জনকে অভিযুক্ত এবং ৫ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্তকালে পুলিশের এএসআই রাশেদুল ও কামরুজ্জামান মিন্টুকে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা। এ মামলায় ২৪ জনের সাক্ষ্য নিয়েছেন আদালত।



 

Show all comments
  • Mohd Saiful ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ২:৩৮ এএম says : 0
    অনেক দিন পরে একটা ভালো নিউজ পড়লাম,ধন্যবাদ সেই বিচারপতিকে।এদেশে মানুষের সপ্ন ভাঙার মূল হোতা পুলিশ।চুরি ডাকাতি খুন মার্ডার মাদক ব্যাবসা সবকিছুতে ৮০% পুলিশ সদস্য জড়িত।
    Total Reply(0) Reply
  • Didarul Alam ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ২:৩৮ এএম says : 0
    রায়ে খুশী হয়েছি।তবে একটা কথা আছে।আইনগুলো মনে হয় তৈয়ার করা হয় রাষ্ট্রের কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে যত কম শাস্তি দিয়ে পারা যায় সে চিন্তা মাথায় রেখে।আদালতে কি সন্দেহাতীতভাবে প্রমান হয়নি যে এরা নিরাপরাদকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে? যদি প্রমান হয় তাহলে মৃত্যুদন্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কেন? আমাদের দেশে মৃত্যুদন্ডের আইনতো রহিত করা হয় নাই।অন্যায়ভাবে একটা মানুষকে হত্যা করা হয়েছে আর তার প্রমাণিত হত্যাকারী কারাদন্ড নিয়ে বেঁচে থাকবে।নিহতের তো বেঁচে থাকার অধিকার ছিল।তাহলে খুনিরা কোন অধিকারে বেঁচে থাকে?
    Total Reply(0) Reply
  • Shamim Mahmud ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ২:৩৯ এএম says : 0
    বিচারপতিরা স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পরলে বিচার বিভাগের উপর জনগনের আস্থা ফিরে আসবে। যেহেতু,এ মামলার বাদী তথা ভিক্টিমের পরিবার জামায়াত-বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত না, বিবাদীও সরকার দলের কর্মী বা সমর্থক না, তাই বিচারপতি সাহেব উপর মহলের কোন রকম চাপ ছাড়াই এমন একটি রায় প্রদান করতে পেরেছেন।
    Total Reply(0) Reply
  • Md Enamul Haque Nabi ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ২:৩৯ এএম says : 0
    আরে ভাই এখানে এত লাফালাফির কি আছে। তিন জন পুলিশকর্মীর যাবজ্জীবনের জেল হওয়ায় সারা বাংলাদেশে আনাচে কানাচে অপরাধের শাস্তির বিধানকে ঢালাও ভাবে ধামা চাপা দিতে চান। এটাই মানুষকে বোঝাতে চেয়েছেন তারা যা ইচ্ছে তাই করে থাকেন। এই জন্যই আমি বলি পৃথিবীতে একটা দেশ আছে যেখানে বিচার বিভাগ সাধীন নয় আর সেটা হলো মোদের বাংলাদেশ।
    Total Reply(0) Reply
  • Trishna Sarkar Ame ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ২:৪০ এএম says : 0
    একে বলে সুবিচার! আশা করবো এই রায়ের ফলে পুলিশের হাতে বিচার বিভাগীয় হত্যাকাণ্ড কম ঘটবে!
    Total Reply(0) Reply
  • Imran Khan ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ২:৪০ এএম says : 0
    যে দেশে একটা হত্যা মামলার রায় হতে সময় লাগে ২৫-৩০ বছর, আর রায় কার্যকর তো হয়ই না। হাশরের শেষ বিচারের দিনই সবাই ন্যায়বিচার পাবে।
    Total Reply(0) Reply
  • Abu Sufian Sumon ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ২:৪১ এএম says : 0
    কঠিন দুর্দান্ত প্রতাপশালী স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে যে মহান বিচারকগণ আজকে এ রায় দিল। তা জাতির জন্যে একটি গৌরবজ্জল অধ্যায়।।
    Total Reply(0) Reply
  • salman ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৫:০৯ এএম says : 0
    FASHI Holo na keno?? Ora tu KHUNI? LAW change kora jeto, keno Juddho Oporadhi bolay LAW change koray FASHI delo na, Tobay ai 3 .............. ......... k noy keno??
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammed Shah Alam Khan ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১১:১১ পিএম says : 0
    যদিও রায় পেতে ৬ বছর লেগেছে তারপরও রায় হয়েছে হত্যার রায় তাও আবার নিরাপদ স্থান পুলিশের কার্যালয়ে। নিরপরাধ ব্যাক্তিকে নির্যাতন করে পুলিশ কর্তৃক হত্যার বিচার যাবজ্জীবন কারাদন্ড মানালো না।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পুলিশ


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ