Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ৪ কার্তিক ১৪২৭, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

বায়ার্নকে মাটিতে নামাল হফেনহেইম

আর্জেন্টাইন ইকার্দিতে ম্লান ব্রাজিলের নেইমার গার্দিওলার ৫ গোলের লজ্জা

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১২:০৩ এএম

পেপ গার্দিওলার যে অনন্য এক অভিজ্ঞতা পেয়ে গেছেন, এটা পরশুই জানা হয়ে গেছে। কোচিং ক্যারিয়ারে এই প্রথম কোনো দল নিয়ে পাঁচ গোল হজম করেছেন গার্দিওলা। তবে ম্যানচেস্টার সিটির জন্যও অনেক বড় ধাক্কা ছিল লেস্টার সিটির কাছে ৫-২ গোলের হার। ২০০৮ সালে আরব আমিরাতের মালিকের অধীনে যাওয়ার পর এমন কিছু হয়নি সেটা তো ধারণা করাই যায়। বাস্তবতা হলো, হীনবল ম্যানচেস্টার সিটিও ঘরের মাঠে পাঁচ গোল শেষ খেয়েছিল ২০০৩ সালে। এমন এক হারের পর দায় স্বীকার করে নেওয়া উপায় থাকে না কারও। গার্দিওলা নিজের দলের ব্যর্থতা মেনে নিয়েছেন। তবে ট্যাকটিক্যালি নিজের ভুল দেখার আগে প্রতিপক্ষের ওপরও দায় চাপিয়েছেন কাতালান কোচ। তার দাবি, লেস্টার কোচ ব্রেন্ডন রজার্সের অতিরক্ষণাত্মক ধরন নাকি তার পরিকল্পনায় বাঁধ সেধেছে!
তবে ম্যাচের শুরুটা দারুণ হয়েছিল সিটির। চার মিনিটেই রিয়াদ মাহরেজের এক গোলার মতো শটে এগিয়ে গিয়েছিল সিটি। তখন মনে হয়েছিল, ইতিহাদে গোলবন্যা হবে। সে বন্যা হলো ঠিকই, কিন্তু সেটার স্রােত যে এভাবে উল্টে যাবে, সেটা মনে হয় না কেউ আঁচ করতে পেরেছে। মাঝ বিরতির ঠিক আগে পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরান ভার্ডি। দ্বিতীয়ার্ধেই মূল সর্বনাশ হয়েছে সিটির। ৫৩ থেকে ৫৮ মিনিটের মধ্যে আরও দুই গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ভার্ডি। জেমস ম্যাডিসন বোঝা বাড়ান ৭৭ মিনিটে। খেলা শেষ হওয়ার আগের দশ মিনিটে দুই দলই আবার একটি করে গোল দিয়ে ব্যবধান তিনই রেখেছে। ম্যাচের পর গার্দিওলা স্বীকার করেছেন, তাঁদের আরও ভালো খেলা উচিত ছিল। কিন্তু সে সঙ্গে প্রতিপক্ষ ডাগআউটে থাকা রজার্সের ট্যাকটিকস নিয়েও কথা বলেছেন। প্রতি আক্রমণকে অস্ত্র মেনে নামা লেস্টারকে ইঙ্গিতে খোঁচা দিয়ে বলেছেন, ‘ওরা এত নিচে নেমে খেলায় আমরা সুযোগ সৃষ্টি করতে পারিনি। এতে আমরা নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলাম। ওরা খেলতে চায়নি, ওরা শুধু প্রতি আক্রমণ করতে চেয়েছে। আমরা জানি ভার্ডি অনেক দূর দৌড়াতে পারে এবং বার্নসকে (হার্ভি) নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। কিন্তু যখনই আমরা নার্ভাস হয়ে পড়লাম, তখন মনে হলো আমরা ভালো করছি না।’
গত মৌসুমের সব শিরোপাই গিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখের ঘরে। তাও প্রতিপক্ষদের প্রায় বিধ্বস্ত করে একের পর এক জয় আদায় করে নিয়েছে তারা। চলতি মৌসুমেও শালকে ০৪’কে আট গোলের মালা পরিয়ে বুন্দেসলিগার নতুন মৌসুমের স‚চনা করেছিল দলটি। সে দলটি দ্বিতীয় ম্যাচে টিএসজি ১৮৯৯ হোফেনহেইমের কাছে পাত্তাই পেলো না। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা খেলেছে গত আসরে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করা দলটি।
গতপরশু রাতে হফেনহেইমের মাঠে বায়ার্নকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে স্বাগতিকরা। দলের হয়ে জোড়া গোল করেছেন আন্দেজ ক্রামারিচ। অপর দুটি গোল আসে এরমিন বিসাকচিচ, মুনাস দাবৌরের কাছ থেকে। বায়ার্নের হয়ে গোলটি করেন জশুয়া কিমিচ। তবে ম্যাচের এ ফলাফলেও সন্তুষ্ট হওয়ার কথা বায়ার্নের। কারণ হফেনহেইমের ফরোয়ার্ডরা এদিন বেশ কিছু শজ সুযোগ নষ্ট করে। অন্যথায় গোলের হারের ব্যাবধানটা দ্বিগুণ কিংবা আরও বেশি হতে পারতো।
এদিকে ফরাসি লিগ ওয়ানে টানা তৃতীয় জয় পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)। আর্জেন্টাইন তারকা মাউরো ইকার্দির জোড়া গোলে জয় পায় দলটি। তার দুটি গোলই অ্যাসিস্ট করেছেন দলের অন্যতম সেরা তারকা কিলিয়ান এমবাপে। এই দুই তারকার সামনে অনেকটা নিষ্পভই ছিলেন দলের আরেক সুপারস্টার ব্রাজিলিয়ান নেইমার।
প্রতিপক্ষের মাঠে রাতে স্তাদে দি রেইমসকে ২-০ গোলে হারায় পিএসজি। এর আগে নতুন মৌসুমের প্রথম দুই ম্যাচেই হেরে গিয়েছিল দলটি। তবে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। ৫ ম্যাচে তৃতীয় জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে দলটি।
নিষেধাজ্ঞা থেকে এ ম্যাচে ফেরেন দলের সেরা তারকা নেইমার। আর চার নিষেধাজ্ঞায় যাওয়ার আগে এদিন শেষ ম্যাচ খেললেন আরেক তারকা অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। তবে জোড়া গোল করে তাদের ছাপিয়ে এদিন নায়ক ইকার্দি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন