Inqilab Logo

ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

প্রশ্ন : তওবাকারী কি আল্লাহর বন্ধু?

উত্তর দিচ্ছেন : মুফতি জাকারিয়া মাসউদ | প্রকাশের সময় : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১২:০৭ এএম

উত্তর : যখন কোন ব্যাক্তি গুনাহ করার পরে আল্লাহর কাছে তওবা করে ফিরে আসে ঐ ব্যক্তি তখন আল্লাহর বন্ধু হয়ে যায়। বিশ^নবী (সঃ) বলেন, তোমরা যদি গুনাহ না কর তবে আল্লাহ তোমাদেরকে সরিয়ে দিবেন এবং তোমাদের স্থলে আল্লাহ তায়ালা অন্য এমন জাতিকে সৃষ্টি করবেন যারা গুনাহ করবে, এবং আল্লাহর কাছে তওবা করবে আর আল্লাহও তাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন।(মুসলিম)

মানুষ মাত্রই গুনাহ করে। গুনাহ করা যেহেতু মানুষের স্বভাব তাই গুনাহ হতেই পারে কিন্তু গুনাহ হওয়ার পরে তওবা না করা এবং সেই গুনাহের কাজে অটল থাকা হল মারাত্ত¦ক অপরাধ। আল্লাহ তায়ালা সবসময় বান্দার দিকে চেয়ে থাকেন কখন তাঁর বান্দা গুনাহ করার পরে তার অন্যায় স্বীকার করবে এবং আল্লাহর দিকে ফিরে যাবে আর আল্লাহ তায়ালা মাফ করে দিবেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা তওবাকারী এবং যারা অপবিত্রতা হতে বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন। সুরা বাকারা ২২২।

আল্লাহ তায়ালা তওবাকারীদের জন্য ক্ষমার ঘোষনা দিয়ে রেখেছেন পবিত্র কুরআন পাকে । ইরশাদ হচ্ছে যে, তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মনে কি আছে তা ভালোই জানেন। যদি তোমরা সৎ হও, তবে তিনি তওবাকারীদের জন্য ক্ষমাশীল। বনী ঈসরাইল ২৫।

মহান আল্লাহ তায়ালা তওবাকারীদের জন্য সুসংবাদ প্রদান করে ইরশাদ করেন যে, তারা তওবাকারী, এবাদতকারী, শোকরগোযার, দুনিয়ার সাথে সম্পর্কছেদকারী, রুকু ও সেজদাকারী, সৎকাজের আদেশ দানকারী ও মন্দ কাজ থেকে নিবৃতকারী এবং আল্লাহর দেওয়া সীমাসমূহের হেফাযতকারী। বস্তুত সুসংবাদ দাও ঈমানদারদেরকে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি তওবা কবুলকারী পরম দয়ালু ।( সুরা আল বাকারা ১৬০) কোন মানুষ যখন অপরাধ করার পরে ভুল বুঝতে পেরে তওবা করে এবং কৃত ভুল থেকে ফিরে আসে তখন আল্লাহ তায়ালা তাঁর তওবা কবুল করে নেন। মহান আল্লাহ তায়ারা ইরশাদ করেন, অতঃপর যে তওবা করে স্বীয় অত্যাচারের পর এবং সংশোধীত, নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর তওবা কবুল করেন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু। সুরা আল মায়িদাহ আয়াত ৩৯।

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব বিশ^নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) থেকেও তওবার অনেক গুরত্ববহ বাণী পাওয়া যায়। বিশ^নবী (সাঃ) বলেন আদম সন্তান সবাই অপরাধ করে । অপরাধীদের মধ্যে উত্তম তারাই যারা তওবা করে। (তিরমিযি) শুধু তাই নয়, বরং তওবার দ্বারা আল্লাহর দরবারে সম্মান বৃদ্ধি হয় । সে কারনেই রাসুলুল্লাহ সাঃ এর আমলের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, তাঁর জীবনে কোন গুনাহ না থাকা স্বত্তেও তিনি প্রতিদিন কমপক্ষে ৭০/১০০ বার এস্তেগফার পাঠ করতেন। গুনাহ দুই ধরনের একটা হলো ছোট গুনাহ যার শাস্তি লঘু । অপরটি বড় গুনাহ যার শাস্তি শরিয়ত নির্ধারন করেছে, যেমন নেশা করা, ব্যভিচার করা, সুদ খাওয়া ইত্যাদি। দুই ধরনের গুনাহ থেকেই তওবা করা যায় । তওবা কবুল হওয়ার জন্য শর্ত হলো : ১. সংশ্লিষ্ট গুনাহের কাজটিকে সম্পুর্নরুপে পরিত্যাগ করা। ২. কৃত অপরাধের কারনে লজ্জিত হওয়া। ৩.ভবিষ্যতে পুনরায় উক্ত গুনাহে লিপ্ত হবেনা এই মর্মে অঙ্গিকার করা। ৪. অন্যায় কাজটি যদি মানুষের অধিকার সংশ্লিষ্ট হয় তবে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। শর্ত মেনে যদি কোন ব্যাক্তি আল্লাহর দরবারে তওবা করে তাহলে অবশ্যই আল্লাহ তা কবুল করবেন এবং সে আল্লাহর বন্ধু হয়ে যাবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে বুঝে আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আল্লাহ


আরও
আরও পড়ুন