Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১২ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

নারীর সম্ভ্রমহানীকে শিল্পে পরিণত করেছে ছাত্রলীগ-যুবলীগ: রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩ অক্টোবর, ২০২০, ৫:৫৭ পিএম

নারীর সম্ভ্রমহানীকে ছাত্রলীগ-যুবলীগ শিল্পে পরিণত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, আজকে যুবলীগ-ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের নেতারা নারীর সম্ভ্রমহানীকে শিল্প মনে করছে। শেখ হাসিনা মুখ রক্ষা করবেন কিভাবে? চারিদিকে রক্তপাত ঘটিয়ে লাশের পর লাশ সাজিয়ে আপনি ক্ষমতায় থাকবেন?

শনিবার (০৩ অক্টোবর) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ইতিহাস বিকৃত করে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাটক বানানোর প্রতিবাদে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, আমি বারবার বলছি এই সরকার আর বেশি দিন নেই। চারিদিক থেকে কেনো জানি এই সরকারের পতনের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। কারণ এই সরকার তো নিজেই একটা নাটকবাজ সরকার। প্রধানমন্ত্রী যখন উন্নয়নের কথা বলে তখন মানুষ বলে এটা উন্নয়ন না এগুলো একটা নাটক। প্রধানমন্ত্রী যখন কোনো ঘটনায় ইনস্ট্যান্ট কান্নাকাটি করে তখন মানুষ মনে করে এই কান্না হচ্ছে একটা নাটক। প্রধানমন্ত্রী যখন একটা প্রতিশ্রুতি দেন জনগণ মনে করে এটি একটি নাটক। অর্থাৎ নাটক মানেই হচ্ছে বানানো একটি ঘটনা।

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগের প্রধানমন্ত্রী যা বলেন, যা করেন, যা প্রতিশ্রুতি দেন সেটা মানুষ নাটক বলেই মনে করে। এই সরকারের সামান্য কিছু হালুয়া-রুটির ভাগ পাওয়ার জন্য যারা এ দেশের বরেণ্য সন্তান আমাদের মুক্তিযুদ্ধের এক বিশাল বীর। তার বিরুদ্ধে যখন কলংক লেপন করে সেটা আবার কোনো বড় নাট্যকার নয়। সেটা আবার একজন বটতলার, মানুষ বলে না বটতলার ঔপন্যাসিক যাদের কোনো জায়গা নেই। কিছু টাকা দিলে তারা এই সমস্ত উপন্যাস বা নাটক লেখেন।

ইতিহাসের পটভূমি তুলে ধরে রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমান যখন স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন, কোথায় তার স্ত্রী কোথায় তার সন্তান তাদের কথা চিন্তা না করে। কত বড় দেশপ্রেমিক হলে, কত বড় দেশ প্রেমের আগুন তার হৃদয়ের মধ্যে জ্বলে উঠলে সমস্ত স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে শুধু দেশের কথা চিন্তা করে স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই বীরের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করা হচ্ছে, তার সহধর্মিণী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র যখন বারবার পদদলিত হয় সেই গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনেন তিনি।

তিনি বলেন, যিনি সবসময় গণতন্ত্র হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে এনেছেন। বাকশালের পর এরশাদ যখন দ্বিতীয়বার গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল তখন আজকের প্রধানমন্ত্রী কি বলেছিলেন সবারই মনে আছে তিনি বলেছিলেন আই এম নট হ্যাপি। অর্থাৎ হত্যাকারীদের দোসর প্রধানমন্ত্রী এবং এরশাদের কাছ থেকে গণতন্ত্রকে মুক্ত করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তার বিরুদ্ধেও নাটক!

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, জনগণ মনে করে নাটক মানেই তো বানানো। আমি আগেও বলেছি খালেদ, শামীম, সম্রাট, জেকেজি, সাবরিনা, সাহেদ এদের তো কোটি কোটি টাকা। তখন নাট্যকাররা মনে করেছে আমরাও এমন একটা কাজ করি প্রধানমন্ত্রী আমাদের কে বাহবা দেবে। সেটা কি হতে পারে যাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে বেশি প্রতি হিংসা তিনি যাদেরকে সহ্য করতে পারেনা। তাদের বিরুদ্ধে আমরা একটা কিছু করি তাহলে আমরাও শাহেদ সাবরিনাদের মতো টাকা বানাতে পারব, এই উদ্দেশ্য নিয়ে নাটক করেছেন সরকার তাদেরকে বাহবা দিচ্ছে। এই নাটক আবার কয়েকটি টেলিভিশনে প্রচার করা হয়েছে। যার মালিক আবার ক্ষমতাসীন দলের নেতা। অর্থাৎ তার মন্ত্রী হওয়া দরকার আর এই বস্তাপঁচা চটি নাট্যকারদের টাকা দরকার।

নাট্যকারদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, কিন্তু ওরা জানেনা বাংলার মাটি চৈত্র মাসে কঠিন রূপ ধারণ করে। এই মাটি যখন আপনাদের দিকে নিক্ষিপ্ত করবে জনগণ তখন আপনারা বাংলাদেশের কোন জায়গায় আশ্রয় পাবেন না। এগুলো মাথায় রেখে অপকর্ম বন্ধ করুন। আপনারা মনে করবেন না বাংলার মাটি চিরদিন কাউকে গ্রহণ করে বিশেষ করে অন্যায়-অবিচার-অত্যাচার যারা করে।

রিজভী বলেন, চারিদিক থেকে ধিক্কার উঠেছে, যেখানে নারীর সম্ভ্রমহানি সেখানেই ছাত্রলীগ, যেখানে নারীর উপর নির্যাতন সেখানে ছাত্রলীগ না হয় যুবলীগের নেতা কর্মী। আপনি এমসি কলেজ বলেন, আপনি পাহাড়ে দেখবেন গত পরশুদিন মিরপুরে এক গৃহকর্মীকে সম্ভ্রমহানি করা হয়েছে। কে করেছে ছাত্রলীগ। চারিদিকে কলঙ্কের বোঝা। চারিদিকে মানুষ ছি ছি ছি করছে। এই সমস্ত ঘটনাকে ঢাকার জন্যই তারা তাদের অনুগত নাট্যকারকে দিয়ে চটি বস্তাপঁচা নাটক রচনা করেছে। যাতে এমসি কলেজের সেই লোমহর্ষকমূলক নারীর সম্ভ্রমহানির ঘটনা ঢাকা পড়ে যায়।

সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে রিজভী বলেন, সীমান্ত রক্তাক্ত হচ্ছে। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে রক্তাক্ত সীমান্ত হচ্ছে বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত। আপনি (প্রধানমন্ত্রী) একটাও কথা বলতে পারেন না। প্রতি দুই দিনে একটা করে মানুষ সেখানে খুন হচ্ছে বিএসএফের হাতে। আপনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন ভারতের সাথে আমাদের স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক। আবার নাকি রক্তের সম্পর্ক। আপনি বললেন না রক্তের গ্রুপ কি এ পজেটিভ নাকি বি পজেটিভ এটাও বলে দিতে পারতেন। ভারতের এই রক্তের গ্রুপ বাংলাদেশের এই রক্তের গ্রুপ এটাও বলতে পারতেন সেটা বলেন আপনি।

তিনি বলেন, যখন বিএসএফ আমাদের লোক ধরে নিয়ে গিয়ে মারে, তখন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন এরা হলো সন্ত্রাসী। বিজিবি কি বলেন- এরা গরু চোর। অর্থাৎ ভারতের বিএসএফের রক্তপাতকে এরা সাফাই গাইছে।

কত নতজানু কত ন্যক্কারজনক নিজের আত্মা বিক্রি করে দেয়া সরকার। কারণ জনগণ তাদের দরকার নেই রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব। এদের দরকার হচ্ছে শুধু অমল ধবল ক্ষমতা। এই অমল ধবল ক্ষমতার জন্য তারা দেশের স্বাধীনতা, পতাকা ওরা নারীর ইজ্জত সম্ভ্রমহানি সব বিক্রি করে দিয়েছে। ওরা ক্ষমতায় থাকলে কারো কোনো নিরাপত্তা নেই।

রিজভী বলেন, আপনার সন্তান আপনার মা, আপনার বোন প্রত্যেকে নিরাপত্তাহীনতায় থাকবে। এদেরকে ক্ষমতায় থেকে নামাতে হবে গলায় গামছা দিয়ে না হলে কারও কোনো নিরাপত্তা থাকবে না।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সাইফুল আলম নীরবের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোর্তাজুল করিম বাদরু, মহানগর দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মজনু, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহিন প্রমুখ বক্তব্য দেন। উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ সাধারণ সম্পাদক কাজী ইফতেখায়রুজ্জামান শিমুল।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রিজভী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ