Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার , ২৬ জানুয়ারী ২০২০, ১২ মাঘ ১৪২৬, ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

আবাসিকে গ্যাসের দাম দ্বিগুণ করার প্রস্তাব গণবিরোধী-মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল

প্রকাশের সময় : ১০ আগস্ট, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার: আবাসিক ব্যবহারকারীদের গ্যাসের দাম দ্বিগুণ করার প্রস্তাব গণবিরোধী অভিহিত করে অবিলম্বে এই প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে নবগঠিত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল দলের এই উদ্বেগের কথা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, আমাদের বক্তব্য অত্যন্ত পরিষ্কার, প্রস্তাবিত গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রার ওপর কি প্রভাব ফেলবে সে বিষয়ে সকল স্টেকহোল্ডারদের মতামতের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা না করে গ্যাসের দাম বাড়ানো হবে চরম খামখেয়ালিপনা এবং জনগণের জীবনযাত্রায় মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবেই নেমে আসবে। অবিলম্বে এই গণবিরোধী গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবনা প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
গত সোমবার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আয়োজিত গণশুনানিতে বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইঞ্জিনিয়ার মীর মসিউর রহমান আবাসিক ব্যবহারকারীদের গ্যাসের দাম দ্বিগুণ করার প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।
এর মাধ্যমে এক চুলার মাসিক বিল ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১০০ টাকা এবং দুই চুলা ৬৫০ থেকে বাড়িয়ে ১২০০ টাকা করার প্রস্তাব তাদের।
গত বছর ২৭ আগস্ট গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ায় বিইআরসি। সে সময় এক চুলা ব্যবহারকারীদের ৬০০ টাকা এবং দুই চুলা ব্যবহারকারীদের ৬৫০ টাকা পরিশোধ করার কথা বলা হয়। আগে এক চুলা ব্যবহারকারীদের ৪০০ টাকা এবং দুই চুলার জন্য ৪৫০ টাকা পরিশোধ করতে হতো।
নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। সম্প্রতি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর থেকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আত্মগোপনে থাকায় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলাল এই প্রথম দলের মুখপাত্র হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে আসলেন।

বর্তমান সরকারের আমলে দফায় দফায় গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সমালোচনা করেন মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, মাত্র ৭/৮ মাস আগে সকল ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম একবার বৃদ্ধি করা হলো। বিইআরসির বিধিবদ্ধ আইনানুযায়ী এক বছরের আগে অথবা কম সময়ের মধ্যে দাম বাড়ানোর কোনো বিধিবদ্ধ আইন নেই। তাই এই প্রস্তাব বেআইনি ও গণবিরোধী।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, জিটিসিএল যেটা সমস্ত কোম্পানিকে একত্রিত করে বিধিবদ্ধ কোম্পানি করা হয়েছে, এই জিটিসিএল এখন কেন গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব আনলোÑ এটা দশের মানুষের কাছে বড় একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন।
জিটিসিএল বর্তমানে বার্ষিক মুনাফা হচ্ছে ৪শ’ কোটি টাকা। এই প্রতিষ্ঠানটি লোকসানি প্রতিষ্ঠান নয়। তাহলে কেনো তাদের আরো মুনাফার জন্য জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়া হবে, এ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন, চিন্তিত ও আমরা প্রতিবাদ করি। আমরা মনে করি, এরকম মুনাফা অর্জনকারী প্রতিষ্ঠানের গ্যাস সঞ্চালন চার্জ বৃদ্ধির আদৌও কেন প্রয়োজন নেই।
আলাল বলেন, সরকার ইতিমধ্যে আবাসিক কাজে নতুন গ্যাস সংযোগ দেয়া বন্ধ ঘোষণা করেছে। তাহলে কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের সুবিধাপ্রাপ্তির জন্য এই প্রস্তাব? এখন সরকার যদি ন্যূনতম জীবনমান ধারণের বেলায়ও জনগণের দুর্দশায় ফেলে শুধু মুনাফাখোরই হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে একদিন রাস্তায় নেমে আসবে।
বর্তমান সরকারের আমলে ৮ দফা গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির বিরূপ প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন যদি পুনরায় গ্যাসের দাম সর্বক্ষেত্রে বাড়ানো হয়, তাহলে রপ্তানি বাণিজ্যে সমস্যা দেখা দেবে এবং গোটা অর্থনীতিতে একটা বিরূপ প্রভাব ফেলবে। এটা ইতিমধ্যে ব্যবসায়ী সমাজও বলেছেন।
সরকার যদি জনগণকে সেবা দেয়ার পরিবর্তে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর মতো মুনাফার দিকে ঝুঁকে পড়ে সেটা সরকারের গণবিচ্ছিনতাই প্রমাণ করে। সেটা আমরা বারংবার বলে আসছি যে এই সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
গ্যাস ক্ষেত্রে বিদ্যমান দুর্নীতি রোধ করা গেলে গ্যাসের দাম বাড়াতে হবে না বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব।
সংবাদ সম্মেলনে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন জীবন, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, সহ-সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, আসাদুল করিম শাহিন, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, আব্দুুল আউয়াল খান, বেলাল আহমেদ, জালাল আহমেদ মজুমদার, জয়ন্ত কুমার কু-, সাইফুল ইসলাম পটু, শামসুজ্জামান সুরজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন