Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ৪ কার্তিক ১৪২৭, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

‘শিঘ্রই নিজস্ব ভেন্যু পাবে দাবা’

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৮:০১ পিএম

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল জানিয়েছেন, খুব শিঘ্রই নিজস্ব ভেন্যু পাবে দাবা। ক্রীড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক অনলাইন দাবা প্রতিযোগিতা’র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এই আশ্বাস দেন। যদি তাই হয় তবে নিজেদের স্থায়ী ভেন্যুর জন্য দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘুচবে বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের কর্মকর্তা ও দাবাড়–দের। রোববার হোটেল লা মেরিডিয়ানে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে নিজ বক্তব্যে জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, ‘দাবার জন্য একটি স্থায়ী জায়গা ঠিক করার চেষ্টা করছি। কারণ এখন যেখানে দাবা খেলা হয়, তাতে বিশ্বমানের চিন্তা করাটাও কঠিন। দ্রুতই যেন দাবা ফেডারেশন স্থায়ী জায়গা পায়, সে চেষ্টাই করছি আমি। এছাড়া আমরা মুজিববর্ষে বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক দাবা টুর্নামেন্টের আয়োজন করবো।’

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী যোগ করেন, ‘দাবায় উপমহাদেশে প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার আমাদের সন্তান (নিয়াজ মোর্শেদ)। এই সফলতাকে ধরে রাখতে হবে। পাশ্ববর্তী অনেক দেশ যারা পিছিয়ে ছিল, তারা এখন বেশ এগিয়ে গেছে। আমরা কিন্তু সেভাবে এগুতে পারিনি। আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি দাবা ফেডারেশনের সভাপতি ড. বেনজীর আহমেদকে। তিনি বাংলাদেশের দাবাকে ছোট্ট ঘর থেকে বের করে বড় পরিসরে নিয়ে এসেছেন এবং এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আমি বিশ্বাস করি, সেদিন বেশি দুরে নয় যেদিন বাংলাদেশ কেবল উপমহাদেশেই নয়- বিশ্ব দরবারেও দাবায় মাথা উঁচু করে দাড়াবে ইনশাল্লাহ।’

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন ও সাউথ এশিয়ান চেস কাউন্সিলের সভাপতি এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ, দাবা ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ও কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাত, ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাবউদ্দিন শামীম, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম ও গোল্ডেন স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ আমির আলী রানা।

দাবা ফেডারেশনের সভাপতি ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘দাবার এই ইভেন্টটি ক্রীড়াঙ্গণের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। করোনাকালীন বিশ্ব দাবা চলে গেছে অনলাইনে। আশপাশের দেশগুলোর মধ্যে আমরাই এতবড় একটা ইভেন্ট করতে পেরেছি। কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি এবং আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হলেই ফেডারেশনের জায়গার কথা বলি। বড় এবং ভালো জায়গা পেলে আরো ভালো করতে পারবো আমরা। আমি ঘোষণা দিতে চাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে এই টুর্নামেন্ট প্রতিবছর আয়োজন করবো আমরা। এটা হবে বাংলাদেশের একটা গ্র্যান্ডমাস্টার টুর্নামেন্ট।’

কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায়, সাউথ এশিয়ান চেস কাউন্সিলের আয়োজনে এবং গোল্ডেন স্পোর্টিং ক্লাবের সহায়তায় ৬ হাজার ডলার প্রাইজমানির এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার গ্র্যান্ডমাস্টার মেগারান্ত সুসান্ত, রানারআপ ভারতের গ্র্যান্ডমাস্টার এসএল নারায়াণান এবং তৃতীয়স্থান পান ইরানের গ্র্যান্ডমাস্টার আমিন তাবতাবেই। প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের কোনো দাবাড়– সেরা দশে জায়গা করে নিতে পারেননি। এমনকি স্থানীয় গ্র্যান্ডমাস্টাররা পর্যন্ত সেরা পনেরতেও স্থান পাননি। আসরে বাংলাদেশের উদীয়মান দাবাড়ু ফিদেমাস্টার সুব্রত বিশ্বাস স্থানীয়দের মধ্যে সবচেয়ে ভাল করেছেন। তিনি ৬ পয়েন্ট নিয়ে ১২তম স্থান পেয়েছেন। নয় রাউন্ড সুইস লিগ টুর্নামেন্টে ১৪ দেশের ১৭ জন গ্র্যান্ডমাস্টারসহ ৭৪জন দাবাড়– অংশ নেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন