Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ আশ্বিন ১৪২৭, ০৮ সফর ১৪৪২ হিজরী

মিড-ডে মিলের ব্যবস্থাপনা শিখতে কিছু টাকা ধরা হয়েছে এ নিয়ে হৈ চৈ: প্রশ্ন গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৪:৪৯ পিএম

খিচুরি রান্না নয়, শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিল কিভাবে দেয়া হয় সেই ব্যবস্থাপনা শিখতেই কর্মকর্তাদের বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। তিনি বলেন, প্রত্যেকেরই সিনিয়রদের কাছে শিখবার প্রয়োজন আছে। যে কারণে এ বিষয়ে কিছু টাকা ধরা আছে। এটি বিশাল কোনো ক্ষতিকর ব্যবস্থা না, এটা প্রস্তাব। পরিকল্পনা কমিশন ও একনেক দেখবে, সংস্কার করবে। এটা নিয়ে হৈ চৈ করার মত কোনো অবস্থা নেই। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

খিচুরি প্রকল্প নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতায় আসা বিএনপি-জামায়াতের লোকজনের কোনো জ্ঞান নেই বলে তারা হুট করে লিখে দিচ্ছে; সরকারের ভাবমূর্তি নিয়ে তারা চিন্তা করে না। তাদের কোনো জ্ঞান-গরিমা নেই, একটা হুট করে লিখে দিয়েই বোধহয় হয়ে গেল। সরকারের ভামমূর্তি কোথায় গেল না গেল এরা তা দেখে না। খিচুড়ি রান্না শিখতে কর্মকর্তাদের বিদেশে পাঠানো হবে শিরোনামে খবর প্রকাশ করায় মন্ত্রণালয় ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

বিএনপি মানুষকে উস্কে দিচ্ছে দাবি করে গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, এদের থেকে মুক্তি পেতে হবে এবং মানুষকে জানাতে হবে শেখ হাসিনার সরকার কখনো জনকল্যাণ ব্যতীত কোনো কাজ করে না। এখানেও মিড-ডে মিলের ভালো দিকের জন্য এটা করেছি। বাইরে গিয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার দরকার আছে কি নেই? প্রাইমারী স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষার্থী গ্রামে বসবাস করে। খেটে খাওয়া মানুষের বাচ্চারাই বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। অনেক বাচ্চা আছে পুষ্টিহীনতায় ভুগে, নানা অসুখ-বিসুখে ভুগে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নানাভাবে সহযোগিতা করছেন।

জাকির হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিস্কুট দেওয়া হয়। তাদের দুপুরে খাবার দেওয়ার চিন্তাভাবনা করেছি। ১৯ হাজার ২৮২ কোটি টাকার প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে, ১৬ উপজেলায় এই কর্মসূচি পাইলটিং করা হয়। ডবিøউএফপি আমাকে ভারত নিয়ে যায়। আমরা যখন পাইলটিং করতে চাই তখন চিন্তা করছিলাম সিস্টেমটা কী? দুই কোটি বাচ্চাকে জিনিসটি দিতে গেলে সিস্টেম কী? এই ধারণা নিতে আমি নিজে কেরালায় যাই। আপনারা এখানে যারা সাংবাদিক আছেন, প্রথম যখন সাংবাদিকতায় এসেছেন তখন কি সিনিয়র সাংবাদিকের কাছে বুদ্ধিপরামর্শ নেননি? তারা কীভাবে সংবাদ সংগ্রহ করে, সেই অভিজ্ঞতা কি নেননি?

১৯৪১ সাল থেকে কেরালায় স্কুলমিল চালু আছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেই অভিজ্ঞতা নেওয়ার জন্য আমি সেখানে যাই, তাদের বিভিন্ন প্রোগ্রাম দেখেছি। কীভাবে পরিচালনা করে তা দেখেছি। সেটা দেখে আমি এখানে পাইলটিং করেছি।

তিনি বলেন, বিএনপির রিজভী আহমেদ নানা ধরনের কথা বলছেন। তারা দেখেইনি, পড়েনি কিছু। ২০০৫ সাল থেকে শুরু করে কোনো সরকারের ইতিহাস নেই, জিয়াউর রহমানের নেই, খালেদা জিয়ার নেই, কেউ শিক্ষা নিয়ে কথা বলেনি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম-আল-হোসেন জানান, ৫০৯টি উপজেলার প্রত্যেক উপজেলা থেকে একজন করে কর্তকর্তাকে দেশের বাইরে পাঠানোর বিষয়ে প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু পরিকল্পনা কমিশন দুটি টিম করে কর্মকর্তাদের বিদেশে পাঠানোর সুপারিশ করেছে। এই দুই টিমে ২০ বা ৩০ জন যেতে পারেন। একনেক-এ যখন অনুমোদন হবে তখন প্রতিটি বিষয় আমাদের বিশ্লেষণ করে ব্যাখ্যা দিতে হবে। এটার এখনও দুটি ধাপ বাকী আছে। প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বিস্কুট দেওয়ার অভিজ্ঞতা থাকলেও ৬৫ হাজার ৬২০টি স্কুলে গরম খাবার দেওয়ার অভিজ্ঞতা না থাকায় সেই ব্যবস্থাপনা দেখতে কর্মকর্তাদের বিদেশ পাঠানোর প্রস্তাব করা হয় বলে জানান গণশিক্ষা সচিব।

 



 

Show all comments
  • Mohammed Shahab Uddin Akand ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৫:২৪ পিএম says : 0
    I think, it will be the best and cost effective if some educated and F&B related people from Bangladeh Parjaton Corporation to be sent for gaining clear idea of Mid-meal and then they will teach to all related people of primary education ..............
    Total Reply(0) Reply
  • saif ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৫:৪৩ পিএম says : 0
    স্যার বাংলাদেশের মানুষ কি এতই বোকা যে খাবার পরিবেশেন এবং এর পুষ্টি গুনের পরিমাণ নির্নয় করার জ্ঞ্যান টুকুও নেই??? ছিঃ কি লজ্জার;;;;
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammed Shah Alam Khan ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৯:২৯ পিএম says : 0
    খিচুরি রান্না নয়, শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিল কিভাবে দেয়া হয়... শিখতেই... বিদেশে পাঠানোর... কিছু টাকা ধরা আছে... এটি বিশাল কোনো ক্ষতিকর ব্যবস্থা না। এসব কথা বলেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। ওনার কথা শুনে আমার একটা কথা মনে পরে সেটা হচ্ছে ছোট শিশুরা জানেনা কিভাবে উন্নত টয়লেট ব্যাবহার করত হয় যে কারনে স্বাস্থের প্রচুর ক্ষতি সাধান হয়। এই জন্যে এখন জাকির সাহেবের উচিৎ হবে শিশুদের টয়লেট ব্যবহার সিনিয়রদের কাছে শিখবার প্রয়োজনে ওনার কর্মকর্তাদেরকে বিদেশে পাঠানো উচিৎ।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন