Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

চন্দনাইশে পাহাড়ের পাদদেশে কলা চাষে চাষীদের সাফল্য

প্রকাশের সময় : ১২ আগস্ট, ২০১৬, ১২:০০ এএম

এমএ মোহসিন, চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) থেকে
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার ধোপাছড়ি ও দোহাজারীসহ বিভিন্ন পাহাড়ের পাদদেশে কলা চাষে আশানুরূপ ফলন হয়েছে। এতে করে অনেক চাষির ভাগ্যের চাকা ঘুরছে বলে জানা যায়। উপজেলার ধোপাছড়ি ইউনিয়নে কলা চাষের জন্য উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও কাঞ্চনাবাদ, হাসিমপুর, রায়জোয়ারা দোহাজারী ইউনিয়নে গ্রাম-গঞ্জের কলা ফলন হয় বেশি। উপজেলার আব্দুর রাজ্জাক ও মোহাম্মদ আব্দুর রহিম পাহাড়ের পাদদেশে পাঁচ একর জায়গার উপর বিগত ২০১৫ সাল থেকে চার লাখ টাকা ব্যয়ে, মৃত আব্দুল কাদেরের পুত্র সবজির ভেতরে কলার চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার আশার আলো দেখছে। উপজেলার বিভিন্ন প্রসিদ্ধ হাট-বাজারে কলার আড়ত খুলে তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরছে। জানা যায়, দোহাজারী জামিরজুরী হারছড়িকুল হিন্দুপাড়া সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশে এলাকার কলা চাষ করে তাদের ভাগ্যের প্রতিফলন ঘটছে। কলা চাষি আব্দুর রাজ্জাক ও আব্দুল শুক্কুরর জানান, কলার চাষ করার আগে মাটির গুণাগুণ ভালোভাবে পরীক্ষা করে মাটিতে জৈবসার প্রয়োগ করতে হবে। বিগত ২০১৫ সালে নরসিংদী থেকে ৩ শতাধিক কলার কচি চারা প্রতিটি ৩০ টাকা করে ক্রয় করে নিয়ে এসে রোপণ করেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কাটিয়ে নিবিড় পরিচর্যা করার পর দেড় বৎসরে গাছে ফলন দিতে শুরু করেছে। সম্পূর্ণ ফরমালিনমুক্ত ছাড়া প্রাকৃতিক পদ্ধতি ব্যবহার করে ফলন ধরার উপযুক্ত করা হয়েছে। পাকা ও আধা পাকা কলা দোহাজারী স্টেশন রোড অন্য বিতানে পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে নিয়মিত। এখান থেকে চন্দনাইশে বিভিন্ন দোকানিরা ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে। আজ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশিভাগ মানুষ পুষ্টি পূরণে শাক-সবজির ফলমূলের উপর নির্ভর করে থাকেন। প্রায় সময় দেখা যায়, বিদেশ থেকে নিয়ে আসা নানা রকম ফলমূলে ফরমালিনে ভর্তি যে কারণে ফরমালিন মিশ্রিত ফল খেয়ে মানুষের ক্যান্সারসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আমাদের দেশীয় ফলেও চাষিরা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে কলা বাগান চন্দনাইশের পাহাড়ের পাদদেশসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। চাষিরা সারা বছরই নানান রকমের শাকসবজি ফলমূল চাষ করার চিন্তা করছে। উচ্চ ফলনশীল নরসিংদীর এই সাগর কলা খেতে বেশি মিষ্টি। কলা চাষের মৌসুম কার্তিক মাসের মাঝামাঝি থেকে অথবা পৌষ ও মাঘ মাসের মাঝামাঝি অথবা শ্রাবণ ও বৈশাখ মাসের সময়ে কলার চারা রোপণ করতে হবে। চার রোপণের ১৬ দিন আগে গর্তে মাটিতে ৫ রকমের সার মিশাতে হয়। পানি নিষ্কাশনের জন্য ২ সারির মাঝখানে ২৫ সে.মি. নালা রাখতে হবে। কৃষকদের মতে, সমতল জমিতে মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চারা রোপণ করতে হবে। কলা চাষে প্রতি একরে ত্রিশ হাজার টাকা মূলধন বিনিয়োগ করলে দেড় বৎসরে ফলন ধরে প্রতি একরে এক লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। এব্যাপারে চন্দনাইশ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মৃদুল বাবুর সাথে আলাপকালে তিনি জানান, আমাদের চন্দনাইশে বিভিন্ন ইউনিয়নে এখনো কলা ও সবজি চাষে চন্দনাইশে এসব কলা চাষিদের প্রশিক্ষণের সাহায্যে সহজশর্তে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা হলে এখানকার চাষিদের উৎপাদিত কলা দেশের বাহিরে বিভিন্ন দেশে রফতানি করা যাবে বলে কৃষকরা আশা প্রকাশ করছেন। এ বিষয়ে চন্দনাইশ উপজেলা কৃষির কাজে চাষাবাদের বিভিন্ন মৌসুমি সবজি চাষি ও কলা চাষিদের সরকারি সাহায্য সহযোগিতা পাওয়ার জন্য আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।