Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ৪ কার্তিক ১৪২৭, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

জেএমআই’র রাজ্জাক দুদকের রিমান্ডে

নকল মাস্ক সরবরাহে ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০৬ এএম

জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফেকচারিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাককে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় এ রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। আজ থেকে দুদক টিম তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে বলে জানা গেছে।

আদালত এবং দুদক সূত্র জানায়, নকল এন-৯৫ সরবরাহের মামলায় গ্রেফতারের পর দুদকের উপ-পরিচালক নূরুল হুদা আব্দুর রাজ্জাকের রিমান্ড প্রার্থনা করেন। আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গতকাল দুপুরে দুদক পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে একটি টিম রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেফতার করে। কেন্দ্রীয় ওষুধাগারের (সিএমএসডি) কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজশে ২০ হাজার নকল এন-৯৫ মাস্ক আসল দেখিয়ে ১০টি হাসপাতালে সরবরাহ করে তার প্রতিষ্ঠান। দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা মেলায় আব্দুর রাজ্জাকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সিএমএসডির সাবেক উপ-পরিচালক ও কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের তত্ত্বাবধায়ক জাকির হোসেন খান, সহকারী পরিচালক (স্টোরেজ অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন) ডা. শাহজাহান সরকার, চিফ কো-অর্ডিনেটর ও ডেস্ক অফিসার জিয়াউল হক, ডেস্ক অফিসার (বর্তমানে মেডিক্যাল অফিসার, জামালপুর) সাব্বির আহমেদ, স্টোর অফিসার (পিআরএল ভোগরত) কবির আহমেদ এবং সিনিয়র স্টোর কিপার ইউসুফ ফকির।

চলতি বছর ১০ জুন থেকে দুদক করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় নিম্নমানের মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সরঞ্জাম ক্রয়সহ বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ওষুধাগারের (সিএমএসডি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে দুদক।

এর আগে মাস্ক-পিপিই কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে ১২ ও ১৩ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এছাড়া মাস্ক-পিপিই ক্রয় দুর্নীতির অনুসন্ধানে এর আগে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে সিএমএসডির ৬ কর্মকর্তাসহ ১২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। এ সময় আব্দুর রাজ্জাককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি।

পরে অনুসন্ধান টিমের সদস্য উপ-পরিচালক মো. নূরুল হুদা বাদী হয়ে সংস্থার সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলা দায়ের করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করেন। ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নিজেরা লাভবান হয়ে ও অন্যকে লাভবান করার অসৎ উদ্দেশে প্রকৃত এন-৯৫ মাস্কের পরিবর্তে জেএমআই ফেস মাস্ক মুদ্রিত বড় কার্টনের মধ্যে এন-৯৫ ফেস মাস্ক সিএমএসডিতে সরবরাহ করে। উৎপাদিত ২০ হাজার ৬১০ পিস নকল এন-৯৫ মাস্ক সিএমএসডি ১০টি প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করে। এর মাধ্যমে আসামিরা দন্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং ১৯৪৭ সালের ২ নম্বর দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: দুদক

২ অক্টোবর, ২০২০
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ