Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭, ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া উপকূলে ৩৮০টি তিমির করুণ মৃত্যু

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৪:১৬ পিএম

অস্ট্রেলিয়ান তাসমানিয়া অঙ্গরাজ্যের উপকূলের বালুচরে আটকে অন্তত ৩৮০টি পাইলট তিমির করুণ মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে এর আর কখনো এত বেশি সংখ্যক তিমির মৃত্যুর ঘটনা আর ঘটেনি। অস্ট্রেলীয় উদ্ধারকারী দলকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) অস্ট্রেলিয়ার দ্বীপ রাজ্য তাসমানিয়ার পশ্চিম উপকূলে আটকে পড়া তিমিগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়। এদিন সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তাসমানিয়ান মেরিন কনজারভেশন প্রোগ্রাম-এর উদ্ধারকারীরা। তারা দেখতে পান ম্যাককোয়ারি হেডস এলাকায় তিনটি দলে তিমিগুলো আটকা পড়েছে। ওই এলাকায় জাহাজ চলাচলের পথ খুব সীমিত। উদ্ধারকারীরা জানান, প্রায় ২০০টি তিমি তীরে এসে বালুর মধ্যে আটকা পড়েছে। তার থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে আটকা পড়েছে ৩০টি তিমি। এছাড়া আরও ৩০টি তিমি পাওয়া গেছে ওশেন বিচ এলাকায়। বেশিরভাগ তিমিই এমন জায়গায় আটকা পড়েছে যেখানে উদ্ধারকারীদের পৌঁছানো কঠিন। তবে এরইমধ্যে জীবিত উদ্ধার হওয়া কিছু তিমিকে মঙ্গলবার সকালে পানিতে ফেরত পাঠিয়েছে ৪০ সদস্যের উদ্ধারকারী দল। বালুময় তীর এলাকা থেকে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে ধাক্কা দিয়ে তাদেরকে পানিতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, বুধবার পর্যন্ত তারা ৫০টি তিমি উদ্ধার করতে পেরেছেন। সৈকতে আরও ৩০টি তিমি এসে আটকে গেছে। তাদের উদ্ধারে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

সামুদ্রিক ডলফিন প্রজাতির এই পাইলট তিমি সাধারণত লম্বায় সাত মিটার বা ২৩ ফুট হয় এবং এদের ওজন হয় প্রায় তিন টন। কিভাবে ওই তিমিগুলো উপকূলে এসে আটকা পড়ল সে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। তিমিদের উপকূলে আসার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। তবে একসঙ্গে এতো তিমি সচারাচর দেখা যায় না। বিশালসংখ্যক এই তিমির দলটিকে উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন সমুদ্র বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশ কর্মীরা।
তাসমানিয়ার মেরিটাইম কনজারভেশন প্রোগ্রামের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, তারা এখন পর্যন্ত ৫০টি তিমিকে উদ্ধার করতে সমর্থ হয়েছেন। এছাড়া আরো প্রায় ৩০টি তিমিকে উদ্ধারের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ওই তিমিগুলো তিনটি দলে বিভক্ত ছিল। উদ্ধারকারীরা সোমবার রাতে সেখানে উপস্থিত হয়ে তিমিগুলোকে দেখতে পায়। অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড উপকূলে প্রায়ই এভাবে দল বেঁধে তিমিদের আসতে দেখা যায়। গবেষকরা বলছেন, এরা দলে দলে চলাফেরা করে এবং এদের একজন দলনেতা থাকে। তাদের মধ্যে সামাজিক বন্ধন খুব দৃঢ় এবং তারা দলনেতার দেখানো পথেই চলে।

উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৯৬ সালে পশ্চিম অস্ট্রেলীয় উপকূলে রেকর্ড ৩২০টি পাইলট তিমির মৃত্যু হয়েছিল। তবে সেই সংখ্যাকে পেছনে ফেলে নতুন রেকর্ডের সৃষ্টি হলো।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: অস্ট্রেলিয়া


আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ