Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৩ কার্তিক ১৪২৭, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

কক্সবাজারেও বিদেশি শুঁটকির দাপট!

জাকের উল্লাহ চকোরী, কক্সবাজার থেকে | প্রকাশের সময় : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১২:৩০ এএম

দেশে শুঁটকির বড় একটি অংশ উৎপাদিত হয় কক্সবাজারে। অথচ সেই কক্সবাজারের বাজারে বিক্রি হচ্ছে বিদেশি শুঁটকি। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করা নিম্নমানের শুঁটকি স্থানীয় বলে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
কক্সবাজার শুঁটকি উৎপাদনকারী ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, কলাতলীর হোটেল-মোটেল এলাকার শতাধিক দোকানপাটে এখন যে শুঁটকি বিক্রি হচ্ছে, তার সবটাই ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে আনা। এসব শুঁটকি দুই-তিন বছরের পুরোনো। এ ছাড়া এসব শুঁটকিতে ক্ষতিকর ডিটিটি পাউডার ও কীটনাশক মেশানো থাকে।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ শুঁটকি। পবিত্র ঈদুল আজহার দিন থেকে এ মাস পর্যন্ত অন্তত সাত লাখ পর্যটক সৈকত ভ্রমণে এসেছেন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগ পর্যটক ফিরে যাওয়ার সময় কয়েক কেজি করে শুঁটকি কিনে নিয়ে গেছেন। এ ছাড়া শহরের প্রায় ৩০০ রেস্তোরাঁয় খাবারের সঙ্গে শুঁটকির ভাজি-ভর্তা পরিবেশন করা হয়। তিনি বলেন, নানা কৌশলে পর্যটকদের ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে নিম্নমানের বিদেশি শুঁটকি।
সম্প্রতি সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের একটি দোকানে গিয়ে দেখা যায়, নানা ধরনের শুঁটকি সাজিয়ে রাখা হয়েছে। বলা হচ্ছে, এসব শুঁটকি কক্সবাজারের নাজিরারটেক ও মহেশখালীর সোনাদিয়া উপক‚লে উৎপাদিত। পর্যটকেরা সেসব শুঁটকি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
কুমিল্লার পর্যটক আবদুল হামিদ বলেন, ‘মহেশখালীর সোনাদিয়ার শুঁটকির কদর অনেক। এর স্বাদও বেশি। তাই এই দোকান থেকে ৯০০ টাকায় তিন কেজি ছুরি শুঁটকি কিনলাম।’ দোকানের পরিচালক খালেদ মোশাররফ বলেন, দোকানের কিছু শুঁটকি বিদেশ থেকে আমদানি করা। কিন্তু বলতে হয়, সবই কক্সবাজারে উৎপাদিত। নইলে পর্যটকেরা শুঁটকি কিনবেন না। তিনি বলেন, ‘তা ছাড়া এই মৌসুমে কক্সবাজারে এখনো শুঁটকি উৎপাদন শুরু হয়নি। তাই বিদেশি শুঁটকি দিয়ে চাহিদা পূরণ করছি।’ খালেদ মোশাররফের দাবি, তার দোকানের শুঁটকিতে কোনো বিষ নেই।
পাশের আরেকটি দোকানের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী বলেন, এখন ভারত ও মিয়ানমার থেকে বিপুল পরিমাণ লইট্যা, ছুরি ও মলা শুঁটকি আনা হচ্ছে। এসব শুঁটকি ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় কিনে এনে কক্সবাজারে বিক্রি করা হচ্ছে প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায়। পাকিস্তান থেকে আনা গুইজ্যা, কামিলা, চাপা ও পোপা শুঁটকি বিক্রি করা হচ্ছে ৬০০ থেকে ১২০০ টাকায়। এসব শুঁটকি মেয়াদোত্তীর্ণ ও কীটনাশক মেশানো।
দেশের সর্ববৃহৎ শুঁটকি উৎপাদন অঞ্চল হচ্ছে শহরের নাজিরারটেক উপক‚ল। প্রতিবছর এ অঞ্চলের প্রায় ৩০০টি খামারে ১২০ কোটি টাকার বেশি শুঁটকি উৎপাদিত হয়। মহেশখালীর সোনাদিয়া ও ধলঘাটা; টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, জালিয়াপাড়া ও সেন্ট মার্টিন; কুতুবদিয়ার লেমশিখালীসহ জেলার বিভিন্ন উপক‚লে উৎপাদিত হয় আরও ১০০ কোটি টাকার শুঁটকি। বর্ষা মৌসুমে শুঁটকি উৎপাদন বন্ধ থাকে।
নাজিরারটেক শুঁটকি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আতিক উল্লাহ বলেন, আগামী নভেম্বর থেকে নাজিরারটেকসহ জেলার বিভিন্ন উপক‚লে শুঁটকি উৎপাদনের ধুম পড়বে। এখন শুঁটকির জন্য কাঁচা মাছ সংগ্রহ চলছে। তিনি বলেন, শহরে নিম্নমানের বিদেশি শুঁটকি বেচাকেনা হওয়ায় স্থানীয় শুঁটকি ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ ছাড়া নিম্নমানের বিদেশি শুঁটকি কক্সবাজারের বলে বিক্রি করায় স্থানীয় শুঁটকির সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটকের চাহিদা পূরণ করতে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ থেকে ভারত ও পাকিস্তানের শুঁটকি আনা হয়। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ভারত ও পাকিস্তান থেকে শুঁটকি আমদানি করা হয়। আর মিয়ানমারের শুঁটকি আসে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অমিতোষ সেন বলেন, কক্সবাজার উপক‚লে উৎপাদিত শুঁটকিতে কীটনাশক মেশানো হচ্ছে কি না, তা তদারকির ব্যবস্থা আছে। কিন্তু বাইরে থেকে আনা শুঁটকির ওপর মৎস্য বিভাগের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তিনি বলেন, শহরের বিভিন্ন স্থানে এখন যেসব শুঁটকি বিক্রি হচ্ছে, তার সবটাই বাইরে থেকে আনা। এ ক্ষেত্রে পর্যটকদের সতর্ক থাকতে হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: শুঁটকি

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
২৭ জানুয়ারি, ২০১৮

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ