Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬, ২২ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

পূর্ব বগুড়ায় অপ্রতিরোধ্য বালু সিন্ডিকেট : নিরব পাউবো

প্রকাশের সময় : ১৩ আগস্ট, ২০১৬, ১২:০০ এএম

মহসিন রাজু, বগুড়া থেকে : গাইবান্ধার ফুলছড়ি থেকে বগুড়ার সোনাতলা, সারিয়াকান্দি, ধুনট এবং সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার উত্তর প্রান্তে শত কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় নদী ভাঙন রক্ষায় দেড় দশকে আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত হয়েছে বাঁধ -স্পার - গ্রোয়েন – ফিসপাস গেটসহ অসংখ্য স্থাপনা। কিন্তু তার পরও এসব কিছুই কোন কাজে আসছেনা কেবলই পানি উন্নয়ন বোর্ড সংক্ষেপে পাউবো’ নামের একটি সংস্থার কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কারণে। বর্ষা এলেই হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্থাপনাগুলো ধসে যায়, ভেঙে যায়, বাঁধের ফুটো দিয়ে পানি চুঁইয়ে পড়ে আর রাতের আঁধারে চলে বালি বা মাটি ভর্তি জিও টেক্স ব্যাগ ফেলার মহড়া, আর এক ব্যাগ ফেলার মহড়া দিয়ে বিল করা হয় হাজার ব্যাগের!
পত্রিকায় সংবাদ বের হলে পাউবো কর্মকর্তাদের নিয়ে ঠিকাদার ও বালু সরবরাহকারীরা সাইট ভিজিটের নামে করে নৌ-বিহারের আয়োজন। কোন রকম লজ্জা শরম ছাড়াই নৌ-বিহারের ছবি ফেস বুকের ওয়ালে পোস্টও করা হয়। এখন নদী ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষদের হাতে হাতে স্মার্ট মোবাইল ফোন এবং তাতে ফেসবুক একটিভ থাকায় সেই ছবি দেখে নানা রকম কমেন্ট ও করে তারা।
কিন্তু পাউবো কর্মকর্তা ও জরুরী কাজ’ কাজ পাওয়া ঠিকাদার ও বালু সরবরাহকারী কোটিপতিদের কিচ্ছু যায় আসে না ।
সম্প্রতি এব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পূর্ব বগুড়া এলাকায় যমুনাতে পানি একটু কমলেই একটি বালু সিন্ডিকেট বাঁধের কোল ঘেঁষেই তুলতে থাকে বালু। এই বালু তোলার কারণে পাউবো’র স্থাপনাগুলোর মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন ও পাউবো কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিরা থাকে উদাসীন দেখিয়ে থাকে। কারণ বালুর কারবার থেকে খুব সহজেই কাঁচা পয়সা পাওয়া যায়। একটি সরে জমীন অনুসন্ধানে দেখা যায় বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই নেতা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এদের একজন হল ‘রফিকুল অন্যজন মাহমুদুল। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধুনটের ভান্ডারবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে ভুতমারী গ্রামে ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম যমুনার বুকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। ইতিমধ্যে অর্ধকোটি টাকার বালু উত্তোলন করা হয়েছে। তলদেশ থেকে এভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে পাইপের সাহায্যে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর গভীরতা সৃষ্টি হয়ে ভাঙন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া প্রকল্পের নিকট ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনে ইতিমধ্যেই কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত নদীর ডানতীর সংরক্ষণ প্রকল্প হুমকির মুখে পড়েছে।
এবিষয়ে ভান্ডারবাড়ী গ্রামের আব্দুর রশিদ ও আব্দুল জলিল বলেন, বর্তমানে যমুনা নদীর পানি কমার সাথে সাথে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এবিষয়ে ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, সবাইকে ম্যানেজ করেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে প্রশাসনের কোন অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এছাড়া বালু উত্তোলনে তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে কোন ক্ষতি হবে না বলে দাবি করেন তিনি। অন্য একটি স্পটে একই কায়দায় বালু তুলে জমজমাট ভাবে ব্যবসা করছেন বিএনপি নেতা মাহমুদুল। দু’জন শুধু বালুই উত্তোলন করেন না, পাউবোর বাঁধের উপর দিয়ে ভারী ট্রাকে তুলে তা’ বহণ করেন। জরুরী কাজের সময় ঠিকাদারদের জিও ব্যাগে মোবাইল ফোনের নির্দেশ পেয়ে তাতে বালু ভরেন ও তা’ পানিতে ফেলেন তারা, পাউবোসহ ঠিকাদার, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন কর্তাদের বিনা ভাড়ায় তাৎক্ষণিকভাবে নৌকার ব্যবস্থাও এরা করে থাকেন। তাই যখন যেখানে খুশি এরা বালু তুলে নদী ভাঙন রোধে নির্মিত শত শত হাজার কোটি টাকার স্থায়ী স্থাপনা ধসিয়ে দিলেও তারা থাকতে পারেন নিরাপদ ! এই অভিযোগ এলাকাবাসীর।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ