Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭, ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

সখিপুরে টাকার বিনিময়ে মিলছে বন বিভাগের জমি!

সখিপুর(টাঙ্গাইল)উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১ অক্টোবর, ২০২০, ৯:৪৫ পিএম

বনবিভাগের জমিতে সামাজিক বনায়ন ছাড়া কোন কিছুই করার বিধান নেই। তবুও টাঙ্গাইলের সখিপুরে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মিলছে জমি। আর সেই জমিতে আধা-পাকা ঘর বা দালান কিংবা টয়লেট করতে বন বিভাগের বিট কর্মকর্তাকে দেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। এ কারণে ওই উপজেলায় দিন দিন বন বিভাগের জমি বেদখল হয়ে যাচ্ছে। আর এই সুযোগে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বনের গাছ কেটে জমি দখল নিয়ে গড়ে তুলছেন ঘর-বাড়ি।

সরেজমিন সখিপুর উপজেলার হাতীবান্ধা ইউনিয়নের সরাতৈল গ্রামের গিয়ে এমন চিত্রই দেখা যায়। চারিদিকে সাড়ি সাড়ি গাছ আর ভেতরে নতুন নতুন ঘর-বাড়ি। শত শত নতুন নতুন টিনের ঘর আর দালানে ভরে গেছে পুরো বন। দেখলেই মনে হয় এ যেন নতুন একটি গ্রাম। না এটি কোন গ্রাম নয়। এটি বন বিভাগের সামাজিক বনায়ন প্রকল্প। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বন বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে টাকার বিনিময়ে জমিগুলো সামাজিক বনায়নের নামে দখলে নিয়ে সেখানে নির্মান করছেন বড়বড় দালান ও আধাপাকা ঘরবাড়ি। এতে করে সামাজিক বনায়নের নাম করে দিন দিন দখল হয়ে যাচ্ছে শতশত একর ভূমি। আবার ক্ষমতাসীন দলের নেতা/কর্মী

রা সামাজিক বনায়নের অংশীদার হয়ে লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে বাগানসহ জমি বিক্বরি করে দিয়েছে।বনের ভেতর চোখ যেতেই দেখা যায় নতুন টিনের তৈরি ঘর। সেই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় সেখানে থাকার ঘর ছাড়াও আধা-পাকা করে নির্মান করা হয়েছে গরুর খামার,পোল্ট্রি ফার্ম। বাড়িতে অপরিচিত লোক এসেছেন দেখে এগিয়ে আসেন এক নারী। বাড়িটি কার জিজ্ঞেস করলেই উত্তরে তিনি জানান, বাড়িটি তার স্বামীর। তার নাম আব্দুল লতিফ। বন বিভাগের জায়গায় ঘর তুলেছেন কেন জানতে চাইলে তিনি জানান, থাকার জায়গা নেই। তাই এই জমিটি বন বিভাগের কর্মকর্তার কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে নেয়া হয়েছে। আবার টয়লেট, রান্নাঘর, থাকার ঘর ও গরু রাখার ঘরের জন্য আলাদা আলাদা টাকা দিতে হয়েছে। তা না হলে তো ঘর তুলতে দেয় না।


একই অবস্থা আব্দুল কাদের মোল্লা, জুলহাস মিয়া, আব্দুল জয়নাল মিয়ার বাড়ি। তারা বাড়ি করেছেন ৬/৭ মাস আগে। তাদের বাড়িতে গিয়েও দেখা যায় তারা বন বিভাগের জমিতে নতুন টিনের ঘর তৈরি করেছেন।
এছাড়া পাশেই সমির সিকদারের বাড়ি। তার দখলে থাকা জমিতে রয়েছে তিনটি ঘর। কিন্তু তিনি নতুন করে আধা-পাকা ঘর নির্মানের জন্য বিট কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করছেন বলে জানান।

১০০ গজ দূরেই চোখে পড়লো টিন সেড ভবন। সেখানে গিয়ে খোঁজ করা হয় ভবনের মালিকের। একটু পড়েই এসে হাজির এক নারী। তিনি জানান, এই ভবনের মালিক হান্নান মিয়া। তিনি তার স্বামী। কিভাবে বন বিভাগের জমিতে ভবন করছেন জানতে চাইলে তিনি জানান, সরকারি জমি নেওয়া থেকে ভবন নির্মানের শুরুতে ৫০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে বিট কর্মকর্তাকে। আরো টাকা চেয়েছেন কিন্তু তা দেয়া হয়েছে কিনা আমি জানি না। তবে টাকা দেয়ার পরই ভবন নির্মানের কাজ শুরু হয়েছে। এখনো শেষ হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে আঁতাত করে এভাবেই সরকারি জমি প্রভাবশালীরা দখল করে রেখেছেন। আবার সেখানে ঘর-বাড়ি নির্মানও করছেন। এভাবে চলতে থাকলে পুরো বন উজাড় হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল বনবিভাগের সখিপুর উপজেলার বাজাইল বিট কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম খান জানান, তিনি গত এক মাস আগে এখানে দায়িত্ব নিয়েছেন। টাকার বিনিময়ে ঘর নির্মানের বিষয়টি তিনি জানেন না।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: জমি

২০ অক্টোবর, ২০২০
৮ অক্টোবর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ