Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

১৬ বছর কারাভোগের পর খালাস

শিশু হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ড

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১২:০১ এএম

লাকসামের কনকশ্রী গ্রামে খুন হয়েছিলো ৮ বছরের এক মেয়ে শিশু। তাকে হত্যার দায়ে বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদন্ড হয়েছিলেন হুমায়ুন কবিরের। ওই রায়ের ভিত্তিতে ১৬ বছর কারাভোগ করেন তিনি। রায়ের বিরুদ্ধে হুমায়ুন কবির আপিল করেন। অন্যদিকে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করতে রাষ্ট্রপক্ষ চায় ডেথ রেফারেন্স। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ মৃত্যুদন্ড বহাল রাখেন। এ রায়ের বিরুদ্ধেও আপিল করেন হুমায়ুন কবির। শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগীয় বেঞ্চ তাকে খালাস দেন। হুমায়ুন কবিরের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এবিএম বায়েজিদ। তিনি বলেন, মৃত্যুদন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আসামির করা জেল আপিল (মঞ্জুর) করেছেন আপিল বিভাগ। কারণ মামলার অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে, শিশুটির লাশ উদ্ধারের সময় সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (টিএনও) উপস্থিত ছিলেন। অথচ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিচারের সময় সাক্ষ্য ও জেরা করা হয়নি। মামলার একমাত্র আসামি হুমায়ুন কবির তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন, শিশুটি তার খালাতো বোনের মেয়ে। আর শিশুটির বাবা তার সাক্ষ্যে বলেছেন, হুমায়ুন কবিরকে তিনি চেনেন না। এছাড়া মামলায় শিশুর মাকে সাক্ষী করা হয়নি। মাকে সাক্ষী করলে হয়তো জানা যেত, হুমায়ুন কবির আদৌ তাদের পরিচিত কেউ কিনা। ফলে এখানে সন্দেহ রয়েই গেছে। তাছাড়া প্রত্যক্ষদর্শী দুই শিশুকে এ মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে। তাদের সাক্ষ্যে যথেষ্ট অসামঞ্জস্য ছিল।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটির মাথার খুলি ভাঙা ছিল। আর স্বীকারোক্তিমূলক জানবন্দিতে আসামি বলেছেন, শিশুটিকে তিনি মুখ চেপে ধরে হত্যা করেন। ফলে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকান্ডের বর্ণনায় অসঙ্গতি রয়েছে।

এবিএম বায়েজিদ বলেন, মামলার সাক্ষীদের সাক্ষ্যে বস্তুনিষ্ঠতার অভাব,অসামঞ্জস্যতা ও নানা ত্রুটির কারণেই হুমায়ুন কবিরকে খালাস দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। এখন তার কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই। জেল আপিল শুনানিতে সরকারপক্ষে অংশ নেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মৃত্যুদন্ড

২৬ নভেম্বর, ২০২০
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন