Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১২ কার্তিক ১৪২৭, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান চলবে না: মেয়র ফজলে নূর তাপস

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৪:৫৯ পিএম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, ব্যাটারিচালিত কোন রিকশা-ভ্যান আর সড়কে চলবে না। এখন থেকে এগুলো নিষিদ্ধকরা হয়েছে। এধরনের রিকশা বা যানবাহন ডিএসসিসি’র সড়কে পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রবিবার নগর ভবন প্রাঙ্গণে রিকশা, ভ্যান, ঠেলা গাড়ি, টালি গাড়ি ও ঘোড়ার গাড়ি নিবন্ধন, নবায়ন ও মালিকানা পরিবর্তন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র একথা বলেন।
মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, রিকশা আমাদের ঐতিহ্য। ঢাকা শহরকে অনেক কবি সাহিত্যিক ‘সিটি অব রিকশা বা রিকশার নগরী’ বলে চিত্রিত করেছেন। রিকশাসহ আমাদের যে ধীরগতির অযান্ত্রিক যানবাহনগুলো রয়েছে, সেগুলোকে নতুন করে আমরা নিবন্ধন ও নবায়নের আওতায় আনছি। এর মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা আনা আমাদের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, নিবন্ধন ছাড়া আর কোন যানবাহনকে ঢাকা শহরে চলাচল করতে দেওয়া হবে না। এরই মাঝে ডিএসসিসি এলাকার সড়কগুলোতে যানবাহনের কার্যকারিতা নিরুপণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর ফলে কোন সড়কে ধীরগতির যানবাহন চলবে, কোন সড়কে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল করবে, এগুলো আমরা নির্ণয় করব। এই নিবন্ধন কার্যক্রমের মাধ্যমে ধীর গতির যানবাহনগুলো নিবন্ধনের আওতায় আসবে।
মেয়র বলেন, এটা শুধু নিবন্ধন কার্যক্রমই নয়। এই কার্যক্রম নির্বাচনী ইশতেহারে বর্ণিত সচল ঢাকা গড়তে পরিকল্পনার প্রথম ধাপ। সুনির্দিষ্টভাবে অযান্ত্রিক যানবাহনগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় এনে আমরা তাদের সড়ক নির্ধারণ করে দেবো এবং চালকদেরও আমরা নিবন্ধনের আওতায় আনব। এর ফলে অযান্ত্রিক যানবাহনগুলো সুশৃঙ্খলভাবে যাতায়াত ব্যবস্থার আওতায় আসবে।
রিকশাসহ অযান্ত্রিক যানবাহনগুলোকে নিবন্ধন দেয়ার মাধ্যমে যানজট নিরসনে ইতিবাচক ভূমিকার চাইতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএসসিসি মেয়র বলেন, আমার নির্বাচনী ইশতেহারে সচল ঢাকা গড়ার যে রূপরেখা দিয়েছি, সে পরিকল্পনায় যেমনি দ্রুতগতির যানবাহন থাকবে তেমনি ধীরগতির অযান্ত্রিক যানবাহনও থাকবে বলে উল্লেখ করেছি। এই ঢাকা শহরের দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় রিকশা ও অযান্ত্রিক যানবাহনের কোন নিবন্ধন দেয়া হয়নি। তাই বলে কি ঢাকায় রিকশা চলে না? বাস্তবতা হলো, ঢাকায় রিকশা চলে এবং সেগুলো সবই অবৈধভাবে চলে। আর নিবন্ধনের আওতায় আনা মানে অযান্ত্রিক যানবাহনকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা। আমরা এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট সংখ্যক রিকশা-ভ্যান তথা অযান্ত্রিক যানবাহনকে নিবন্ধন প্রদান করবো।
ডিএসসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল হকের সঞ্চালনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম আমিন উল্লাহ নূরী এ সময়ম অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. বদরুল আমিন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (ডা.) শরীফ আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী রেজাউর রহমান, ডিএসসিসি সচিব আকরামুজ্জামান, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাগণ এবং করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ডিএসসিসি'র আওতাধীন এলাকায় অযান্ত্রিক যানবাহন নিবন্ধন, নবায়ন ও মালিকানা পরিবর্তনের জন্য করপোরেশন ইতোমধ্যে এক গণবিজ্ঞপ্তি প্রচার করেছে। আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ১৩ সেপ্টেম্বর হতে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখ পর্যন্ত নগর ভবনের ভা-ার ও ক্রয় বিভাগ এবং আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোর দফতর থেকে অফিস চলাকালে নিবন্ধন/নবায়ন/মালিকানা পরিবর্তনের জন্য ১০০ টাকার (অফেরতযোগ্য) বিনিময়ে আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবেন। গৃহীত আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে যোগ্য বিবেচিত হওয়া আবেদনগুলোর অনুকূলে নির্ধারিত ফি জমাদান সাপেক্ষে নিবন্ধন প্রদান করা হবে। প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তি অনুসারে ১৩ সেপ্টেম্বের থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মোটর, যন্ত্র, ইঞ্জিন ও ব্যাটারিচালিত রিক্সা-ভ্যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ধরণের যানবাহন নিবন্ধন প্রদান করা হবে না এবং এই ধরণের সকল অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



 

Show all comments
  • Helal Khan ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৭:২০ পিএম says : 0
    এই আইনের বাস্তবায়ন চাই
    Total Reply(0) Reply
  • Taher ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৯:৪০ পিএম says : 0
    খুব ভালো উদ্দগ রিক্সার কারনে ঢাকা আজ অচল, লাখো লাখ রিক্সা সার কার তাক্স পায়েনা, এখন ভি ই পি রাস্তায় হরদম চালসে
    Total Reply(0) Reply
  • তোপাজল ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৩:১৬ পিএম says : 0
    এদেশে গরিবের ওপর রাজনিতি সবাই পারে বাপের বেটা হলে পোকিতো মানুষ হলে তাপস সারকে বলছি আজ এ মানুষ গুলো কাছ থেকে শুনুন ৮০ভাগ মানুষ কাজ হারিয়ে অবসেসে সাধিন একটা কাজ নিয়েছে জে কাজ সেষ করে বেতন চাইতে হয়না কাজ শেষ করে কিছু পয়সা নিয়ে তারা বাজার খায় আর এগাড়ি গুলো কেউ কিশতিতে কিনছে তার কিশতি দিতে হয় এ মানুষ গুলো বুক পেটে মারা জাবে আসেন তাদের আকোতি গুলো শুনেন এদের কিছু নাদেন এদের রিজিক কেরে নিয়েননা শেখ হাসিনা গরিবের পাশে দাড়ায় কিনতো আপনার মতো কিছু লোকের কারোনে তার ভালোকাজ গুলো ডেকে জায়
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ