Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

সিআরপিতে ভর্তি হলেন ওয়াহিদা

নিউরোসায়েন্স হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেন বাবা-মেয়ে

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০২ এএম

এক মাসের মধ্যে ইউএনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন : চিকিৎসক

এক মাস আগে প্রায় মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা আনা হয়েছিল দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমকে। ভর্তি করা হয়েছিল রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে। চিকিৎসকরা জানান, অচেতন অবস্থায় স্ট্রেচারে করে আসা ওয়াহিদা এখন প্রায় সুস্থ। তাই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। একই সাথে তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখকেও ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। পরে ফিজিওথেরাপির জন্য দুইজনকেই মিরপুরের সিআরপিতে ভর্তি করা হয়।

এদিকে, ছাড়পত্র পাওয়ার পর গতকাল দুপুর পৌনে একটার দিকে হুইল চেয়ারে করে হাসপাতালের নিচে নেমে আসেন ইউএনও ওয়াহিদা খানম। এরপর হেঁটে অ্যাম্বুলেন্সে ওঠেন তিনি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফিজিওথেরাপির জন্য তাকে ও তার বাবাকে মিরপুরের সিআরপিতে নিয়ে যাওয়া হয়।

চিকিৎসকরা বলছেন, ওয়াহিদার ডান হাত ডান পায়ের শক্তি ফিরে এসেছে। তবে শতভাগ শক্তি ফেরা জন্য তাকে মিরপুরের পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি) পাঠানো হয়। সেখানে তাকে ফিজিওথেরাপি দেয়া হবে। ফিজিওথেরাপিতে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন। এতে আরো এক মাস সময় লাগবে বলে জানান চিকিৎসকরা।

ইউএনও ওয়াহিদাকে বিদায় দেওয়ার পর তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের নিউরো ট্রমা বিভাগের প্রধান নিউরোসার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, যখন তিনি আহত হয়ে এখানে ভর্তি হন তখন তার অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন। আমরা যখন তাকে দেখেছি, তখন অপারেশন করার মতো অবস্থায় তিনি ছিলেন না। আমরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অপারেশন করার মতো একটা অবস্থায় নিয়ে আসি। তারপর তার অপারেশন করেছি।
তিনি বলেন, অপারেশনের পর প্রথমে তার ব্রেন ঠিক মতো কাজ করছিল না। প্রেসার ঠিক ছিল না। তবে দু-তিন দিনের মধ্যে তিনি একটু সুস্থ হলেও ডানপাশ কোনোভাবেই কাজ করছিল না। শরীরের ডান পাশে তার পাওয়ার শূন্য ছিল। এক সপ্তাহ পর থেকে তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হতে শুরু করেন। শরীরের ডান পাশটা নাড়াতে শুরু করেন। এরপর বিগত প্রায় তিন সপ্তাহের চিকিৎসায় আল্লাহর রহমতে তিনি এখন ডান পাশ পুরোটাই নাড়াতে পারছেন এবং হাঁটতে পারছেন। একটু আগে তিনি হেঁটে অ্যাম্বুলেন্সে উঠেছেন। এখানে তার অপারেশনটা একশভাগ সাকসেসফুল হয়েছে বলে আমরা বলতে পারি।

ডা. জাহেদ বলেন, তার ডান হাত ডান পায়ের শক্তি ফিরে এসেছে। যদিও শতভাগ ফেরেনি। সেজন্য তাকে আমরা মিরপুরের সিআরপিতে রেফার্ড করেছি। ওখানে তাকে ফিজিওথেরাপি দেয়া হবে। আশা করি ফিজিওথেরাপিতে ইনশাআল্লাহ তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন। আমরা আগেও বলেছি, শুরুতে তার ব্রেইন ড্যামেজ ছিল। মাথার খুলির হাড্ডি ভেঙে ব্রেনের ভেতর ঢুকে গিয়েছিল। সেটা আমরা অপারেশন করে তুলে দিয়েছি। যে কারণে তার ব্রেনে ড্যামেজ হয়েছিল, যেটা আমরা বলি কনটিউশন। ব্রেনের ড্যামেজটা রিকভার হয়েছে। তবে আগামী এক মাসের মধ্যে তিনি নরমাল বা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন এবং কর্মস্থলেও ফিরতে পারবেন বলে আমরা আশা করছি।

তিনি আরো বলেন, ওয়াহিদার মানসিক ট্রমা কাটানোর জন্য আমরা তাকে সার্বক্ষণিক ফিজিওথেরাপি এবং মানসিকভাবে বুষ্টআপ করার চেষ্টা করেছি। বাকি যতোটুকু দরকার তা সিআরআপি করবে। আজকে তাকে আমরা ছাড়পত্র দিলাম, যদিও তাকে হাঁটার অনুমতিও আমরা দেইনি। তার জন্য আর কোনো অপারেশন ব্যবস্থা নেই, যেটা আমরা করবো। রিকভারিটা এখন অপারেশন ছাড়াই হবে। শতভাগ রিকভারি হবে কি-না, সেটা আমরা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। ওয়াহিদার সাথে সাথে তার বাবাকেও আমরা সিআরপিতে পাঠিয়েছি।
প্রসঙ্গত, গত ২ সেপ্টেম্বর দিনগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনওর সরকারি বাসভবনে ঢুকে হামলা কওে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে গেটে দারোয়ানকে বেঁধে ফেলে তারা। পরে বাসার পেছনে গিয়ে মই দিয়ে উঠে ভেন্টিলেটর ভেঙে বাসায় প্রবেশ করে হামলাকারীরা। ভেতরে ঢুকে ভারী ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং আঘাত করে ইউএনও ওয়াহিদাকে গুরুতর আহত করে তারা।

এ সময় মেয়েকে বাঁচাতে এলে বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখকে (৭০) জখম করে দুর্বৃত্তরা। পরে তারা অচেতন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ভোরে স্থানীয়রা টের পেয়ে তাদের উদ্ধার করেন। ওয়াহিদাকে প্রথমে রংপুরে ও পরে রংপুর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকায় আনা হয়। গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে অস্ত্রোপচারের পর নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয় ওয়াহিদাকে। তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে চার দিন পর তাকে আইসিইউ থেকে হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) স্থানান্তর করা হয়। অপরদিকে গত ১২ সেপ্টেম্বর তার বাবাকেও রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। পরে তাকেও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে ইউএনওর ওপর হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করলেও মূল আসামি হিসেবে রবিউল নামের একজনকে চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আসামি রবিউল আদালতে এ বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

এছাড়া গত ১৯ সেপ্টেম্বর ওয়াহিদা খানমকে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করা হয়। একই সঙ্গে রংপুরের পীরগঞ্জে ইউএনও হিসেবে কর্মরত থাকা তার স্বামী মো. মেজবাউল হোসেনকে ঢাকায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়।

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইউএনও

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন