Inqilab Logo

ঢাকা শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১১ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

মির্জাপুরে মাদকের টাকা না পেয়ে স্ত্রী, শ্বশুর-শ্বাশুড়ি ও জেইটাসকে কুপিয়ে আহত স্বামী আটক

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১২:১২ এএম

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নেশার টাকা না পেয়ে স্বপন মিয়া (২৫) নামে মাদকাসক্ত স্বামী তার স্ত্রী, শ্বশুর-শ্বাশুড়ী ও জেইটাসকে (স্ত্রীর বড় বোন) কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের স্বল্প মহেড়া তালুকদারপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। 

আহতরা হলেন স্ত্রী শিলা আক্তার (১৯) শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম শিরু (৬০) শ্বশুড়ি সূর্যভানু (৫৫) ও জেইটাস রাজিয়া আক্তার ফুলে (২৫)। আহতদের মূমুর্ষূ অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থার অবনিত হলে রাতেই তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে মহেড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাদশা মিয়া জানিয়েছেন।
এদিকে এই ঘটনার পর মাদকাসক্ত জামাই স্বপনকে স্থানীয় জনতা একটি ঘরে আটকে রাখে। খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক স্বপনকে থানায় নিয়ে আসতে চাইলে টাকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে বলে উত্তেজিত জনতা পুলিশকে ঘিরে রাখে। পরে মির্জাপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে রাত এগারোটার দিকে স্বপনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত ছয় মাস আগে উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের গুরান গ্রামের স্বপন মিয়ার সঙ্গে পাশ্ববর্তী মহেড়া ইউনিয়নের স্বল্প মহেড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলাম শিরু মিয়ার মেয়ে শিলা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্ত্রী শিলা আক্তার জানতে পারে তার স্বামী মাদকাসক্ত এবং পূর্বেও একটি বিয়ে করেছিল। মাদকাসক্ত স্বপন বিয়ের কিছু দিন পর থেকে শ্বশুর বাড়ি থেকে টাকা এনে দেয়ার কথা বলে মাঝে মধ্যে স্ত্রী শিলা আক্তারকে শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে। গত এক মাস আগে এক লাখ টাকা দাবি করে তা এনে দিয়ার জন্য স্ত্রী শিলার উপর নির্যাতন করলে সে বাপের বাড়ি চলে আসে।
বৃহস্পতিবার স্বপন শ্বশুর বাড়ি গিয়ে স্ত্রী ও শ্বশুর-শ্বাশুড়ির নিকট পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করে। শ্বশুর ও শ্বাশুড়ি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্বপন ক্ষিপ্ত হয়ে তার কাছে থাকা দারালু ছুরি দিয়ে স্ত্রী, শ্বশুর-শ্বাশুড়ি ও জেইটাসকে এলোপাতাড়ী কুপাতে থাকে। এ সময় তাদের আত্মচিৎকারে আসপাশের বাড়ির লোকজন এগিয়ে এসে স্বপনকে একটি ঘরের মধ্যে আটক করে। খবর পেয়ে মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশারের নেতৃত্বে পুলিশ গিয়ে স্বপনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসতে চাইলে টাকা নিয়ে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেবে স্থানীয়রা একথা বলে স্বপনকে পুলিশের কাছে দিয়ে অস্বীকৃতি জানায়। এ সময় স্থানীয় চেয়ারম্যান বাদশা মিয়া স্থানীয় জনতাকে আশ্বস্ত করতে চাইলেও তারা স্বপনকে পুলিশের হাতে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে রাত সাড়ে দশটার দিকে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সায়েদুর রহমান ও পরিদর্শক তদন্ত গিয়াস উদ্দিনসহ অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে উত্তেজিত জনতার কাছ থেকে উদ্ধার করে স্বপনকে থানায় নিয়ে আসে।
মহেড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাদশা মিয়ার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, আহতদের অবস্থা সংকাটাপন্ন হওয়ায় টাঙ্গাইল সদর হাসপাতাল থেকে তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সায়েদুর রহমান মাদকাসক্ত স্বপনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসার কথা স্বীকার করেছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মাদক


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ