Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ০৮ ভাদ্র ১৪২৬, ২১ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

মাদারীপুরে অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ১০ আগস্ট, ২০১৬, ১২:০০ এএম

মাদারীপুর জেলা সংবাদদাতা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন বৃদ্ধি করে বর্তমান সরকার রেকর্ড সৃষ্টি করলেও থেমে নেই ঘুষ-দুর্নীতি আর সরকারি অর্থ লোপাটের ঘটনা। আশাতীত বেতন পেয়েও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের কেউ-কেউ ঘুষ-দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ লুটপাটে মেতে ওঠেছে। জানা যায়, বর্তমান সরকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘২০১৫-১৬ অর্থ বছরে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২য় পর্যায়ের প্রকল্প’ হাতে নেয়। সরকার মাদারীপুর জেলায় চল্লিশ দিনের এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ১৫৩টি প্রকল্প হাতে নিয়ে ৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ করে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩৭ প্রকল্পের জন্য ১ কোটি ৫৩ লাখ ৩৬ হাজার, শিবচর উপজেলায় ৫৫ প্রকল্পের জন্য ১ কোটি ৭৬ লাখ ৫৬ হাজার, কালকিনি উপজেলায় ৪৩ প্রকল্পের জন্য ১ কোটি ১৯ লাখ ৪ হাজার এবং রাজৈর উপজেলায় ১৮ প্রকল্পের জন্য ১ কোটি ১১ লাখ ১২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এসব প্রকল্প ৩০ এপ্রিল ২০১৬ হতে ২০ জুন ২০১৬ তারিখ অর্থাৎ ৪০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়। সরকারি নির্দেশ পাওয়ার পর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের কিছু লোক দ্বারা সিপিসি কমিটি গঠন করে নির্ধারিত তারিখের মধ্যে নামকাওয়াস্তে কাজ করে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন দেখায়। প্রকল্পে উল্লেখ রয়েছে স্থানীয় অতি দরিদ্রদের দিয়ে দৈনিক ২শ’ টাকা মজুরি হিসেবে কাজ করাতে হবে। উল্লিখিত মজুরি সুবিধাভোগিরা ব্যাংকের মাধ্যমে পাবে। অথচ হত দরিদ্ররা জানেই না যে, তাদের জন্য এ ধরনের প্রকল্প এসেছে। এদিকে ব্যাংক হিসেবের মাধ্যমে যাদের মজুরী পরিশোধ দেখানো হয়েছে তাদের অধিকাংশ সিপিসি‘র আত্মীয়-স্বজন। পাশাপাশি মাস্টার রোল দাখিলের সময় স্থানীয় অতি দরিদ্রদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের সময় যখন জেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত, এই সুযোগে অধিকাংশ ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বাদের না জানিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের যোগসাজসে মনগড়া সিপিসি গঠন করে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন দেখিয়ে প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা লোপাট করে। প্রকল্প বাস্তবায়নে বিধান রয়েছে, সংশ্লিষ্ট স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান/মেম্বার/মহিলা মেম্বার দ্বারা সিপিসি গঠন করতে হবে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। এমন অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। সংশ্লিষ্ট ৪ উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে দেখা গেছে, কিছু প্রকল্পে ২০ থেকে ২৫ ভাগ কাজ করা হলেও অধিকাংশ প্রকল্পে কোন কাজই করা হয়নি। অথচ নির্ধারিত ৪০দিনের মধ্যে সবগুলো প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে। এভাবেই জেলার ১৫৩টি প্রকল্পের প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা লোপাট করা হয়। এ ব্যাপারে সদর উপজেলা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘নিয়মানুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এলাকার অতি দরিদ্রদের দ্বারা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এখানে কোন ধরনের অনিয়ম করা হয়নি এবং অনিয়ম করার কোন সুযোগ নেই।’ রাজৈর উপজেলা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান অর্থ লোপাট ও অনিয়মের কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘রাজৈরে পাইলট প্রকল্পের কাজ সবকিছু করা হয়েছে নিয়ম মাফিক। শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করা হয়েছে নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে। এখানে কোন ধরনের অনিয়ম করা হয়নি এবং অনিয়ম করার কোন সুযোগ নেই। তা ছাড়া সিপিসি গঠন করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও মহিলা মেম্বারদের দ্বারা।’ কালকিনি এবং শিবচর উপজেলা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন কর্মকর্তারাও অর্থ লোপাট ও অনিয়মের কথা অস্বীকার করেছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন