Inqilab Logo

ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭, ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

রিফাত হত্যা মামলায় ৬ জনের ফাঁসির আদেশ : নেটিজেনদের সন্তোষ প্রকাশ

শাহেদ নুর | প্রকাশের সময় : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৬:৩২ পিএম | আপডেট : ৬:৩৩ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ৬ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এ মামলায় ৪ জনকে খালাস প্রদান করা হয়েছে। বুধবার বিচারক মো. আছাদুজ্জামান এ আদেশ দেন।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় হতাশা প্রকাশ করে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হক কিশোর বলেছেন, ‘আমার সঠিক বিচার পাইনি। উচ্চ আদালতে যাব।’ অপরদিকে রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত এই রায় যেন কার্যকর করা হয়, সে দাবি জানান।

এদিকে রিফাতের বাবার মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নেটিজেনরা। পাশাপাশি উচ্চ আদালতে এই রায় বহল থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

সাংবাদিক ও গবেষক মেহেদী হাসান পলাশ ফেইসবুকে লিখেন, ‘অভিনয় ও ভিডিও প্রোডাকশনে তার দক্ষতা এতোটাই সুনিপুণ যে পুরো জাতিকে বোকা বানাতে সক্ষম হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত আদালতের চোখ ফাঁকি দেয়া সম্ভব হয়নি।’

এমডি রুহুল আমিন লিখেন, ‘‘ফেসবুকের উৎসুক জনতার হিরোইন মিন্নির ফাঁসির আদেশ। হিরোইন কেন বলছি? দু’বছর আগে যেদিন রিফাত হত্যার ভিডিও ভাইরাল হলো তখন প্রথম ভিডিওতে দেখা গেলো, একজন নারী সন্ত্রাসীদের হাত থেকে তার স্বামীকে/সঙ্গীকে বাঁচাতে একা প্রাণপণে চেষ্টা করে যাচ্ছে! ভাইরাল ভিডিওর শিরোনাম ছিল এরকম, ‘একজন নারী একা সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের মুখে তার স্বামীক বাঁচানোর চেষ্টা করছে, মানুষজন এগিয়ে না এসে মোবাইলে ভিডিও করছে, তামাশা দেখছে।’ তাৎক্ষণিকভাবে ফেসবুকে মিন্নি সাহসী হিরোইন হিসেবে আখ্যা পেলো আর ভিডিও ধারণ করা মানুষজনেরা গালাগাল খাচ্ছিলো। ধীরে ধীরে আরও কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ হলো। ঘটনা মোড় খেতে খেতে বের হলো, সেই ভিডিওর সাহসী হিরোইনই হত্যার বা ঘটনার অন্যতম পরিকল্পনাকারী। হলো ফাঁসির আদেশ। এই ঘটনা শেখালো ‘চোখের দেখাও সব সময় সইত্য হয় না। চোখে দেখেও পর্যবেক্ষণ করতে হয়, বুঝতে হয়, দেখতে হয়, জানতে হয় গভীরে গিয়ে।’’

মুহাম্মদ মাসুদ লিখেন, ‘স্বামী খাইলো, প্রেমিক খাইল। অবশেষে নিজেই ধরা পড়ল।’

‘বরগুনার রিফাত হত্যা মামলার রায় :অভিনেত্রী মিন্নিসহ ৬ জনের মৃত্যুদন্ড.. দ্রুত এ রায় কার্যকর করার দাবী জানাচ্ছি।’ - জুয়েল খানের দাবি।

ফয়সাল জনি লিখেন, ‘সাবাশ! সাবাশ! সাবাশ! এই রায়কে স্যালুট, মিন্নির মত ..... ...... .... মেয়েকে খোলা ছেড়ে দিলে আরও কয়েকজনের জীবনের অবস্থা রিফাত বন্ডের মত হবে......’

রায়টিকে যুগান্তকারী আখ্যা দিয়ে আফজাল উদ্দিন লিখেন, ‘বাংলাদেশে এটা একটা যুগান্তকারী রায়। এ পর্যন্ত কোন মেয়ের মামলায় ফাঁসির আদেশ কার্যকর হয় নাই। এখন দেখা যাক, এটা কার্যকর হয় কি না। তবে আমার মতে, অবশ্যই কার্যকর হওয়া উচিত। অপরাধীকে লিঙ্গভেদে দেখার সুযোগ নেই । মেয়ে বলে সাজা কমানো উচিতই না। সে তো ক্রাইম মেয়ে বলে কম করে নাই। ক্রাইম তো ঠিকই করেছে।’

বিচার বিভাগকে ধন্যবাদ জানিয়ে ঝর্ণা লিখেন, ‘ধন্যবাদ জানাই বিচার বিভাগকে আশা করি উচ্চ আদালতে এই রায় বহাল থাকবে এবং অতিদ্রুত তা কার্যকর হবে, ইনশাআল্লাহ।’

ফাঁসির আদেশ দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়ে শাহিন লিখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ্‌ শুনে খুবই ভালো লাগছে। দেশে ন্যায় বিচার এখনও রয়েছে, সেটা এই মামলার রায়ে প্রমাণ হল। তবে ফাঁসির আদেশ দ্রুত কার্যকর করা হোক।’

‘অন্যকে শেষ করতে গিয়ে নিজের জীবন শেষ। এখন বাবা মা কত কষ্ট পাচ্ছে... কেন এগুলো করতে যায় মানুষ? ’ - আমিনুল ইসলামের প্রশ্ন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ