Inqilab Logo

ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

প্রসঙ্গ : হক ও নাহক

আবুল খায়ের নাঈমুদ্দীন | প্রকাশের সময় : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১২:০৭ এএম

পূর্ব প্রকাশিতের পর
এভাবে সকল স্তরে মানুষের হক রয়েছে। একজন জন প্রতিনিধি নিজ চেষ্টায় তাঁর এলাকার জনগণের খোঁজ নিবেন এটা তাঁর দায়িত্ব আর জনগনের প্রাপ্য হক। একজন কোম্পানীর কর্মচারী বা প্রতিনিধি তার কোম্পানীর উন্নয়নে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সর্বদা কাজ করবেন এটাই হক। আমাদের দোকানে একবার বিল্ডার্স কোম্পানীর এমডি বা ডিরেক্টর এসে ছিলেন মাল কিনতে। সাথে তাদের অফিসের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারকে নিয়ে আসলেন। বস ভালো মানের মালগুলো পছন্দ করে সেই হিসেবে ভাড়াসহ মূল্য পরিশোধ করে দুজনই চলে গেলেন। পনের বিশ মিনিট পর তাঁর সাথের ঐ ইঞ্জিনিয়ার আসলেন এবং বললেন- যে মাল পছন্দ করেছিলাম সেটা না দিয়ে আরো নিম্ন মানের মাল দিবেন এবং বাকী টাকা আমাকে দিবেন। আমরা কড়াভাবে প্রতিবাদ করায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে বললো, কাজটা ঠিক করলেন না এটা আমার হক। আমরা অবাক! লোকটা দূর্নীতিকে হক বললো? এ সম্পর্কে কি জানে?
বর্ণবাদের ফলে পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা চলে আসছে তা কারোই কাম্য নয়। কিছু সংখ্যক স্বার্থবাদী লোকের কারণে এটি চলে আসছে। সব মানুষই সমান, কেউ সাদা কেউ কালো কেউ লম্বা কেউ খাটো এটাতে কেন পার্থক্য থাকবে? সবাই সমান অধিকার পাবে এটাই হক।

শ্রমিকের হক শ্রমের বিনিময় প্রাপ্য দেয়া। তাদের কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে প্রাপ্য দিয়ে দিতে হবে। মহানবী সঃ বলেছেন ঘাম শুকানোর আগেই তার প্রাপ্য দিয়ে দাও।

‘বিবেক’ সব সময়ই সত্যের সন্ধানে থাকে, কিন্তু ব্যত্যয় হয় তখনই যখন অন্যের অর্থ সম্পদে লোভ, বৈষয়িক প্রতিপত্তি ও চাওয়া-পাওয়ার কামনা- বাসনা মনের ভেতর গভীরভাবে বাসা বাঁধে। নিজের ভেতরে অহংকার থাকে তখন সব কিছুকে, সব মানুষকে নিজের অধীন মনে করে। হক নাহক বুঝেনা, নিজের ইচ্ছায় সবাইকে চালাতে চায়। মনে করে আমিই সব কিছু,, এই নিজেকে “আমিই” মনে করাই যত সমস্যা। এটা যে ক্ষনস্থায়ী ও অযোগ্যতা তা একবারও ভেবেছেন তারা? ‘সত্য’কে মানুষ তখনই পরিহার করে যখন সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের আশা আকাঙ্খা ও আমিত্ব চলে আসে। কারণ সত্য মানেই আমিত্ব শেষ। আরবী একটি প্রবাদ ্রজা আলহাক্কু ওজাহাকাল বাতিলগ্ধ সত্য সমাগত মিথ্যা বিতাড়িত। হক মানেই নিজের মস্তকটাকে সকলের অধিকারের কাছে নত করে দেয়া। কোনো ব্যক্তির মানসিক দাসত্ব ঐ আমিত্ব মন-মগজে স্থান না দেয়া।

গরীবের হক অত্যন্ত ন্যায় সঙ্গত ও গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় বিষয়। কোরআনে ্রহাক্কুন লিসসায়েলে অল মাহরুমগ্ধ বলে অভাবী ও বঞ্চিতদের হক আল্লাহই নির্ধারন করে দিয়েছেন। এদের জন্য কোরানের কয়েক জায়গায় হক হিসেবে উল্লেখ করে ধনীদের সম্পদে তাদের অংশ রেখেছেন, তাদেরকে তাদের হক দিয়ে দেয়ার নির্দেশও দিয়েছেন। এখানে একটি বিষয় লক্ষনীয় যে, আল্লাহ মানুষকে যেমন কর্মের ভিতর দিয়ে সম্পদ অর্জনের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন, তেমনি যাদের বুদ্ধির অভাবে গরীব রয়ে গেছে অথবা অন্য কোনো কারণে, বা মা-বাবা মারা যাওয়ায় এতিম হয়ে পড়েছে, তাদেরকে দান করার ব্যপারেও তাগিদ দেয়া হয়েছে। মাল এবং সন্তান দুনিয়ার সম্পদ। কাউকে মাল দিয়ে খুশি করেন কাউকে সম্পদ দিয়ে। সম্পদ নিজ সন্তানের জন্য সঞ্চিত রাখার তাগিদও আছে। ব্যক্তি মারা গেলে তার সন্তান সন্তুতি সম্পদের মালিক হবে এখানে যেমন নির্ধারিত করে দিয়েছেন তেমনি প্রতিবেশি বা আত্বীয় স্বজনের মধ্যে গরীবদের ব্যপারে বলেছেন তাদের হক রয়েছে ধনীদের সম্পদে। কি সুন্দর একটি চেইন কাজ করে চলেছে এই বন্টন নামায়। কেউ যেন অবহেলা না করে সে জন্য বলা হয়েছে যে আত্বীয়তার সম্পর্ক চিন্হ করে আল্লাহও তার সাথে সম্পর্ক চিন্হ করবেন। কত রকমে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। হাদীসে সবাইকে সবার ভাই ভাই বলে যেন পরোক্ষ ভাবে একের সাথে অপরের হক বা অধিকার বসিয়ে দিয়েছেন। এ রকম সামঞ্জস্যতা ইসলামেই সম্ভব।

আমাদের দেশে হক নাহকে গুলিয়ে দেয়া হয়। হকের সাথে নাহক মিশে যায়, মানুষ কোনটা হক কোনটা না হক বুঝতেই পারেনা। মানবাধিকার আইনেও আছে সবাইকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়াটা তার অধিকার বা হক। একজন লোক বাধা বিঘ্নহীন তার মনমতো ভালো কাজ করতে পারলে জাতিকেও কিছু দিতে পারে। আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছে মরণোত্তর পুরষ্কার দেয়া আর মৃত্যুর পর তারিফ করা। জীবিত থাকাকালীন তাকে স্বাধীনতা টুকু দেয়া হয়না।

আল্লাহর আনুগত্যে গড়িমসি করলে আল্লাহ মাফ করতে পারেন, মাতা পিতাও সন্তানকে ক্ষমা করে দেন কিন্তু বান্দার হক গোপনে থেকে যায় যা কখনো আমরা ভাবতেও পারিনা। এখানে অনেকে ঋণী থেকে যায়। ওয়ারিশান সম্পদের হকের গুরুত্ব দেয়া উচিত। কোন লোক মারা গেলে তার পরিবারের সদস্যরা তার সম্পত্তিতে কে কত পরিমান বা কিভাবে পাবেন তা যেমন আল্লাহই নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তেমনি ব্যক্তিকে ফিতরাতে জন্ম দিয়ে তার স্বাধীনতাও তাকে দিয়েছেন, এগুলো কেউ নিজের অর্জিত বা ভাগেরটা থেকে দেয়া লাগেনা। এভাবে বান্দার হক পরিপূর্ন করায় সমাজে কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকেনা। আমরা সবাই যেন অন্যের হক আদায়ে সচেষ্ট হই।
লেখক : গবেষক শিক্ষাবিদ

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: হক

২৬ অক্টোবর, ২০২০
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০
আমি শরিয়তের হুকুম আহকাম মোতাবেক চলার চেষ্টা করি। পারিবারিক বাধা সত্বেও দাড়ি টুপি ব্যবহার করছি। ১ বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে করি। বিয়েতে আমি পরিপূর্ন শরিয়ত মানার চেষ্ঠা করেছি এতে পরিবারের সবাই নারাজ হয়। বড় বোন জামাইয়ের নারাজির কারণে মা-বাবাও খুশি নন। পর্দার খেলাফ এবং আমার কর্মক্ষেত্র দূরে হওয়ায় আমার স্ত্রীকে আমার কাছে নিয়ে আসি। এইজন্য আমার মা আমার প্রতি অসন্তুষ্ট। তিনি আমার স্ত্রীকে ফোনে গালিগালাজ করে। বড় ভাই নেশাগ্রস্থ ও অন্যান্য অপরাধের সাথে যুক্ত থাকার পরেও তারা তাকেই বেশী আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়। মাস শেষে টাকা নেওয়ার জন্য ফোন করা ছাড়া আমার সাথে তারা কোনো যোগাযোগ রাখে না। এই অভিমানে আমিও যোগাযোগ কম করি এবং ৬ মাস যাবৎ বাড়ি যাওয়া বন্ধ করে দেই। এতে তাদের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। যদিও তাদের জন্য আমার কষ্ট হচ্ছে। এমতাবস্থায় আমার করণীয় কি?
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন