Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ৪ কার্তিক ১৪২৭, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

প্রজনন মৌসুমের আগেই সাগর মোহনায় ইলিশ

বরিশাল ব্যুরো : | প্রকাশের সময় : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১২:০০ এএম

আশ্বিনের মূল প্রজনন মৌসুমকে সামনে রেখে দক্ষিণ উপক‚লের সাগর মোহনায় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ডিমওয়ালা মা ইলিশের বিচরণ ও আহরণ। এতে আগামী বছর উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে মৎস্য বিজ্ঞানীদের। আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে আশ্বিনের বড় পূর্ণিমার আগে পরের ২২ দিন নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে সারা দেশে ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকবে।
গতবছরও ভাদ্রের মধ্যভাগের পরেই সাগর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে মা ইলিশ উপক‚লসহ দক্ষিণাঞ্চলের অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে উঠে আসায় ব্যাপকহারে জালে ধরা পরে। তবে এবার এখনো সাগরের ইলিশ অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে উঠে না এলেও উপক‚লীয় মোহনায় ব্যাপক বিচরণের কারণে তা ধরা পড়ছে। মৎস্যজীবীদের মতে, এবার দেশের উত্তর-মধ্যাঞ্চলে বন্যা ও ভাদ্রের বড় অমাবশ্যায় ফুসে ওঠা সাগরের ভয়াল জোয়ারের প্লাবনে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল প্লাবিত হয়। সেসব পানি প্রবল বেগে সাগরে পতিত হবার কারণে ইলিশ এখনো অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে উঠে আসছে না।
তবে আসন্ন প্রজননকালের আগেই যদি উত্তর বঙ্গোপসাগর থেকে মা ইলিশ উপক‚ল হয়ে অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে উঠে আসতে শুরু করে, তবে তা আরো বড় বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে বলে শঙ্কিত মৎস্য বিজ্ঞানীরা। মূল বর্ষা মৌসুমে কাক্সিক্ষত বৃষ্টি না হওয়ায় সাগরে পানির উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে মা ইলিশ আগাম উজানে ছুটে আসছে। এ ব্যাপারে ব্যাপক গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
বিজ্ঞানীদের সুপারিশ মেনেই সরকার আশ্বিনের প্রথম পূর্ণিমার আগের ৪ দিন ও পরের ১৭ দিনসহ মোট ২২ দিন ইলিশের মূল প্রজননকাল হিসেবে চিহ্নিত করে। এসময় উপকূলের ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকার মূল প্রজননস্থলে সবধরনের মাছের আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে। পাশাপাশি সারাদেশের নদ-নদীতে ইলিশ আহরণ, পরিবহন ও বিপণন নিষিদ্ধ থাকবে।
জাতীয় অর্থনীতিতে ইলিশের একক অবদান এখন ১%-এরও বেশি। আর মৎস্য খাতে অবদান প্রায় ১২-১৩%। বিগত দুই দশকে ইলিশ নিয়ে নানামুখী পদক্ষেপের ফলে এর উৎপাদন ১.৯৮ লাখ টন থেকে ইতোমধ্যে সোয়া ৫ লাখ টন অতিক্রম করেছে। মূল প্রজননকালে ২২ দিন আহরণ-বিপণন নিষিদ্ধ ও জাটকা আহরণ ও বিপণনে নিষেধাজ্ঞা অন্যতম প্রধান ভ‚মিকা পালন করছে।
মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, সারা বিশ্বে উৎপাদন হ্রাস পেলেও বাংলাদেশে গত দেড় দশকে ইলিশ উৎপাদন প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে সারা বিশ্বে আহরিত ইলিশের প্রায় ৭৫% বাংলাদেশে, ১৫% ভারত ও মিয়ানমারে এবং থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ইরান ও ইরাকে অবশিষ্ট ইলিশ উৎপাদিত হয়ে থাকে। তবে গত বছর দেশে যে প্রায় সোয়া ৫ লাখ টন ইলিশ আহরিত হয়েছে, তার ৭০ ভাগই পাওয়া গেছে বরিশাল বিভাগের অভ্যন্তরীণ ও উপক‚লীয় জলাশয় থেকে। বরিশাল বিভাগে ইতোমধ্যে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে ১৫০% এরও বেশি।
গত দিন দশেক ধরেই মেঘনা, তেতুলিয়া, বলেশ্বর, আন্ধারমানিকসহ উপকূলের বিভিন্ন নদ-নদীর সাগর মোহনায় মা ইলিশের ব্যাপক বিচরণে জেলেদের জালে ধরাও পড়ছে। তবে এবার করোনা সঙ্কটে সারা দেশেই চাহিদা কিছুটা কম থাকায় জেলেরা দাম ভালো পায়নি। তবে গত সপ্তাহ থেকে ভারতে রফতানি শুরু হওয়ায় বাজারে এক কেজি সাইজের ইলিশের দাম বেড়েছে। বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা ও পিরোজপুরের ইলিশের মোকামগুলো সরব। সামনে নিষেধাজ্ঞা তাই আড়তদাররা জেলেদের খুব একটা দাদন বা আগাম টাকাও ছাড় করছে না। ফলে টাকার অভাবে ইলিশ আহরণে ততটা উৎসাহিত হচ্ছেন না জেলেরা। এরপরেও প্রতিদিন দক্ষিণাঞ্চলের আড়তগুলোতে নূন্যতম ১-৩শ’ টন পর্যন্ত ইলিশ নিয়ে ট্রলার আসছে। যার বেশিরভাগই মা ইলিশ।
মৎস্য অধিদফতরের বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক মূল প্রজনন কালের আগে অধিকহারে মা ইলিশ সাগর থেকে উঠে আসাকে ভাল লক্ষণ নয় বলে মন্তব্য করলেও তেমন কিছু করণীয় নেই বলেও জানান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: প্রজনন-মৌসুম
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ