Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ৪ কার্তিক ১৪২৭, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

হাজারো যাত্রীর ভিড় সউদী দূতাবাসে

১৮টি এজেন্টের মাধ্যমে ভিসার আবেদন বুধবার ইকামার মেয়াদ শেষ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১২:০৩ এএম

আগামী বুধবার সউদীগামী আটকে পড়া বিপুল সংখ্যক প্রবাসী কর্মীর ভিসা ও ইকামার মেয়াদ শেষ হবে। করোনা মহামারিতে ছুটিতে এসে আটকে পড়া প্রবাসী কর্মীরা ভিসার মেয়াদ শেষ হবার আগেই সউদী যেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সাউদিয়া ও বিমানের হাতে গোনা কিছু ফ্লাইট চালু হওয়ায় আটকে পড়া সউদীগামী যাত্রীদের এতো স্বল্প সময়ে দেশটিতে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এয়ারলাইন্স দু’টির সামনে থেকে হাজার হাজার যাত্রী ফিরতি টিকিট কনফার্ম করতে না পেরে চরম হয়রানির শিকার হন।

ভিসা ও ইকামার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য হাজার হাজার প্রবাসী কর্মী ঢাকাস্থ সউদী দূতাবাসে পাগলের ন্যায় ছুঁটছে। শনিবার দিবাগত রাত ৪টায় সউদীগামী যাত্রীরা ভিসা ও ইকামার মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য গুলশানস্থ সউদী দূতাবাসের সামনে লাইনে দাঁড়ায়। সউদীগামী বিমানের যাত্রী নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার শিবুমার্কেটের মাহবুব ও ফয়জুল্লাহ ভোরেই ঢাকাস্থ সউদী দূতাবাসে হাজির হয়ে লাইনে দাঁড়ান। উদ্দেশ্য একটাই ভিসা ও ইকামার মেয়াদ বাড়িয়ে যথা সময়ে সউদী যেতে হবে। না হয় জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্নই ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। সউদীগামী হাজার হাজার প্রবাসী কর্মী ভিসা ও ইকামার মেয়াদ বাড়ানোর আশায় দূতাবাসের সামনে কয়েকটি লাইনে ভিড় জমায়। সকাল দশ টার দিকে দূতাবাসের পক্ষ থেকে অপেক্ষমান প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা দেয়া হয় ১৮ টি অনুমোদিত কনসালটেন্সি সেন্টারের মাধ্যমে ভিসার আবেদন করতে হবে। দূতাবাস থেকে সরাসরি কোন ভিসা দেয়া হয় না।
সউদী দূতাবাসের অনুমোদিত আল তৈয়্যবা কনসালটেন্সি সেন্টারের স্বত্বাধিকারী সৈয়দ গোলাম সরওয়ার ইনকিলাবকে বলেন, করোনা মহামারিতে ছুটিতে এসে আটকে পড়া প্রবাসী কর্মীদের ভিসা সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম আজ থেকেই শুরু করছে কনসালটেন্সি সেন্টারগুলো। তিনি বলেন, সউদী দূতাবাস কর্তৃপক্ষ গতকাল এক্সিট এন্ড রি-এন্ট্রি ভিসা নবায়নের শর্তাবলী প্রকাশ করেছে। ভিসার আবেদনের জন্য যেসব কাগজপত্র লাগবে তা’ হচ্ছে, সউদী জাওয়াজাতের প্রিন্টের মূলকপি যাতে ইকামার মেয়াদ লেখা থাকতে হবে, সউদী কফিলের আবেদন সম্বলিত চিঠি যাহা সউদী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত হতে হবে, পাসপোর্ট এবং এক্সিট ও রি-এন্ট্রি ভিসার মূল কপি, সউদী আরবের এয়ারপোর্ট থেকে বের হওয়ার তারিখসহ পিন্টের মূল কপি এবং মেয়াদসহ ইকামার ফটোকপি থাকতে হবে।

এদিকে, গতকাল ভোর থেকেই কাওরান বাজারস্থ সাউদিয়া এয়ারলাইন্স ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মতিঝিল অফিসের সামনে সউদী গমনের লক্ষ্যে ফিরতি টিকিট রি-ইস্যুর জন্য ভিড়া জমায়। হাজার হাজার যাত্রী সাউদিয়ার টিকিটের জন্য রাস্তায় ভিড় জমায়। এতে রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অধিকাংশ যাত্রীরাই সাউদিয়ার অফিসের ভেতরে ঢুকার সুযোগ না পেয়ে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে টিকিট না পেয়ে খালি হাতে বাড়ী ফিরে গেছে। বিমানের যাত্রী কুমিল্লার বাবুল , আনোয়ার, ভোলার ফয়েজ, বরিশালের খলিলুর রহমান ও বি-বাড়িয়ার সাদ্দাম ৭ / ৮ ঘন্টা রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থেকেও বিমানের টিকিট ভাগ্যে যুটেনি।

বিমানের টিকিট বিতরণে তথ্যগত বিভ্রাটের কারণে জটলা বেশি বলে জানিয়েছেন বিমান অফিসের সামনে অপেক্ষমাণ প্রবাসীরা। সরেজমিনে প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল ১০টার কিছু পরে শুরু হয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্যক্রম। গেট খোলার পর হুড়মুড় করে বিমান অফিসে প্রবেশ করেন অন্তত হাজার খানেক প্রবাসী। এরপর গেট বন্ধ করে দেয়া হয় । অপেক্ষমান যাত্রীরা বলেন, বিমান থেকে যদি আগে মিডিয়ার মাধ্যমে বলা হতো কবে কোন তারিখের রিটার্ন টিকিট দেয়া হবে তাহলে জটলা হতো না। অপর এক যাত্রী পাঁচ দিন ধরে ঘুরছেন টিকিটের জন্য। কিন্তু কোন দিনের টিকিট কবে দেয়া হবে তিনি জানেন না। এদিকে বিমান অফিস জানিয়েছে প্রথমে ১৬ মার্চে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের টিকিট রি-ইস্যু করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে ১৭, ১৮, ১৯, ২০ মার্চ এভাবে তারিখ ধরে ধরে সিরিয়ালি টিকিট রি-ইস্যু করা হবে। কিন্তু কবে কোন তারিখের টিকিট ইস্যু করা হবে এই সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। এতে সউদীগামী অপেক্ষমান যাত্রীরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে। এদিকে, সাউদিয়া এয়ারলাইন্স গতকাল রোববার ৫০০ জনকে সউদী আরব যাওয়ার টিকিট দিয়েছে। এয়ারলাইন্স কর্মকর্তারা জানান, গতকাল এক হাজার ৪০১ থেকে এক হাজার ৯০০ পর্যন্ত টোকেনধারীকে ডাকা হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সউদী আরব

২০ অক্টোবর, ২০২০
৯ অক্টোবর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন