Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫, ১৫ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

কাদের সিদ্দিকীর মুক্তিযুদ্ধের বীরত্ব নিয়ে জনগণ প্রশ্ন তুলবে : হানিফ

প্রসঙ্গ বিএনপির জাতীয় ঐক্য

প্রকাশের সময় : ৯ আগস্ট, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়ায় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বীরত্ব নিয়ে জনগণ প্রশ্ন তুলবে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।
গতকাল সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে কাদের সিদ্দিকীর নাম না নিয়ে তিনি একথা বলেন। বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৮৬তম জন্মবাষির্কী উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ।
মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, আমাদের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা দূতিয়ালি করার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসনের সাথে বৈঠকও করেছেন। এরপর তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আমরা বলেছি জামায়াতের সঙ্গ ছাড়লে আমরা বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করতে পারি। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যার বিরোধিতা করলে আমি সহ্য করবো না আবার মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরোধিতা করলেও আমি মানতে রাজি নই।
মুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে উদ্দেশে করে হানিফ বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহেব আপনার এই মুক্তিযোদ্ধা (জিয়াউর রহমান) বঙ্গবন্ধু হত্যার যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি করার অধিকার ও মন্ত্রী বানিয়ে বাংলাদেশের ৩০ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধার আত্মাকে পদদলিত করেছেন। আর সেই মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর প্রতি আপনার (বঙ্গবীর) এত দরদ কেন?
আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, আপনি যদি রাজনীতি করতে চান ন্যায়নীতি ঠিক করেন। মুক্তিযুদ্ধের অবদানের জন্য আমরা আপনাকে সম্মান জানাতে চাই। কিন্তু এ দেশের রাজনীতিতে স্বাধীনতার পক্ষে কে, বিপক্ষে কে সেটা প্রমাণিত। যারা ৭১ যুদ্ধাপরাধীদের দোসর এবং তাদের লালন-পালন করছেন; তাকে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী বলে রাজনীতি করতে চান। তাহলে আপনার সম্পর্কে জনগণের অন্যরকম ধারণার সৃষ্টি হবে। আপনার মুক্তিযুদ্ধের বীরত্ব নিয়ে জনগণ প্রশ্ন তুলবে। আমার অনুরোধ আপনি এই পথে পা দিবেন না। শুধুমাত্র খবরে শিরোনাম হওয়ার জন্য এ ধরনের খেলা থেকে বিরত থাকবেন আপনি।
হানিফ বলেন, হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর জাতি যখন জঙ্গি প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ তখন কিছু রাজনৈতিক দলের রাজনীতি করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা মনে করছে। আপনারা লক্ষ্য করবেন, একটি রাজনৈতিক দল যাদের কোন অস্তিত্বও নেই তারা আবার দূতিয়ালির ভূমিকা পালন করছে। ওনারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জনের সঙ্গে বৈঠকও করছেন।
বিএনপির নবনির্বাচিত কমিটির সমালোচনা করে হানিফ বলেন, বিএনপির এই কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে যুদ্ধাপরাধের সাজাপ্রাপ্ত আসামীর সন্তান, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িত ও জঙ্গিবাদের লালন-পালনকারীদের। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে বিএনপি কখনও জামায়াত ছাড়তে পারবে না। এরা আদর্শগতভাবে এক ও অভিন্ন। তাই যারা বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল হিসাবে ভাবছেন তাদের সেই সময় সময় শেষ হয়ে গেছে বলে আমি মনে করি।
গুলশান হত্যাকা-ের মাধ্যমে সরকার পতনের ষড়যন্ত্র হয়েছিল উল্লেখ করে হানিফ বলেন, গুলশানে ১৭ জন বিদেশী নাগরিককে হত্যার মাধ্যমে সরকারকে আঘাত করে সরকার পতনের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী দক্ষতার সঙ্গে এই সন্ত্রাসী কর্মকা- মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছেন। এই হামলার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করা হচ্ছে। এছাড়াও যারা দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি কর্মকা- করেছে তাদেরকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
হানিফ বলেন, সন্ত্রাসী ও জঙ্গি হামলার মাস্টারমাইন্ড করা তারাও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে বের হচ্ছে। অচিরেই আমরা এই সকল হামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে বিচারের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের শিকড় উপড়ে ফেলতে সক্ষম হবো।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, বিএনপি আজ ঐক্যের ধুয়ো তুলে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদকে রক্ষা করতে চায়। কারণ, এই সন্ত্রাসী ও জঙ্গি বিএনপি জামায়াতের সৃষ্টি। তাই তারা ধরা পড়লে বিএনপির মুখোশ উন্মোচিত হয়ে যাবে। এ কারণে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের রক্ষা করার জন্যই ঐক্যের ধুয়ো তুলেছে বিএনপি।
স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য র আ ম উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী, আমিনুল ইসলাম আমিন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ, সহ-সভাপতি মঈনউদ্দিন মঈন, সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল হাসান জুয়েল প্রমুখ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।