Inqilab Logo

ঢাকা রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ৮ কার্তিক ১৪২৭, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

বন্যায় তীব্র নদীভাঙন

ঢাকা-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক পানির নিচে

শফিউল আলম | প্রকাশের সময় : ২ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০১ এএম

৯টি নদ-নদী ১১ পয়েন্টে বিপদসীমার ঊর্ধ্বে : মোহনায় পানির তীব্র চাপ ঘূর্ণিস্রোত

উজানে ভারত থেকে অব্যাহত ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সাথে মধ্য-আশি^নের অকাল বন্যায় প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। অব্যাহত রয়েছে তীব্র নদীভাঙন। বানবাসি অসংখ্য মানুষের কষ্ট-দুর্ভোগ অবর্ণনীয়। পদ্মা ও যমুনা নদীর সঙ্গে গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রহ্মপুত্র নদ আবারও বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। ৯টি নদ-নদী ১১ পয়েন্টে বিপদসীমার ঊর্ধ্বে প্রবাহিত হচ্ছে। দেশের উত্তরাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল থেকে ভাটি হয়ে পদ্মা-মেঘনার মোহনা অবধি পানির প্রচÐ চাপ এবং ঘূর্ণিস্রোত সৃষ্টি হয়েছে।

টানাবৃষ্টি ও ভারতের ঢলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি ১৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে কাজীপুর পয়েন্টে বিপদসীমার ৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নাটোরে আত্রাই নদীর পানি সিংড়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গাইবান্ধায় করতোয়া নদীর পানি কাটাখালী পয়েন্টে বিপদসীমার ১১১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

সুুন্দরগঞ্জে ঘাঘট নদীর বাঁধ ভেঙ্গে ১০ গ্রাম প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়েছে ২ হাজার পরিবার। ঢাকা-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ৩টি অংশ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে গোবিন্দগঞ্জ থানা মোড় থেকে দিনাজপুর সড়কে ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পানি উঠায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা।

প্রধান নদ-নদীসমূহের উজানের অববাহিকায় ভারতে এখন বর্ষণ নেই। তবে অতিসম্প্রতি এক সপ্তাহেরও বেশিদিনের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উজানের ঢল নামছে এখনও। তাছাড়া উজানে ভারত ফারাক্কাসহ অনেকগুলো বাঁধ-ব্যারেজের গেইট খুলে পানি ছেড়ে দিয়েছে। এতে করে ঢল-বানের পানি আসা অব্যাহত রয়েছে।
গতকাল পাউবো’র বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদে পানির সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় উভয় নদে পানি স্থিতিশীল বা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। অন্যদিকে গঙ্গা নদীর পানির সমতল স্থিতিশীল রয়েছে। পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পরিস্থিতি আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

দেশের নদ-নদীর ১০১টি পানির সমতল পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে গতকাল ৫৩টি পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি ও ৪৫ পয়েন্টে হ্রাস পায়। ৩টি স্থানে অপরিবর্তিত থাকে। ৯টি নদ-নদী ১১টি পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদ-নদী প্রবাহের গতকাল সর্বশেষ তথ্য-উপাত্তে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমা বরাবর প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র নদ নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৭ সে.মি. নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নেপাল ও ভারতের বিহারে অতি বর্ষণ, উজানে গঙ্গা নদীতে ফারাক্কা বাঁধের গেইট খুলে দেয়ার ফলে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পদ্মা নদী গোয়ালন্দে বিপদসীমার ১২ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পদ্মা নদী রাজশাহীতে বিপদসীমার ১৯৬ সেন্টিমিটার নিচে, হার্ডিঞ্জ ব্রিজে ১৩১ সে.মি. নিচে, তালবাড়িয়ায় ১২০ সে.মি. নিচে এবং ভাটিতে ভাগ্যকুলে ৩৭ সে.মি. ও মাওয়ায় ৩২ সে.মি. নিচে প্রবাহিত হচ্ছে।
যমুনা নদে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গতকাল থেকে যমুনা ৩টি পয়েন্টে বিপদসীমার ঊর্ধ্বে প্রবাহিত হচ্ছে। বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনায় পানি আরও বেড়ে গিয়ে বিপদসীমার ২৬ সে.মি., কাজীপুরে ১০ সে.মি. এবং বাহাদুরাবাদে ২ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনা সিরাজগঞ্জে মাত্র ২ সে.মি. নিচে রয়েছে।

নওগাঁ থেকে এমদাদুল হক সুমন জানান, ভারত থেকে নেমে আসা ঢল ও গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নওগাঁয় ছোট যমুনা ও আত্রাই নদীতে পানি বৃদ্ধি হয়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ছোট যমুনা নদীর লিটন ব্রীজে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার, মহাদেবপুর আত্রাই নদীতে ২৬ সেন্টিমিটার, মান্দার আত্রাই নদীর জোতবাজার পয়েন্টে ৬২ সেন্টিমিটার, ধামইরহাট উপজেলার আত্রাই নদীর শিমুলতলি ব্রীজে ১২৭ সেন্টিমিটার এবং আত্রাই উপজেলায় আত্রাই রেলওয়ে ষ্টেশন পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে জেলার আত্রাই এবং মান্দা উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কমপক্ষে ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এই বন্যায় জেলার ৪ হাজার ৭৬৭ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়েছে।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে মোশাররফ হোসেন বুলু জানান, গত কয়েক দিনের টানা ভারি বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পানির ঢলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দের গারোকাটা এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় ঘাঘট নদীর পানি ঢুকে ১০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে দুই হাজার পরিবার। বন্যার পানি ঢুকে দুই হাজার হেক্টর আমন ক্ষেত সম্পুর্নভাবে নিমজ্জিত হয়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে করে বামনডাঙ্গা, সর্বানন্দ ইউনিয়নসহ ঘাঘট নদীর পূর্বাঞ্চলীয় কয়েকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে রবিউল কবির মনু জানান, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ঢাকা-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ৩টি অংশ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। গোবিন্দগঞ্জ থানামোড় থেকে দিনাজপুর সড়কে ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বন্যার পানি ওঠায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। বন্যার পানিতে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ২হাজার ৭৮০ হেক্টর জমির আমনধান, ২১০ হেক্টর জমির শীতকালীন শাকসবজি সহ প্রায় তিনহাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।

নাটোর জেলার সিংড়া ও নলডাঙ্গায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। আত্রাই নদীর পানি সিংড়া পয়েন্টে আরও বেড়ে বিপদসীমার ১১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির চাপে শোলাকুড়া ও হিয়াতপুর এলাকায় আত্রাই নদীর বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। সিংড়া পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। নলডাঙ্গায় বারনই নদীর পানি বিপদ সীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

টাঙ্গাইলের বাসাইলে বন্যার পানির প্রবল স্রোতে কালভার্ট ভেঙে যাওয়ায় তিন উপজেলার ৩০টি গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষজন। গতকাল ভোরে বাসাইল পৌরসভার দক্ষিণপাড়া গারামাড়া বিল সংলগ্ন বাসাইল-নাটিয়াপাড়া সড়কের কালভার্টটি ভেঙে যায়।

 



 

Show all comments
  • স্বরন ২ অক্টোবর, ২০২০, ৯:৩৪ এএম says : 0
    আমাদের এখানে বন্যার পানি বেড়ে চলেছে,,, এতে অনেক ফসল ডুবে যাচ্ছ,, এতে অনেক কৃষকের অনেক খয় খতি হচ্ছ,, স্থান চর সরিষাবাড়ী।
    Total Reply(0) Reply
  • স্বরন ২ অক্টোবর, ২০২০, ৯:৩৫ এএম says : 0
    আমাদের এখানে বন্যার পানি বেড়ে চলেছে,,, এতে অনেক ফসল ডুবে যাচ্ছ,, এতে অনেক কৃষকের অনেক খয় খতি হচ্ছ,, স্থান চর সরিষাবাড়ী।
    Total Reply(0) Reply
  • Jack Ali ২ অক্টোবর, ২০২০, ৫:০৮ পিএম says : 0
    Flood will not have any affect to our PM and and the big boss, they are getting paid by our hard earned money. We will suffer endlessly because we have forgotten Allah.
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বন্যা

২ অক্টোবর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ