Inqilab Logo

ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭, ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

৪ দিন ধরে সার সরবরাহ বন্ধ

লোকসানের মুখে ডিলাররা দাম বাড়ার শঙ্কা

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১২:০৭ এএম

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ ও একমাত্র দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানায় (জেএফসিএল) ভেজা ও ছেঁড়া বস্তার পঁচা সার রিপ্যাকিং ডিলারদের নিতে বাধ্য করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনায় লোকসানের মুখে পড়ায় গত বুধবার থেকে সার উত্তোলন বন্ধ করেছে ডিলাররা। এতে চারদিন ধরে বৃহত্তর ময়মনসিংহসহ উত্তরাঞ্চলের ২০ জেলায় সার সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে চলতি মওসুমে সারের মূল্য বাড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
যমুনা সার কারখানার বিক্রয় শাখা সূত্র জানায়, কারখানায় বর্তমানে নিজস্ব উৎপাদিত ইউরিয়া সার মজুদ রয়েছে ৫২ হাজার ২৬০ মেট্রিকটন। বাইরে থেকে আমদানি করা সারের মজুদ রয়েছে ৩৩ হাজার ৪৪৯ মেট্রিকটন। বিসিআইসি’র তালিকাভ‚ক্ত ডিলারদের প্রতিমাসে কারখানার কমান্ড এরিয়া সরবরাহের জন্য ১২ মেট্রিকটন। এরমধ্যে যমুনা সার কারখানার উৎপাদিত সার ১০ মেট্রিকটন ও বাইরে থেকে আমদানিকৃত ২ মেট্রিকটন সার গ্রহণ বাধ্যতামূলক করে কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট ডিলারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আমদানিকৃত সারগুলোর বস্তা ছেঁড়া-ফাঁটা ও জমাটবাঁধা। অপরদিকে কারখানার গুদামে ধারণক্ষমতা না থাকায় সারের বস্তাগুলো বাইরে স্তুপাকারে রেখে দেয়া হয়েছে। এতে চলমান বৃষ্টিতে সারগুলো পঁচে-গলে গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়। নিম্নমানের সার কৃষকরা গ্রহণ না করায় ডিলারদের প্রতিমাসে বিপুল অঙ্কের টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। মেসার্স আকলিমা এন্টারপ্রাইজের মালিক আলী আকবর ও মেসার্স এল কে এন্টারপ্রাইজের মালিক লুৎফর রহমানসহ কয়েকজন ডিলার অভিযোগ করেন, খোলা আকাশের নিচে ফেলে রাখা সার দীর্ঘদিন রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে গুণগতমান নষ্ট হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষ পুণরায় সেগুলো রিফাইং ও রিপ্যাকিং করে ডিলারদের নিতে বাধ্য করে আসছে। সারগুলো জমিতে প্রয়োগের সময় পাউডার হয়ে ওড়ে যায় ও ফসলের কোনো কাজেই আসে না। ফলে ওইসব নিম্নমানের সার কৃষক নিতে না চাওয়ায় ডিলারদের প্রতিমাসে বিপুল পরিমাণ টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, কারখানার কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে জমাট বাঁধা সার ট্রাক্টর দিয়ে পিষে ও হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে সেগুলো রিপ্যাকিং করে ডিলারদের বরাদ্দকৃত সারের সাথে ঢুকিয়ে দেয়। তবে ‘নগদ সেলামি’র বিনিময়ে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কোনো ডিলারকে ভালো সার পাইয়ে দেয় বলে প্রচার রয়েছে।
এ ব্যাপারে যমুনা সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সুজিদ মজুমদারের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি। কারখানার ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) ওয়ায়েছুর রহমান জানান, ডিলাররা চারদিন ধরে সার গ্রহণ বন্ধ রেখেছে। এর বাইরে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ