Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

নামছে বন্যার পানি সর্বত্র ক্ষতির চিহ্ন

নদ-নদীর ৩২ পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি ৬৭টিতে হ্রাস : ৭ নদী বিপদসীমায়

শফিউল আলম | প্রকাশের সময় : ৫ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০৫ এএম

আশ্বিনের অকাল ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যার পানি গতকাল রোববার থেকে নামতে শুরু করেছে। এর ফলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। মৌসুমী বায়ু ও লঘুচাপ আবারো যদি সক্রিয় না হয় তাহলে এক সপ্তাহের মধ্যে বানের পানি নেমে যাবে এবং বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে এমনটি সম্ভাবনার কথা জানায় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ সূত্র। গতকাল প্রধান নদ-নদীর ৩২টি পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেলেও ৬৭টি পয়েন্টে হ্রাস পায়। এরমধ্যে ৭টি নদ-নদী ৯টি পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বেশিরভাগ স্থানে পানি হ্রাসের দিকে।

বন্যার পানি নামার সাথে সাথেই সর্বত্র ভেসে উঠছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। তাছাড়া পানি নামার তীব্র চাপ ও ঘূর্ণিস্রোতে নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-মধ্যাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল থেকে ভাটিতে পদ্মা ও মেঘনার মোহনায় নদীভাঙনের একই চিত্র। প্রতিদিনই বসতভিটে, ফল-ফসলি জমি-হারা মানুষ ছুটছে আশ্রয়ের খোঁজে। তাদের দুঃখ-দুর্ভোগের যেন শেষ নেই।

সড়ক রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা, মসজিদ, হাটবাজার গ্রাস করছে প্রমত্তা নদ-নদী। গত জুন মাস থেকে চলতি অক্টোবর তথা আশি^নের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত কোথাও পাঁচ দফায় কোথাও তিন-চার দফায় নজিরবিহীন বন্যা কবলিত হয়েছে এ যাবত দেশের ৩৩টি জেলা। উজানে অতিবর্ষণে ঢলের কারণে এবার দফায় দফায় বন্যায় প্লাবিত হয় দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা।

এদিকে আসাম, মেঘালয়, অরুণাচল, ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ, হিমালয় পাদদেশীয় অঞ্চলগুলোসহ উত্তর-পূর্ব ভারতে গত কয়েক দিনে তেমন বৃষ্টিপাত হয়নি। অন্যদিকে বিহার রাজ্যসহ মধ্য-ভারত, নেপালেও অকাল বর্ষণ থেমেছে। গঙ্গায় ফারাক্কা, তিস্তায় গজলডোবাসহ উজানে ভারতের অনেকগুলো বাঁধ-ব্যারেজের গেইট খুলে আগেই পানি ছেড়ে দেয়ায় ভাটিতে ঢল আসাও প্রায় নিঃশেষ। তাছাড়া উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও এর সংলগ্ন উড়িষ্যায় অবস্থানরত লঘুচাপটি এখনও ঘনীভ‚ত হয়নি। এরফলে দেশে বন্যা পরিস্থিতি এ মুহূর্তে উন্নতির দিকে।

পাউবো’র বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্র গতকাল জানায়, কুশিয়ারা ছাড়া দেশের প্রধান নদ-নদীসমূহের পানি হ্রাস পাচ্ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-মধ্যাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও পদ্মা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকতে পারে।

দেশের প্রধান নদ-নদীসমূহের ১০১টি পানির সমতল পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে গতকাল ৩২টি পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি ও ৬৭টি স্থানে হ্রাস পায়। দু’টি পয়েন্টে পানি অপরিবর্তিত থাকে। ৭টি নদ-নদী ৯টি স্থানে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। শনিবার নদ-নদীর ৫০টি পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি ও ৪৯টি পয়েন্টে হ্রাস পায়।
নদ-নদী প্রবাহের গতকাল সর্বশেষ তথ্য-উপাত্তে জানা গেছে, উত্তর জনপদে যমুনা নদে পানি হ্রাস অব্যাহত রয়েছে। এখন দু’টি পয়েন্টে যমুনা বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এরমধ্যে সারিয়াকান্দিতে ৭ এবং কাজীপুরে এক সে.মি. ঊর্ধ্বে প্রবাহিত হচ্ছে। উভয় পয়েন্টে কমছে যমুনার পানি। পদ্মা নদীর উজান ও ভাটিতে সবক’টি পয়েন্টে পানি কমছে। পদ্মা গোয়ালন্দে বিপদসীমার ১৯ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

উত্তর জনপদের গাইবান্ধায় ঘাঘট নদীর পানি আরও হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার ৪ সে.মি. উপরে রয়েছে। চক রহিমপুরে করতোয়া নদীর পানি বিপদসীমার ১০৩ সে.মি. ঊর্ধ্বে, সিংড়ায় গুর নদীর পানি হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার ২৮ সে.মি ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। মধ্যাঞ্চলে ধলেশ^রী নদীর পানি কিছুটা হ্রাস পেয়ে এলাসিন ঘাটে বিপদসীমার ২৩ সে.মি. ওপরে রয়েছে।

উত্তরাঞ্চলে নওগাঁ জেলার আত্রাইয়ে আত্রাই নদীর পানি হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার ৩ সে.মি. ঊর্ধ্বে রয়েছে। বাঘাবাড়ীতে আত্রাই নদীর পানি প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে এবং বিপদসীমার ১৫ সে.মি. উপরে প্রবাহিত হচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বন্যা

২ অক্টোবর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন