Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ৭ কার্তিক ১৪২৭, ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

তিস্তার গ্রাসে নিঃস্ব মানুষ

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) উপজেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১২:০০ এএম

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদী গিলে খাচ্ছে বসতবাড়িসহ আবাদি জমি। তিস্তার অব্যাহত ভাঙনে বসতবাড়ি ও জমাজমি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে মানুষজন। দীর্ঘ মেয়াদী বন্যার ধকল কাটতে না কাটতে ফের বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্মরণকালের ভাঙন অব্যাহত থাকায় হরিপুর ইউনিয়নের কাশিম বাজার পাঁকা রাস্তা, বেশ কিছু দোকানপাট, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং বসতবাড়িসহ আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ।
গত ৪/৫ দিন অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধির কারণে তীব্র স্রোতে ভাঙন জোরদার হয়েছে। অব্যাহত ভাঙনে উঠতি ফসলসহ বসতবাড়ি বিলীন হচ্ছে নদীগর্ভে। যে হারে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে তাতে ফের বন্যার আশঙ্কা করছেন চরবাসি। টানা ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ। ভাঙনে গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের কাশিম বাজার, চর চরিতাবাড়ি, মাদারিপাড়া, লখিয়ারপাড়া, টেবরির মোড় শ্রীপুর ইউনিয়নের উত্তর শ্রীপুর পুটিমারী, লালচামার গ্রামের হাজারো একর ফসলি জমি ও দুই শতাধিক বসত বাড়ি নদীগভে বিলীন হয়ে গেছে।
ভাঙন কবলিত পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছে। একদিকে করোনাভাইরাস অন্যদিকে নদীর পানি বৃদ্ধি অপরদিকে তিস্তার অব্যাহত ভাঙনের মুখে পড়ে বেসামাল হয়ে গেছে তিস্তা পাড়ের মানুষজন। থেমে থেমে মুষলধারে বৃষ্টির কারণে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় খাল-বিল ও আবাদযোগ্য নিচু এলাকাগুলো টইটুম্বুর হয়েছে। বিশেষ করে কাপাসিয়া, হরিপুর ও শ্রীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।
উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তানদীর ভাঙনে বালু চরের সবুজের সমারোহ ও বসতবাড়ি বিলীন হচ্ছে। হরিপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং নাজিমাবাদ বিএল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম রঞ্জু জানান, গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে তার বাড়ির সামনে দিয়ে কাশিমবাজার-উলিপুর পাকা সড়কটি প্রায় ৩০০ মিটার তিস্তা গিলে খেয়েছে। তিস্তার ভাঙনে চরাঞ্চলবাসি দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাফিউল ইসলাম জানান, যে হারে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে তাতে করে ফের বন্যার সম্ভবনা রয়েছে। গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে তার ইউনিয়নে শতাধিক পরিবার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
কাপাসিয়া ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন জানান, গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে তার ইউনিয়নে শতাধিক পরিবার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন হুমকির মুখে রয়েছে পাঁচ শতাধিক পরিবার। নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া পরিবার গুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী লুতফুল হাসান জানান, ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে ভাঙন কবলিত পরিবারের তালিকা নিরুপন করে জেলা প্রশাসকের নিকট পাঠানো হয়েছে। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত¡াবধানে হরিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নে ভাঙন কবলিত এলাকায় জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান নদী ভাঙন রোধে একটি দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে নদী সংরক্ষণের ব্যাপারে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় এমপি ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী জানান, নদী ভাঙন রোধে হরিপুর, কাপাসিয়া ও শ্রীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মানুষ

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ