Inqilab Logo

ঢাকা রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ৮ কার্তিক ১৪২৭, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

ভাঙন রোধে জিওটিউব স্থাপনের পরিকল্পনা

কুয়াকাটা সৈকত রক্ষায় অস্থায়ী প্রতিরোধের কাজ শেষ

মো. জাকির হোসেন, পটুয়াখালী থেকে | প্রকাশের সময় : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১২:০০ এএম

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতসহ এর তীরভূমিকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষার জন্য অস্থায়ীভাবে জরুরি ভিত্তিতে ৩২০০ জিওব্যাগ ফেলে প্রতিরোধের কাজ শেষ হয়েছে।
গত ২০ আগস্ট থেকে ২-৩ দিন চলমান অস্বাভাবিক জোয়ারের তান্ডবে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতসহ এর তীরভূমি ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সৈকতে যাওয়ার মূল সড়কটির কমপক্ষে ২৫ ফুট ভেঙে গিয়ে ঝুঁকির মধ্যে পড়ে ঐ সড়কের পূর্ব পাশের মসজিদ, মন্দির এলাকা, পশ্চিম পাশের পর্যটন পুলিশের ছাউনি, এর লাগোয়া পৌর শৌচাগার। সৈকতের পূর্ব পাশের ফার্মস এন্ড ফার্মস লিমিটেড নামের বাগানের বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ওপড়ে পড়ে। পর্যটন পার্ক, পাশের জাতীয় উদ্যানের অসংখ্য ঝাউগাছ উপড়ে যায়। ভাঙনের তীব্রতায় সৈকতের জিরো পয়েন্টের বালুর নিচে থাকা সাবমেরিন কেবলের আর্টিকুলেটেট পাইপলাইন বের হয়ে পুনরায় হুমকির মুখে পড়ে যায় সাবমেরিন কেবলের ইন্টারনেট সেবা। ভাঙনের কারণে সৈকতের ভ্রাম্যমান সব দোকানগুলো সৈকত থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। সৈকত লাগোয়া কিংস হোটেলটির কিছু অংশ বিলীন হয়ে যায়। ঢেউয়ের ঝাপটায় কুয়াকাটার বন্যানিয়ন্ত্রন বাঁধ চরম ঝুঁকিতে পড়ে।
এদিকে এ ভাঙনের ফলে হুমকির মধ্যে থাকা দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ সাগর পাড়ের ভাঙন স্থায়ীভাবে প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা না হলে এ ভাঙন ক্রমাগত বিস্তার লাভ করে সংলগ্ন বেড়িবাঁধ ভেঙে সাবমেরিন ক্যাবল সিস্টেমের বিচম্যানহোলটি হুমকির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে পানিউন্নয়ন বিভাগকে ২৩ মার্চ চিঠি প্রদান করেন। সেখানে তারা উল্লেখ করেন, বিচম্যানহোলটি কোন কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে কুয়াকাটা সাবমেরিন ক্যাবল সিস্টেমটি বন্ধ হয়ে যাবে। যাতে দেশের ইন্টারনেট ও আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সেবা ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
গত ২৪ আগস্ট কুয়াকাটা সাবমেরিন ল্যান্ডিং স্টেশনের বিচম্যানহোল রক্ষায় সৈকত সংলগ্ন রাস্তার ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে পানি উন্নয়ন বিভাগকে চিঠি শিরোনামে দৈনিক ইনকিলাবের অনলাইনে খবর প্রকাশিত হয়।
পরবর্তীতে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক গত ২৯ আগস্ট কুয়াকাটার ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। ভাঙন এলাকা পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী বলেন, কুয়াকাটা ও কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে আর্ন্তজাতিকমানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সচিব ও মহাপরিচলকসহ একটি প্রতিনিধি দল নেদারল্যান্ড ভ্রমন করেছেন। নেদারল্যান্ড নদী ও সমুদ্রের ভাঙন রোধে যে ধরণের প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, নেদারল্যান্ডের সে প্রযুক্তি ব্যবহার করে টেকসই বাঁধসহ সৈকতের ভাঙন রোধে প্রকল্প নেয়া হবে।
এ দিকে কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, ‘সৈকতের পূর্ব ও পশ্চিম দিকের ২৭০ মিটার তীরভূমি রক্ষার জন্য জরুরি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তা ছাড়া ভাঙন রোধে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে আপাতত ৩২৬ মিটার এলাকায় তিন হাজার ২০০টি বালু ভর্তি জিওব্যাগ ফেলে অস্থায়ীভাবে প্রতিরোধের কাজ করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরোও জানান, মন্ত্রী মহোদয় পরিদর্শনকালে কুয়াকাটা সাগর সৈকতের ভাঙন রোধে নতুন করে জিওটিউব স্থাপন করা যায় কিনা সে বিষয়ে ভেবে দেখতে বলেন। পরর্বর্তীতে ডিজাইন কার্যালয় থেকে পরিদর্শন শেষে যাচাই বাছাই চলছে। উল্লেখ্য এর আগে কুয়াকাটা সাগর সৈকতের ভাঙন রোধে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যায়ে ২০১৯ সালের জুন মাসে জিওটিউব স্থাপনের মাধ্যমে কাজ শুরু হয়ে সেপ্টেম্বর মাসে শেষ হয়। ইতোমধ্যে এটি নষ্ট হয়ে গেছে।
কুয়াকাটা সৈকত রক্ষায় একটি স্থায়ী প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে গোটা সৈকত রক্ষায় কাজ শুরু হবে।’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ