Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭, ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

সামাজিক মাধ্যমে আজারবাইজান-আর্মেনিয়া যুদ্ধের উত্তাপ

আবদুল মোমিন | প্রকাশের সময় : ১ অক্টোবর, ২০২০, ৮:১৭ পিএম

আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যকার সংঘর্ষ উত্তাপ ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আর্মেনিয়ার দখলদারিত্বে থাকা আজারবাইজানের ভূখণ্ড দখলমুক্ত করতে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

যুদ্ধে কে জিতবে, কে হারবে কিংবা কার সামরিক শক্তি বেশি ইত্যাদি নানা বিষয়ে পক্ষে বিপক্ষে চুলচেরা বিশ্লেষণ তুলে ধরছেন নেটিজেনরা। এছাড়া সংঘর্ষের সর্বশেষ খবরাখবর গুরুত্বের সাথে জায়গা করে নিয়েছে নেট দুনিয়ায়।

নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চল আজারবাইজানের বলে জাতিসংঘের স্বীকৃতি সত্ত্বেও তার দখল নিয়ে এই যুদ্ধ শুরু করে আর্মেনিয়া। এরইমধ্যে আর্মেনিয়ার উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দিকে দুদেশের মধ্যে বেড়েছে সংঘাতের তীব্রতা। ইতো0মধ্যে আজারবাইজানের পাশে দাঁড়িয়েছে তুরস্ক, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। অন্যদিকে আর্মেনিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে ফ্রান্সের মতো কিছু পরাশক্তি।

ফেসবুকে জৈষ্ঠ্য সাংবাদিক, কলামিস্ট ও গবেষক মেহেদী হাসান পলাশ লিখেছেন, ‘‘আজারবাইজান-আর্মেনিয়া যুদ্ধ ভবিষ্যতের যুদ্ধ কৌশল ও সমরাস্ত্রের নতুন মাত্রা ও পরিচিতি দিয়েছে। প্রচলিত যুদ্ধ কৌশল ও সমরাস্ত্র খুব শিঘ্রই যে সেকেলে হতে চলেছে এই যুদ্ধ তারই নতিজা। Industrial revolution 4.0 এর প্রভাব বৈশ্বিক সমরাস্ত্র প্রযুক্তিতেও পড়েছে ব্যাপকভাবে। automation এবং artificial intelligence এর চমৎকার সমন্বয় ও প্রাধান্য দেখতে পাচ্ছি এই যুদ্ধে। সে কারণে রাশিয়ান উন্নত প্রযুক্তির আর্মেনীয় আর্টিলারি, আর্মার্ড ও মিসাইল বেসগুলো টার্কিশ প্রযুক্তির আজারি UAV গুলো একের পর এক গাইডেড মিসাইল দিয়ে যেভাবে ধ্বংস করেছে তার তুলনা একমাত্র war games এ পাওয়া সম্ভব। আজারবাইজান আর্মেনিয়া যুদ্ধ প্রমাণ করেছে ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে infantry, artillery, armored কোর নয়, এমনকি মনুষ্যবাহী 5th generation এর F-35, J-20, SU-57 ও নয়, আগামী যুদ্ধে জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে নেতৃত্ব দেবে unmanned aerial vehicle(UAV), artificial intelligence সমৃদ্ধ guided missile এবং automatad weapons গুলো। একই সাথে চলবে সাইবার ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ প্রযুক্তি।’’

উজ্জল কান্তি দাসি লিখেছেন, ‘‘আর্মেনিয়া পশ্চিমাদের উস্কানিতে আজারবাইজান এর সাথে যুদ্ধে জড়িয়েছে। যে দেশে মাত্র ৩০ লক্ষ জনগন ঐ দেশকীভাবে আজারবাইজান এর সাথে যুদ্ধ করতে যায় কে জানে এবং যার সাথে আছে স্বয়ং তুরস্কের মতো পরাশক্তি। ভালোই হলো যুদ্ধ হয়েছে।আজারবাইজান তাঁদের প্রাক্তন জমি পুর্নদখল করেছে।আর্মেনিয়ার উচিত আজারবাইজানের ভূমি ছেড়ে দেওয়া এবং ঐ এলাকায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সহায়তা বন্ধ করে আজারবাইজান এর সাথে শান্তিপূর্ন ভাবে অবস্থান বজায় রাখা, কারণ যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি আজারবাইজানের পক্ষে। যুদ্ধ মানব জাতির জন্য কল্যাণকর নয়।’’

সজিব হোসাইন জয় লিখেছেন, ‘‘এ যুদ্ধের দায় বিশ্বের দুটি পরাশক্তিধর দেশ তুরস্ক ও ইউএসএ। যুদ্ধে কখনোই ভালো কিছু আসেনা, দুদেশেরই নিরীহ মানুষ মারা যাবে। এটা খুবই দুঃখজনক।’’

বিলাস রায় লিখেছেন, ‘‘সবে তো শুরু এখনেই জয় পরাজয় ঠিক করা খুব আগাম হয়ে যাবে!এই যুদ্ধ এখনেই শেষ হওয়া নয়। অনেকে সুযোগের সদ্ ব্যবহার করতে চাইবে এর।ইরান কার পক্ষে থাকবে এটাও দেখা যাবে এই যুদ্ধে এবং ইরান সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যাবে,সাথে সাথে তুরস্কেরও সক্ষমতার।’’

বিপুল বাউলী লিখেছেন, ‘‘এই যুদ্ধ শেষমেষ ধর্ম যুদ্ধে পরিণত হবে। কারন ইতিমধ্যেই রাশিয়ার ফ্রান্সের মত পরাশক্তি ধর দেশ আর্মেনিয়ার পক্ষ নিয়েছে। এবং আজারবাইজানের পক্ষ আছে তুর্কি। তাই আজারবাইজান ও তুর্কি কে যে মুখ থুবড়ে পড়তে হবে। এবং যুদ্ধ যদি হয় তাহলে তুর্কি ২০০ বছর পিছনে চলে যাবে।বড় মাপের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তুর্কি কে।’’

কামরুজ্জামান চপল লিখেছেন, ‘‘আজারবাইজান একদম সঠিক কাজ করছে। আরমেনিয়া এত সাহস পায় কোথায়? পরের জমিতে মাতবরি খাটায়। নিজের মাটি দখলমুক্ত করে তারপর ক্ষান্ত হবে আজারবাইজান। আশাকরি তুরস্ক, ইরান পাশে থাকবে। আর ওসব আলোচনা টালোচনা দিয়ে কিছুই হবে না শুধু দীর্ঘশ্বাস বাড়বে। নিজ অধিকার নিজে আদায় করে নিতে হবে,কেউ আদায় করে দেবে না। আমরা আরেকটি ফিলিস্তিন চাই না।’’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সোশ্যাল মিডিয়া


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ