Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭, ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

প্রশ্ন ঃ তাকওয়া অর্জনে রোজার ভূমিকা কি?

| প্রকাশের সময় : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১২:০১ এএম

উত্তর : রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে শুভাগমন মাহে রমজানুল মোবারক। এ মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত বছরে অন্যান্য মাসের চেয়ে অত্যাধিক ও ব্যতিক্রম। কেননা মানবজাতির মুক্তির সনদ ও দিকনির্দেশনা হিসেবে পবিত্র কুরআনুল কারিম এ মাসে অবর্তীণ হয়েছে। এ মাসে একটি ফরজ আদায় করলে অন্য মাসের সত্তরটি ফরজ আদায়ের সমতুল্য। তাছাড়া এ মাসে এমন একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এভাবে রমজান মাসকে মহান আল্লাহ তায়ালা অসাধারণ বৈশিষ্ট্য দিয়ে সমুজ্জল করেছেন। মাহে রমজানের সিয়াম সাধনাকে আল্লাহ তায়ালা মনুষ্য জাতির নৈতিক ও চারিত্রিক কল্যানের ধারক-বাহক বানানোর নিমিত্তে রোজা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, প্রাপ্ত বয়স্ক, বিবেকবান সুস্থ মানুষের উপর ফরজ করে দিয়েছেন। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে তাঁর বান্দাগণ নিজের নফসকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে তথা গুনাহে ভরা গন্ধে কলুষিত অন্তর সাফ করে মানবিক শক্তিকে প্রবল করে তথা তাকওয়া বা পরহেজগারি অর্জন করাই হচ্ছে সিয়াম সাধনার মূল উদ্দেশ্য। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ ফরমান- “হে ঈমানদারগণ তোমাদের উপর রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” (সূরা বাকারা-১৮৩)। বর্ণিত আয়াতে তাকওয়া বলতে অন্তরের সেই অবস্থাকে বোঝায়, যা অর্জন করার পর যাবতীয় গুনাহ সমূহকে সর্বাত্মকভাবে অন্তর ঘৃনা করে এবং গুনাহের প্রতি বৈরীভাবের উদয় ঘটে, একই সাথে নেক আমল ও কাজের প্রতি অন্তরে শুরু হয় তীব্র আকর্ষণ। আর এমন অনুভূতি ও অনুপ্রেরণা তৈরি হওয়াই রোজার মূল লক্ষ্য। রোজা রাখার বিধান শুধু এ যুগেই নয় বরং সর্ব যুগেই প্রচলন ছিল। আমাদের আদি পিতা হযরত আদম (আ.) হতে শুরু করে শেষ নবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত নবি-রাসূল সকলেই রোজা পালন করেছেন। রোজা এমন একটি ইবাদত যার অভ্যন্তরীণ বিষয় মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ জানে না। যার কারণে এ ইবাদতের সওয়াব অনির্ধারিত। কেননা রোজা একমাত্র আল্লাহর জন্য আর আল্লাহ নিজেই এর প্রতিদান দিবেন বলে ব্যক্ত করেছেন। হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত আল্লাহ তায়ালা বলেন, “রোজা আমার জন্য, আর আমি নিজেই এর প্রতিদান দিব”। (বুখারী শরীফ)। হযরত বড় পীর আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) বলেছেন “মাহে রমজানকে রমজান নাম রাখার কারণ হলো যে, এ মাস মানুষের শরীরকে গুনাহ থেকে মুক্ত করে এবং অন্তরকে পূত পবিত্র করে।” (গুনিয়াতুত্বালেবিন:৩৭১)। মানুষ সাধারণত লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, ক্রোধ-ক্ষোভ হয়ে অন্যায়ের দিকে ধাবিত হয়। রোজা এ সকল অন্যায় কর্ম থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দেয়। কারণ রোজ হলো ব্যক্তি ও তার দ্বারা অন্যায়ের মাঝে ঢালস্বরূপ। যেমন হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, রাসূল (সা.) বলেছেন “রোজা ঢাল স্বরুপ”। (বুখারি ও মুসলিম) অর্থাৎ রোজা যাবতীয় অন্যায় হতে রোজাদারকে ঢালের মত রক্ষা করে, যদি রোজা রাখা হয় নিরেট একমাত্র আল্লাহর জন্য। অপর বর্ণনায় নবীজি (সা.) আরও বলেন, যে ব্যক্তি রোজা রাখে তার উচিত কটু কথা না বলা, রাগ না করা, এমনকি কেউ যদি তার সাথে ঝগড়া ফ্যাসাদের জন্য প্রবৃত্ত হয়, তাকে গালিও দেয় তবে সে যেন একথাই বলে যে, আমি রোজাদার। (বুখারী, মুসলিম ১/৪২৭, নাসায়ী শরীফ:২৫৫)। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, হযরত নবি করিম (সা.) ইরশাদ ফরমান, যে ব্যক্তি পবিত্র রমজান মাসে ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রোজা রাখবে, এবং রাতে ইবাদত তথা তারাবির নামায আদায় করবে তার অতীতের পাপসমূহ মার্জনা করা হবে। (বুখারি শরিফ হাদিস-২০০৯)।

উত্তর দিচ্ছেন : হাফেজ নুর মোহাম্মদ



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রোজা


আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ