Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ০৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

এবার ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে ফেনসিডিল পাচার

করোনাকালেও নানা কায়দায় আসছে মাদক

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৬ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০৪ এএম

করোনা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে নিত্যনতুন কৌশলে আনা হচ্ছে মাদক। এমন পরিস্থিতিতে রীতিমতো উদ্বিগ্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একের পর এক অভিযান চালিয়েও থামানো যাচ্ছে না মাদক চোরাচালান। সর্বশেষ লাশবাহী ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স মাদক। গাড়িটিতে কাফনের কাপড়ে মোড়ানো চারটি লাশ সদৃশ্য কিছু! সেগুলো খোলার পরই সবার চোখ যেন চড়কগাছ। লাশ সদৃশ কফিন চারটি খুলতেই পাওয়া গেল দুই হাজার বোতল ফেনিসিডিল। লাশ পরিবহনের আড়ালে অভিনব পদ্ধতিতে মাদক পাচারের সময় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতেনাতে ধরা পড়ে চারজন। গত রোববার রাতে রাজধানীর শাহবাগের গণপূর্ত স্টাফ কোয়ার্টারের সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো- মাহাবুবুল হাসান, হাসানুর রহমান সবুজ, মো. সোহেল মিয়া এমিল ও রোমন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) এ কে এম হাফিজ আক্তার দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, করোনা পরিস্থিতিতেও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতরা নিত্যনতুন কৌশল ব্যবহার করে মাদক পরিবহন করছে। আমরাও আইজিপি এবং ডিএমপির পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনা অনুযায়ী মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করছি। মাদক ব্যবসায়ীরা যতই কৌশলী হউক না কেন আমরা সমাজের সকলের সহযোগিতায় এদের আইনের আওতায় আনবো ইনশাআল্লাহ।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাদক দেশের জন্য যে কত ভয়াবহ তা আজ সকলেই অবহিত। সমাজের সকল শ্রেনী-পেশার লোক আইন-শৃংখলা বাহিনীকে সহযোগিতা করলে এদের নিয়ন্ত্রণে আনা খুব কঠিন হবে না।
ডিবির গুলশান বিভাগের এসি মাহবুবুল আলম জানান, লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে তারা মাদকের চোরাচালান করছিল। বিশেষ কৌশল হিসেবেই তারা লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে সাদা কাপড়ে মোড়ানো লাশের আদলে ফেনসিডিলের চালান আনা- নেয়া করত। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতেই তারা লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করত। আর লাশবাহী গাড়িটিকে একটি কালো রংয়ের মাইক্রোবাস যাত্রী সেজে পেছন দিয়ে অনুসরণ করছিল।
তিনি আরো বলেন, লাশবাহী গাড়িতে মাদকের চালান আসছে এমন খবরে শাহবাগের গণপূর্ত স্টাফ কোয়ার্টারের সামনে অভিযান চালানো হয়। পরে লাশবাহী ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স তল্লাশি করে সাদা কাফনের কাপড়ে মোড়ানো ফেনসিডিল ভর্তি বস্তা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত চারজন কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এসব ফেনসিডিল এনে ঢাকায় বিক্রি করতো বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে। জব্দকৃত ফেনসিডিলগুলোর বাজার মূল্য আনুমানিক ৫০ লাখ টাকার উপরে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি সময়ে করোনাভাইরাসের সময় মাদক ব্যবসায়ীরা কুরিয়ার সার্ভিসে শিশুখাদ্য, মৌসুমি ফল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও অন্যান্য দ্রব্যাদি পাঠানোর আড়ালে বিভিন্ন ধরনের মাদক পাচার করে আসছে। শাড়ি ও লুঙ্গির ব্যবসার আড়ালেও মাদক ব্যবসা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃতরা মূলত মাদক সিন্ডিকেট। এমন সিন্ডিকেটের অভাব নেই। সারাদেশে তারা সিন্ডিকেট করে সুবিধামতো মাদক পাচার করে।
তিনি আরো বলেন, সত্যিই মাদক নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। শুধু আমরা নই, পুরো রাষ্ট্র যন্ত্রই মাদকের ভয়াল থাবার কারণে মারাত্মকভাবে উদ্বিগ্ন।
গত ২০ ফেব্রæয়ারি রাজধানীর দারুসসালাম থানাধীন কল্যাণপুরের সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস থেকে অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ মাদক ও গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আটক করা হয় নারায়ণগঞ্জের গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক এসআইকে। পার্সেল থেকে একটি দেশি পিস্তল, ৪০ রাউন্ড পিস্তল ও রাইফেলের গুলি, ৫ হাজার ২৮৯ পিস ইয়াবা, ১ কেজি ৩শ গ্রাম গাঁজা, ৯ ক্যান বিয়ার ও ৪০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়।
গত ১৫ জুন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় আনা হয় আমভর্তি কার্টন। আমের আড়ালে হেরোইনের বড় চালান আসার খবর পেয়ে এলিফ্যান্ট রোডে তল্লাশি চৌকি বসায় র‌্যাব-২। সেখানে আটক করা হয় হাবিবুর রহমান (২৯) ও দিলরুবা দিপা (২৯) দম্পতিকে। উদ্ধার করা হয় আধা কেজি হেরোইন। গত ৩১ আগস্ট সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আসবাবপত্রের আড়ালে কুমিল্লা থেকে ৫১ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজা রাজশাহী পৌঁছালে র‌্যাবের হাতে সেগুলো জব্দ হয়। অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় ছয়জনকে। তার আগে গত বছরের ৯ এপ্রিল কক্সবাজার থেকে ইয়াবার বড় একটি চালান রাজশাহী আসে এসএ পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে। জয়পুরহাটের দুই ভাই সেই ইয়াবা কুরিয়ার সার্ভিস থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় নগরীর ভদ্রা বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদের আটক করে র‌্যাব। সেই বছরের ১৯ মে রাজধানীর উত্তরায় এসএ পরিবহনের অফিস থেকে এক লাখ পিস ইয়াবা জব্দসহ দুই মাদক কারবারিকে হাতেনাতে আটক করে র‌্যাব।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মাদক


আরও
আরও পড়ুন